একাদশ জাতীয় সংসদের ২১তম অধিবেশন বসছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকেল ৪টায় প্রথম দিনের বৈঠক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বছরের প্রথম (শীতকালীন) এই অধিবেশনের প্রথম দিনেই ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবারের অধিবেশন দীর্ঘ হবে। এর আগে গত ৬ নভেম্বর ২০তম অধিবেশন শেষ হয়। ওই অধিবেশন চলে মাত্র ৬ কার্যদিবস। এই অধিবেশনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল সংসদের বিবেচনার অপেক্ষায় রয়েছে। পাশাপাশি বছরের শুরুতে সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। রাষ্ট্রপতির এই ভাষণের ওপর সরকারি দলের আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর অধিবেশনজুড়ে আলোচনা করবেন সংসদ সদস্যরা।

সংসদের কর্মকর্তারা আরও জানান, বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির তৃতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি হওয়ার সুযোগ নেই। বর্তমান রাষ্ট্রপতি ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথম মেয়াদে শপথ নেন। পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২০১৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দ্বিতীয় মেয়াদে ২১তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন তিনি।

সংবিধান অনুযায়ী, আবদুল হামিদের নতুন মেয়াদে রাষ্ট্রপতি হওয়ার সুযোগ নেই। তবে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। তাই নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে একটা আলোচনা আছে। সংবিধান সংশোধন করে আবার আবদুল হামিদও তৃতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন কিনা, এ নিয়েও আলোচনা ছিল।

এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আজ বুধবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘এখন পর্যন্ত সংবিধান সংশোধনের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। নির্ধারিত সময়েই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে। তিনি দুই টার্ম থেকেছেন, সংবিধান অনুসারে তিনি আর থাকতে পারবেন না। নতুন একজন নির্বাচিত হবেন।’ তিনি বলেন, আগামী ২৩ এপ্রিল বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী মার্চের আগেই রাষ্ট্রপতি পদের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। আগামীকাল থেকে শুরু হওয়া ২১তম অধিবেশন মধ্য ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলতে পারে। সেই হিসাবে এই অধিবেশনেও নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। অন্যথায় সংসদের আগামী অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা হবে। সে হিসেবে আগামীকাল হতে যাচ্ছে রাষ্ট্রপতি হিসেবে সংসদে দেওয়া আবদুল হামিদের শেষ ভাষণ।

অধিবেশনের প্রথম দিনে যা থাকছে: বৈঠকের শুরুতে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের মনোনীত করা হবে। যারা স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে বৈঠকে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এর পর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ উত্থাপন করবেন। জ্বালানির মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা কমিশনের পাশাপাশি সরকার নিজের হাতে নিতে এই অধ্যাদেশ জারি করেছিল। এর পর শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। সবশেষে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন। এর পরই সংসদের অধিবেশন আগামীকালের মতো মুলতবি করা হবে।

সংসদের বিবেচনার অপেক্ষায় ১৭ বিল: এই অধিবেশনে বিবেচনার জন্য ১৭টি বিল অপেক্ষমাণ রয়েছে। এর মধ্যে কমিটিতে পরীক্ষাধীন রয়েছে ১১টি। পাসের অপেক্ষায় রয়েছে একটি ও উত্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছে পাঁচটি।

সংসদের আইন শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব বিলের মধ্যে রয়েছে- পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেম বিল, বৈষম্যবিরোধী বিল, গণমাধ্যমকর্মী (চাকরির শর্তাবলি) বিল, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক (ছুটি, পেনশন ও বিশেষ অধিকার) বিল, সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা বিল, জাকাত তহবিল ব্যবস্থাপনা বিল, চট্টগ্রাম শাহি জামে মসজিদ বিল, সরকারি কর্ম কমিশন বিল, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্ট বিল, উন্নয়ন বোর্ড আইনসমূহ (রহিতকরণ) বিল, শিল্প-নকশা বিল, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন বিল, ব্যাংক আমানত বীমা (সংশোধন) বিল, হাট ও বাজার (স্থাপনা ও ব্যবস্থাপনা) বিল, মুজিবনগর বিশ্ববিদ্যালয়, মেহেরপুর বিল, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল (সংশোধন) বিল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় নওগাঁ বিল।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান রয়েছে। এতে রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। তবে যে সংসদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করেছে, ওই সংসদের মেয়াদে রাষ্ট্রপতির পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হলে, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের প্রয়োজন পড়বে না এবং সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রথম বৈঠকের দিন থেকে ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এই হিসাবে বর্তমান সংসদকে নতুন একজন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতেই হবে। কারণ বর্তমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন আগের দশম সংসদের মাধ্যমে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এর পর ওই বছরের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বর্তমান একাদশ সংসদ গঠিত হয়।