বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকবে আরো তিন মাস

প্রকাশিত: ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গল, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২১

নিউজ ডেস্ক।।

দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আগামী ২৪ মে থেকে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এছাড়া ১৭ মে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব আবাসিক হল খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই সঙ্গে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক হলের তালা ভেঙে প্রবেশ করা শিক্ষার্থীদের অবিলম্বে হল ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

এর আগে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার পাশাপাশি হল খুলে দেওয়ার দাবিতে বেশ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভের পাশাপাশি তালা ভেঙে শিক্ষার্থীদের হলে প্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার পর্যন্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আটটি ছাত্র হলে এবং একটি ছাত্রী হলে শিক্ষার্থীরা তালা ভেঙে প্রবেশ করেন।

পাশাপাশি ঢাবি, রাবিসহ আরো কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে হল খুলে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব নির্দেশনা দেন শিক্ষামন্ত্রী। ১৭ মে হল খুলে দেওয়া হবে, তবে শিক্ষার্থীদের হলে উঠতে হলে করোনা ভাইরাসের টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে বিশ্বের অনেক দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। গত ১৭ মার্চ থেকে সব স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমানে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া না হলেও দেশের সব পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দীপু মনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণি-ক্লাস চালুর আগ পর্যন্ত অনলাইনে ক্লাস চলমান থাকলেও কোনো ধরনের পরীক্ষা নেওয়া যাবে না। শ্রেণি-ক্লাস খোলার পর পরীক্ষা নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার আগে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কাজ শেষ করতে হবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তড়িঘড়ি করে ভুল সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশের করোনার নিয়ন্ত্রণের যে সাফল্য, তা নষ্ট করে দেওয়া যেতে পারে না।

তালা ভেঙে প্রবেশকারীদের হল ত্যাগের নির্দেশ

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক হলের ফটকের তালা ভেঙে প্রবেশ করার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। অবিলম্বে এসব শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগ করার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, সরকারি যেসব আদেশ নির্দেশনা রয়েছে যদি কেউ অমান্য করেন, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব শৃঙ্খলাবিধি রয়েছে, আর কোথাও যদি কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটে, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে বা ভেতরে কোথাও দেশের প্রচলিত আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হলে উঠতে টিকা গ্রহণ বাধ্যতামূলক

বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে শিক্ষার্থীদের করোনা টিকা গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। টিকা ছাড়া শিক্ষার্থীরা হলে উঠতে পারবেন না বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। বর্তমানে দেশের ৪৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কার্যকর আছে। এছাড়া অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে ১০৭টি। শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানান, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মোট ২২০টি আবাসিক হল আছে। এর মধ্যে আবাসিক শিক্ষার্থী প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার আগে আমরা সব শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ শিক্ষার্থীদের করোনা টিকার আওতায় আনব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও হল খোলার দাবিতে বিক্ষোভ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল খুলে দিয়ে অতিদ্রুত পরীক্ষা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশও করেছেন তারা। গতকাল সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ১ মার্চ খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে আলটিমেটাম দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। কিন্তু এক ঘণ্টা পর উপাচার্যের নিকট স্মারকলিপি দিতে গেলে সেখান থেকে বের হয়ে আলটিমেটাম প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রতিনিধিদল। এর আগে দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হল ও অমর একুশে হলে প্রবেশ করে অবস্থান নিয়ে হল খুলে দেওয়ার দাবি করেন শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, একটি পরিপ্রেক্ষিতে একাডেমিক কাউন্সিল সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ১৩ মার্চ থেকে অনার্স ও মাস্টার্সের পরীক্ষার্থীদের হলে রেখে পরীক্ষা নেওয়ার। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আমরা আগামীকাল জরুরি ভিত্তিতে একাডেমিক কাউন্সিলের সভা ডেকেছি। সেখানে আমাদের জাতীয় সিদ্ধান্ত, শিক্ষার্থীদের ভ্যাক্সিনেশনের আওতায় আনা, তাদের হলে উঠানো এবং পরীক্ষার তারিখগুলো নিয়ে আলোচনা হবে।

শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণার পরেও জাবির ৯ হলে শিক্ষার্থীদের অবস্থান

গতকাল সোমবার পর্যন্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আটটি ছাত্র হল এবং একটি ছাত্রী হলের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণার পর বিকালে হল ফাঁকা করার জন্য প্রশাসন ৯টি হলের শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের অনুরোধ জানালেও এখনো হলে অবস্থান করছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় হল ছাড়ার নির্দেশের সময় শেষ হওয়ার পরেও শিক্ষার্থীরা হল ছাড়েননি। পরে বেলা সাড়ে ১১টায় হলে হলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট হল প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, গত পরশু হামলার ঘটনার পর হলের বাইরে আমাদের নিরাপত্তা নেই। স্থানীয় বাসা মালিকরা আমাদের বাসা ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন। এই অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন নির্দেশ আমাদের হতাশ করছে। বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে অবস্থান নেওয়া এক ছাত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ তাই আমরা আর হল ছেড়ে যাব না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোতাহার হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের হলে অবস্থানের বিষয়টি নিয়ে আমরা একটি বৈঠক করেছি। বৈঠক শেষে আমরা প্রতিটি হলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের চলে যেতে বলেছি। তারা আমাদের প্রস্তাব মানেনি। তাই পরবর্তী সময়ে আলোচনা সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১ মার্চ হলে প্রবেশের ঘোষণা রাবি শিক্ষার্থীদের

১ মার্চ হলে প্রবেশ করতে চায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পেছনে লাগাতার বিক্ষোভ কর্মসূচিতে এই ঘোষণা দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ঘোষণা শেষে আজ ২৩ ফেব্রুয়ারি হল খোলা প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে ইউজিসির বৈঠক এবং আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ’মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের’ স্টিয়ারিং কমিটির নির্বাচন উপলক্ষ্যে দুই দিনের জন্য আন্দোলন স্থগিত করেন শিক্ষার্থীরা।

বিসিএসের আবেদনের সময় বাড়বে

বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলমান বিসিএসের আবেদনের সময়সীমা বাড়ানোর প্রয়োজন হলে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিসিএস পরীক্ষা ও আবেদনের সময় নির্ধারণ করা হবে। এজন্য পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সঙ্গে আলোচনা করে সব বিসিএসের আবেদন ও পরীক্ষার সময় বাড়ানো হতে পারে।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.