বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সাথে সাথে প্রথম বর্ষের পরীক্ষা কতটা যৌক্তিক?

প্রকাশিত: ৭:২৫ অপরাহ্ণ, শুক্র, ২৮ মে ২১

।। শাহরিয়ার বাধন।।

যত সহজ ভাবে ব্যাপারটা নিতে চেষ্টা করছি, অনেকভাবে চেষ্টা করছি এইটা লেখবার সময় ও চেষ্টা করছি কিন্তু পারছিনা!

প্রথমতঃ আমরা সকলেই কিন্তু পরিবেশের থেকে অনেক কিছু শিখি, দেখে অনেক কিছু শিখি, শিখেও শেখাটার বেস্ট যেটা হয় সেটা ট্রাই করি।
এতোক্ষণ কি নিয়ে যে আসলে কথা বলছি বা কি ভেবেই আমি এসব বলছি আপনারা হয়ত অনেকেই বুঝেন নাই।
ব্যাপারটা আমি প্রথম বর্ষের ছাত্র সেই ২০১৮ সাল থেকে

এক্সপ্লেইন- ২০১৮ সালে কোথাও চান্স পাইনি সেকেন্ড টাইমার হিসেবে ২০১৯ সালের শেষে চান্স পেয়েছি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে।

স্বাভাবিকভাবেই প্রথম বর্ষের ফ্রেসার হিসেবে অনেক কিছুই শেখবার থাকে, বিশেষ করে আমার মতো যারা আছে যাদের নতুন পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে সময় লাগে, তারপরে একটা অবস্থানে গেলে সবকিছুই স্বাভাবিক হয়ে যাই।
সবকিছু ঠিকঠাক শুরু ও হলো এর মাঝে করোনার ভয়াল থাবা
৬ দিনের সুন্দর ক্যাম্পাস লাইফ আমার তারপরে এসে বসলাম বাসায় আজ প্রাই ১৫ মাস বাসাতেই যাইহোক অফ টপিকে ঢুকে যাচ্ছি।

টপিক১ঃ যেটা বলছিলাম আমার সময় লাগে কোন নতুন কিছু শিখতে, বুঝতে, পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে
প্রথমত প্রথম বছরে কিভাবে পরীক্ষা হয় কোন মোডিউলে হয় কিভাবে সিনিয়র রা দিয়েছে তাদের ভেতরে ভয় কাজ করেছে কিনা প্রথম বছরে সব কিছুই জেনে তারপর ব্যাপারটাতে নিজেকে ইজি করে নেবো এমনটাই ভেবে ছিলাম কিন্তু আমি সত্যি বলতে কিছুই বুঝে উঠতে পারিনি কিছু মানে কিছুইনা! এমনটা হয়ত সবার ক্ষেত্রে না আমার সব কিছু বুঝে উঠতে একটু বেশি সময় লাগে এটা আমি নিজেও জানি। তাছাড়া এটাও জানি আমি যখন বুঝে যাই তখন সেটা সবাই থেকে ভালো ভাবেই বুঝি।

টপিক২ঃ আমি সেই হাইস্কুল লেভেলে বুদ্ধি হবার পর থেকে ভালো সার্কেল মাইন্টেন করতে পারি এটা যদিও আমার নিজের কথা না অনেক সিনিয়ররাই বলে, তাছাড়া আমার বন্ধু মহল সত্যিই অনেক বড় যেখানে যেই সুত্রেই থাকবার উদ্দেশ্যে গেছি বা আমার এইজ এর যাদের সাথে আজ অবধি পরিচয় হয়েছে কোননা কোনভাবে আমার বন্ধু বনে গেছে বা আমি তাদের ভালো বন্ধু হয়ে গেছি। কিন্তু অবাক করা ব্যাপার আমার ক্যাম্পাসে সেরম সার্কেল গড়েই ওঠেনি এটা আমার কথা অনেকের অনেক বড় বন্ধুমহল গড়ে উঠেছে কেও তো গ্যাং দল বানায়ে ফেলেছে।
এখানে প্রশ্ন থাকতে পারে আমি হয়ত ফ্রেন্ডলি না তাই সার্কেল হয়নি? আসলে ব্যাপার টা মোটেও এমন না ব্যাপারটা ৬ দিনের ক্যাম্পাস লাইফে কজনের সাথেই পরিচয় হওয়া সম্ভব আর আমি এই সোসাল মিডিয়াতে ভারচুয়াল ফ্রেন্ডশিপে বিশ্বাসী ছিলাম না একদমই ভেবেছিলাম এইতো ক্যাম্পাস খুলে দিবে সবার সাথে মিশবো বন্ধু হবে সকলে আমার সম্পর্কে জানবে আমি সকলের সম্পর্কে জানব তবেই না বন্ধুত্ব হবে। ব্যাপার টা একদিক থেকে সঠিক হলেও আসলে ব্যাপারটা ভুল কেননা দেড়টা বছর ক্যাম্পাসই খোলেনাই যারা ফ্রেন্ড বানানোর সবাই সোসাল মিডিয়াতেই বানায়ে ফেলেছে আর আমার যেইটুকু কজন ছিলো তাদের সাথেও যোগাযোগ না রেখে দুরত্ব তৈরী হয়েছে অনেকটা। এটা আসলে একটা চরম ব্যাড ইফেক্ট ফেলবে ক্যাম্পাস লাইফের সাপোর্ট পাবার ক্ষেত্রে।

টপিক ৩ঃ এখন আসা যাক আসল কথায় টপিক ১ তে যেমন বলেছি শিখে তারপর না সেটা করব
আমি জানিনা কেম্নে পরীক্ষা দেই ইউনিভার্সিটিতে আমি তো দেইনাই সেজন্য জানিনা, আমি জানিনা কিভাবে মোডিউল ওয়াইজ সবাই পড়া শেষ করে যদিও সিলেবাস আছে কিন্তু হাতে ধরে বোঝা আর নিয়ম পড়ে বোঝার ব্যাপারটা টোটালি আলাদা
যাইহোক আক্ষরিক অর্থে আমি এখনো ইউনিভার্সিটির ব্যাপারে ভারচুয়ালি ছাড়া কিছুই রিয়েলি শিখে উঠতে পারিনি
এর মধ্যে এতোদিন পর নোটিশ এসেছে পরীক্ষা হবে অনলাইনে এসাইনমেন্ট -১০
বই সহ পরীক্ষা-১০
ভাইভা-৩০ আর অনলাইন ক্লাসে উপস্থিত থাকার হিসাব করে ক্লাস পরীক্ষার হিসাব করে ২০ নম্বর
বিঃ দ্রঃ পরীক্ষা দেবার জন্য প্রস্তুতি নিতে সময় মাত্র ২১ দিন

এখন আমার কথা আমি তো ক্যাম্পাসের ভেতরের ব্যাপার স্যাপারই এখনো বুঝলাম না ঠিক করে এই সময় হঠাত পরীক্ষা কিভাবে দিবো আর দিলেও পাস করে বেরাব কিভাবে? যারা সিনিয়র আছেন তারা ১ বছর হলেও ক্যাম্পাসে ছিলেন হলে গিয়ে পরীক্ষা দিয়েছেন সিস্টেম সব জানেন সব কিছু অনেক সহজ তিনাদের কাছে কিন্তু আমরা? আমরা কি আদোও কিছু জানি?
আমাদের কথা না বলি আমি সত্যি জানিনা।

এখন আপনারা বলতে পারেন আমি কিছু পড়িনাই তাই আমার সমস্যা। আচ্ছা আপনি আপনার বুকে হাত দিয়ে বলেনতো আপনি এই দেড় বছরে কতটা পড়েছেন একটা স্টুডেন্ট পড়াশোনার ভেতরে থাকলে যতটা পড়ে ততটাও কি পড়েছেন তাওতো ছিলো টোটাল ছুটি তো কতটা পড়েছেন? আচ্ছা মানলাম আপনি পড়েছেন এই পড়া কি কাজে আসবার মতো পড়া?
আমি আমার কথা বললে আমি পড়িনাই অহেতুক সময় নষ্ট হচ্ছে প্রতিদিন, বাসায় বসে থেকে নিজেকেই এখন অতেল, অকেজো মনে হওয়া শুরু হয়েছে আর এর মধ্যে যদি হঠাত পরীক্ষা দিতে বলা হয় তাহলে কি লিখব?
আজ দেড় বছর পরে খাতায় লেখলাম ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ লেখলাম এজন্য যে লেখা মনে আছে কিনা এইটা পরীক্ষা করবার জন্য।

টপিক ৪ঃ আমি হলোপ করে বলতে পারি আমার মতো অবস্থায় ৯০% পাবলিকের ছাত্র ছাত্রীদের অবস্থা আমাদের আগে স্ব-শরীরে নিয়ে জান ক্যাম্পাসে তারপর পরীক্ষা এইতা ওইতা যা ইচ্ছা কইরেন আর যদি অনলাইনেই পরীক্ষা নিতে চান তাহলে অন্তত পক্ষে ৩ মাস সয়ম দিন কেননা আর যাই হোক পরীক্ষার কথা আমাদের মাথায় ঢুকে গেলে পরীক্ষার ডেইট পড়ে গেলে আমরা সিরিয়াস হয়ে যাই, আমি সিরিয়াস হয়ে যাই তখন নাওয়া খাওয়া বাদ দিয়ে পড়ি। যদি অনলাইনেই হয় তাহলে ৩ সপ্তাহ না ৩ মাস অন্তত সময় দিন কেননা ৩ সপ্তাহ এত্তো নগন্য সময় যে আমার উদ্ভিদ বিজ্ঞানের সব কোর্সের রিডিং ও পড়ি তবু্ও শেষ হবেনা, আর আমার অবস্থা এমন যে আমি আমার সব কোর্সের নাম অবধি জানিনা তাই বলছি অনুগ্রহ করে সময় বাড়িয়ে দিন আমার না হোক সকলের অবস্থার কথা বিবেচনা করে। সময় অনেক নষ্ট হয়েছে জানি করোনার কারনে আর আমরা এম্নেই পিছায়ে গেছি তবে আর ৩ মাস লেট করলেও আমাদের সমস্যা হবেনা আশা করি কিছু না বুঝে না শিখে উপরের ধাপে যাবার থেকে বুঝে শুনে একটু দেরি করে যাওয়া অনেক ভালো।
আমরা আর বিভ্রান্তিতে পড়তে চাইনা
আমাদের অনুগ্রহ করুন।
আমাকে অনুগ্রহ করুন।

লেখক – উদ্ভিদ বিজ্ঞান ৪৯ ব্যাচের শিক্ষার্থীবৃন্দ।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.