বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছুরা রাত কাটান মসজিদ-বাসস্ট্যান্ডে

প্রকাশিত: ৮:৩৭ অপরাহ্ণ, সোম, ৪ অক্টোবর ২১

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

ছেলের ভর্তি পরীক্ষার জন্য কুমিল্লা থেকে এসেছেন আসমা আক্তার। রাত তিনটার দিকে রাজশাহী বাসস্ট্যান্ডে এসে পৌঁছান তারা।
শহরে পরিচিত কেউ না থাকায় সকাল পর্যন্ত সেখানেই মা-ছেলে অপেক্ষা করেন। কষ্ট যতই হোক না কেন, ছেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে—এমন স্বপ্ন এই মায়ের।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে সোমবার (৪ অক্টোবর)। প্রথম দিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তিন শিফটে ৪৪ হাজার ১৯৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, পরীক্ষা উপলক্ষে রোববার সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে ভর্তিচ্ছু ও তাদের অভিভাবকরা আসতে শুরু করেন। অনেকেই পরিচিতদের বাসায় উঠেছেন। আর যারা মেস কিংবা হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করতে পারেননি তারা বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশনে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর ও আশেপাশের মসজিদগুলোতে কোনোমতে রাতটা পার করেছেন।
সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কথা হয় গোপালগঞ্জ থেকে আসা অভিভাবক সাইফুজ্জামানের সঙ্গে। মেয়েকে পরীক্ষার হলে ঢুকিয়ে বাইরে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। বাংলানিউজকে এই অভিভাবক বলেন, রাজশাহীতে পরিচিত কেউ নেই। ভেবেছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছালে একটা ব্যবস্থা হয়েই যাবে। কিন্তু রাজশাহী পৌঁছাতে অনেক রাত হয়ে যায়। তাই বাসস্ট্যান্ডেই ছিলাম। সেখানে আমার মতো আরও কয়েকজন ছিল। তবে যত কষ্টই হোক না কেন, মেয়েকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াব, এটাই স্বপ্ন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর বলছে, এ বছর তিনটি ইউনিটে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৪৬ জন। এদের অনেকের সঙ্গেই আছেন অভিভাবক। সব মিলিয়ে অন্তত দুই লাখ মানুষের সমাগম হয়েছে রাজশাহীতে। করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় আবাসিক হল খোলা সম্ভব হচ্ছে না। রাজশাহীতে মেস ও হোটেল মিলিয়ে মোটামুটি ৭০ শতাংশ ভর্তিচ্ছু ও অভিভাবকদের থাকা সম্ভব। বাকিদের আত্মীয়-স্বজন কিংবা অন্য কোনোভাবে থাকতে হবে।
পর্যাপ্ত হোটেল ও মেসে সিট না থাকা এবং আবাসিক হলগুলো বন্ধ থাকায় এ বছর ভর্তিচ্ছু ও অভিভাবকদের আবাসন সংকট চরমে। রাজশাহীতে যেসব হোটেল আছে সেগুলো অনেক আগেই বুকিং হয়ে গেছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি ছাত্রী হলের কমন রুম, রিডিং রুম, টিভি রুমগুলোতে ভর্তিচ্ছু ছাত্রীদের থাকার ব্যবস্থা করে প্রশাসন। এতে অন্তত তিন হাজার ছাত্রীর থাকার ব্যবস্থা হয়। তবে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তাই যারা এই সময়ের মধ্যে উপস্থিত হতে পারেননি সেই ছাত্রীদেরও বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে শুয়ে-বসে রাত কাটাতে হয়েছে।
সোমবার ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে কথা হয় দিনাজপুরে থেকে আসা ভর্তিচ্ছু সেলিম ও তার বন্ধু আরমানের সঙ্গে। রোববার রাতে রাজশাহীতে পৌঁছান তারা। রাতে থাকার কোনো জায়গা না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের মহাসড়কের ফুটপাতে পেপার বিছিয়ে বসে থেকে রাত পার করেছেন তারা। সেলিম জানান, তার মতো অন্তত ২০ জন ফুটপাতে বসেই রাত কাটিয়েছেন।
রাজশাহী মেস মালিক সমিতির সভাপতি এনায়তুর রহমান বলেন, হল বন্ধ থাকায় হলের শিক্ষার্থীরাও এখন মেসে থাকছে। তাই সিট সংকট দেখা দিয়েছে। ভর্তিচ্ছুদের কষ্টের কথা ভেবে এ বছর মেসগুলোতে তাদের থাকার জন্য কোনো টাকা নেওয়া হচ্ছে না।
সোমবার পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভর্তি পরীক্ষার সময় আবাসন সমস্যা হয়ে থাকে। ভর্তিচ্ছু ছাত্রীদের কথা ভেবে ছাত্রী হলগুলাতে তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর মেসগুলোতে ফ্রি থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি শিফটে ‘এ’ ইউনিট পরীক্ষা এবং বুধবার ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.