বিদায়ী সালে যেসব তারকাদের হারালাম

অনলাইন ডেস্ক।।
বিদায়ী এ বছরে করোনাসহ নানা রোগে ভুগে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি না ফেরার দেশে চলে গেছেন বিনোদন জগতের দেড় ডজন তারকা। ইতোপূর্বে যা ঘটেনি। চলুন জেনে নিই তাদের সম্পর্কেঃ
অভিনেতা মজিবুর রহমান দিলুঃ
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অভিনেতা মজিবুর রহমান দিলু মারা যান গত ১৯ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে। তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। ভর্তি ছিলেন রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে। সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিটিভিতে প্রচারিত শহীদ বুদ্ধিজীবী শহীদুল্লাহ কায়সারের ‘সংশপ্তক’ নাটকে ‘বড় মালু’ চরিত্রে অভিনয় করে আলোচিত হয়েছিলেন মুজিবুর রহমান দিলু।
পরিচালক মনোয়ার খোকনঃ
খ্যাতিমান এই চলচ্চিত্র নির্মাতা মারা যান গত ৭ ফেব্রুয়ারি। এদিন সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনির জটিলতাসহ নানা রোগে ভুগছিলেন। নব্বইয়ের দশকে ‘স্বামী কেন আসামি’ সিনেমাটি বানিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। এরপর আরও বেশ কয়েকটি ব্যবসাসফল সিনেমা নির্মাণ করেন।
এটিএম শামসুজ্জামানঃ
কিংবদন্তি এই প্রবীণ ও গুণী অভিনেতা মারা যান গত ২০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টার দিকে। রাজধানীর সূত্রাপুরে নিজ বাসাতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। এটিএম শামসুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে ভুগছিলেন। মৃত্যুর আগে দুই দফায় পুরান ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে চিকিৎসা করান তিনি। কিন্তু সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরার কয়েকদিন পরই মারা যান।
কণ্ঠশিল্পী জানে আলমঃ
প্রায় চার হাজার গানের শিল্পী জানে আলম মারা যান গত ২ মার্চ। মৃত্যুর আগে তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। পরে নেগেটিভও হন। কিন্তু করোনা জয়ের পর তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন। ভর্তি হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল হাসপাতালে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নেওয়া হয় লাইফ সাপোর্টে। ২ মার্চ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শাহীন আলমঃ
প্রায় দেড়শ ছবিতে অভিনয় করা এই চিত্রনায়ক মারা যান গত ৮ মার্চ রাত ১০টার দিকে। এর এক সপ্তাহ আগে থেকে তিনি পুরান ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। গত ৬ মার্চ তাকে নেওয়া হয় লাইফ সাপোর্টে। দুদিনের মাথায় শাহীন আলমকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। দীর্ঘদিন ধরে কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন এই নায়ক।
প্রযোজক কামরুল হাসানঃ
‘দেবদাস’ ছবির এই প্রযোজক মারা যান গত ১৮ মার্চ। ৭১ বছর বয়সী কামরুল হাসানও বার্ধক্যজনিত অসুখে না ফেরার দেশে পাড়ি দেন। ভর্তি ছিলেন রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে। সেখানে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। ১৮ মার্চ রাতে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রযোজনার পাশাপাশি কামরুল হাসান বিভিন্ন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজক ও উদ্যোক্তা ছিলেন।
নমিতা ঘোষঃ
একাত্তরের কণ্ঠযোদ্ধা নমিতা ঘোষ মারা যান গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের দিনে। তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ভর্তি ছিলেন রাজধানীর পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ছাড়েন। পরদিন রাজধানীর পোগোজ স্কুল প্রাঙ্গণে স্বাধীনতা যুদ্ধের এই কণ্ঠযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। মৃত্যুকালে নমিতা ঘোষের বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর।
ইন্দ্রমোহন রাজবংশীঃ
এই গায়কও স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন কণ্ঠযোদ্ধা ছিলেন। তিনিও মারা যান প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে। ভর্তি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে। সেখানেই গত ৭ এপ্রিল শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ইন্দ্রমোহন রাজবংশী। একুশে পদকপ্রাপ্ত লোকগানের এই শিল্পী ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালী, জারি, সারি, মুর্শিদি গেয়েও মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন গ্রাম-বাংলায়। গেয়েছেন রবীন্দ্রসংগীতও।
কণ্ঠশিল্পী মিতা হকঃ
একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী মিতা হক না ফেরার দেশে চলে যান গত ১১ এপ্রিল ৬টা ২০ মিনিটে। তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। পাশাপাশি বহুদিন ধরে কিডনি রোগে ভুগছিলেন। মিতা হক প্রয়াত অভিনেতা খালেদ খানের স্ত্রী ছিলেন।
সুরকার ফরিদ আহমেদঃ
‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানের টাইটেল সং ‘কেউ কেউ অবিরাম চুপি’র সুরকার ও সংগীত পরিচালক ফরিদ আহমেদ মারা যান গত ১৩ এপ্রিল সকাল ৯টায়। ২০ দিন করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। মৃত্যুর দুদিন আগে থেকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন ফরিদ আহমেদ। তার ফুসফুসের ৬০ ভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এছাড়া তার ডায়াবেটিসও ছিল।
পরিচালক সাজেদুল আওয়ালঃ
‘ছিটকিনি’খ্যাত নির্মাতা, চলচ্চিত্রবিষয়ক লেখক, গবেষক ও শিক্ষক সাজেদুল আওয়াল মারা যান গত ১৫ এপ্রিল। করোনা পরবর্তী জটিলতায় নিজ বাসায় তার মৃত্যু হয়। মারা যাওয়ার সপ্তাহ দুয়েক আগে সাজেদুল আওয়াল করোনায় আক্রান্ত হন। চিকিৎসার পর নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়ে বাসায়ও ফেরেন। পরে করোনা পরবর্তী জটিলতায় প্রাণ হারান নির্মাতা।
কবরী সারোয়ারঃ
‘সারেং বউ’ খ্যাত কিংবদন্তি এই অভিনেত্রী মারা যান গত ১৭ এপ্রিল রাত ১১টা ২০ মিনিটে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে তিনি ১৩ দিন ভতি ছিলেন হাসপাতালে। ৭ এপ্রিল কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে এবং ৮ এপ্রিল থেকে শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে। সেখানে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। ৭০ বছর বয়সে ওই অবস্থাতেই না ফেরার দেশে চলে যান কবরী।
এসএম মহসিনঃ
কবরীর মৃত্যুর পরদিনই মারা যান জনপ্রিয় টিভি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র নিয়মিত শিল্পী এসএম মহসিন।রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে তিনি এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। মৃত্যুর আগে তিনি ওয়াজেদ আলীর পরিচালনায় ‘অন্তরাত্মা’ নামে একটি সিনেমার শুটিং শেষ করেন।
চিত্রনায়ক ওয়াসিমঃ
অভিনেতা মহসিনের মৃত্যুর দিনেই মারা যান সত্তর ও আশির দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ওয়াসিম। তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে ভুগছিলেন। ভর্তি হয়েছিলেন ঢাকার শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে হার্ট অ্যাটাক হয়ে গত ১৮ এপ্রিল তিনি মারা যান। মৃত্যুর বহুদিন আগে থেকে তিনি হাটতে পারতেন না। দিন কাটাতেন বিছানায় শুয়ে শুয়ে।
গীতিকার ওসমান শওকতঃ
অসংখ্য জনপ্রিয় গানের গীতিকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ওসমান শওকত মারা যান গত ২৬ এপ্রিল। এদিন সন্ধ্যায় রাজধানীর বনশ্রীতে নিজ বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘গার্ড অব অনার’ দিয়ে রাজধানীর জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়।
ফকির আলমগীরঃ
তুমুল জনপ্রিয় এই গণসংগীতশিল্পী মারা যান গত ২৩ জুলাই। তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ভর্তি ছিলেন রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের কোভিড ইউনিটে। সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। করোনা ইউনিটে ভেন্টিলেশনে থাকা অবস্থায় ২৩ জুলাই ফকির আলমগীরের হার্ট অ্যাটাক হয়। ওই দিন রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে তিনি চলে যান না ফেরার দেশে।
ড. ইনামুল হকঃ
একুশে পদকপ্রাপ্ত এই অভিনেতা না ফেরার দেশে চলে গেছেন গত ১১ অক্টোবর। এদিন বিকাল তিনটার দিকে কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এর আগে ড. ইনামুল হক কয়েকদিন ধরে ভীষণ অসুস্থ ছিলেন। ১১ অক্টোবর দুপুরে অবস্থা গুরুতর হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু ফেরেননি। চলে যান আপান ঠিকানায়।
শামীম ভিস্তিঃ
এই অভিনেতার মৃত্যু হয় গত ২২ অক্টোবর। এদিন ভোর চারটার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসাপাতালে মারা যান শামীম ভিস্তি। শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে তিনি ওই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। বারবার বমি হচ্ছিল তার। সেই ধকলেই চলে যান না ফেরার দেশে। মৃত্যুকালে শামীমের বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর।
অভিনেতা মাহমুদ সাজ্জাদঃ
করোনা পরবর্তী জটিলতায় প্রখ্যাত এই অভিনেতার মৃত্যু হয় গত ২৪ অক্টোবর। রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এদিন বিকাল সাড়ে তিনটায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। করোনা পরবর্তী জটিলতা নিয়ে গত ১ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হন মাহমুদ সাজ্জাদ। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চলে যান সেখান থেকেই।