‘বিখ্যাত লেখককে লেখা ও সম্পাদনায় যুক্ত করেও ভুল হচ্ছে’

এনসিটিবির চেয়ারম্যান

শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃ পাঠ্যবইয়ে একের পর এক ভুল বের হচ্ছে। ভুল ও অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্য দিয়ে পাঠ্যবই ছাপানোয় উদ্বিগ্ন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পুস্তক প্রণয়নে অযত্ন ছিল। বই লেখা ও সম্পাদনায় অসতর্ক ছিলেন লেখক-সম্পাদকরা। আর জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তদারকির অভাব ছিল। ফলে বইয়ের লেখক, সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এর দায় এড়াতে পারেন না। যদিও এনসিটিবির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বইয়ের ভুল থাকার মূল দায় লেখক ও সম্পাদকের। যাদের বইয়ে বড় ধরনের ভুল পাওয়া গেছে, আগামীতে তাদের আর এনসিটিবির লেখকের তালিকায় রাখা হবে না। প্রয়োজনে তাদের কাছে এসব ভুলের জন্য কৈফিয়তও তলব করা হবে।

জানা গেছে, চলতি বছর প্রকাশিত নবম ও দশম শ্রেণির ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা’ বইয়ের ১৮১ নম্বর পৃষ্ঠায় একটি বড় ভুল ধরা পড়েছে। এখানে বলা হচ্ছে, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জুড়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নির্যাতন, গণহত্যা ও ধ্বংসলীলায় মেতে ওঠে। অথচ এখানে হবে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে। ঐ বইয়ের ২০০ নম্বর পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে— ১২ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মাদ সায়েমের কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। অথচ বঙ্গবন্ধুকে শপথ পড়ান তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী। এছাড়া বইটির ২০২ নম্বর পৃষ্ঠায় সংবিধান প্রণয়ন ও পটভূমিতেও অনেক তথ্য বাদ দেওয়া হয়েছে।

নবম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ে ১৬ নম্বর পৃষ্ঠায় -ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ ‘ক্যাম্প’ ও পিলখানা ইপিআর ‘ক্যাম্প’ ছাপা হয়েছে। অথচ এখানে হবে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইনস ও পিলখানা ইপিআর সদর দপ্তর। একই বইয়ের ৬ নম্বর পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে ৫৪ সালের নির্বাচনে চারটি দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। কিন্তু প্রকৃত তথ্য হলো ৫৪ সালের নির্বাচনে পাঁচটি দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। একই বইয়ের ২৮ নম্বর পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ এ সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্য। কিন্তু প্রকৃত তথ্য হলো, সাধারণ মানুষের মৌলিক মানবাধিকার অধিকার সংরক্ষণ এ সংবিধানের মূল বৈশিষ্ট্য।

নবম শ্রেণির ‘পৌরনীতি ও নাগরিকতা’ বইয়ের ৫৭ নম্বর পৃষ্ঠায় রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কাজ অংশের ১ নম্বর অনুচ্ছেদেও প্রকৃত তথ্য বাদ দেওয়া হয়েছে। একই বইয়ের ৫৯ পৃষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কাজের বিষয়েও অসঙ্গতি তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান ‘অনুসন্ধানী পাঠ’ বইয়ের একটি অংশে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এডুকেশনাল সাইট থেকে নিয়ে হুবহু অনুবাদ করে ব্যবহার করা হয়েছে। এই অভিযোগ সত্য বলে স্বীকার করে নিয়েছেন বইটির রচনা ও সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত থাকা অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও অধ্যাপক হাসিনা খান। গতকাল এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এর দায়ও স্বীকার করেছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, এই বইয়ের কোনো কোনো অধ্যায়ের অংশবিশেষ ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এডুকেশনাল সাইট থেকে নিয়ে হুবহু অনুবাদ করে ব্যবহার করা হয়েছে। বইয়ের এই নির্দিষ্ট অংশটুকু এবং ওয়েবসাইটটির একই লেখাটুকু তুলনা করে অভিযোগটি আমাদের কাছে সত্য বলেই প্রতীয়মান হয়েছে। তবে এই লেখাটি এই দুই জন লেখেননি বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেন। তাদের টিমের অন্য কেউ লিখেছেন বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।

শিক্ষকরা বলছেন, মধ্য জানুয়ারি চলছে। অনেক বই এখনো শিক্ষার্থী, শিক্ষকরা পাননি। সময় যত গড়াবে বইয়ে অনেক ভুল আরো বের হবে। এসব ভুলের দায় নিয়ে শুধু সংশোধনী দিলেই চলবে না, সংশ্লিষ্ট লেখককে কালো তালিকাভুক্ত করে আজীবনের জন্য এনসিটিবিতে অবাঞ্ছিত করা উচিত।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফরহাদুল ইসলাম বলেন, বইয়ের ভুলের জন্য লেখক, সম্পাদক ও এনসিটিবিও দায় এড়াতে পারে না। আমরা অনেক বিখ্যাত লেখককে বই লেখা ও সম্পাদনায় যুক্ত করেছি। তারপরও ভুল হচ্ছে। এনসিটিবির চেয়ারম্যান হিসেবে আমি এসব বইয়ের ভুল সংশোধনী দিয়ে দিব। একটি সংশোধনী ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে। যারা ভুল ধরিয়ে দেবে, তাদের সম্মান দেখানো হবে। আশা করি, সবাই এনসিটিবিতে এসব ভুলের তথ্য জানাবেন।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/১৮/২৩   

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়