বাড়ির আঙিনায় পুষ্টিবাগান

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

পুষ্টির চাহিদা মেটাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাড়ির আঙিনায় হচ্ছে পুষ্টিবাগান, মিটছে চাহিদা, হচ্ছে বাড়তি আয়। দিন দিন বাড়ছে পারিবারিক পুষ্টিবাগানের সংখ্যা। চলতি মৌসুমে গত বছরের তুলনায় নতুন করে ১ হাজার ৬৬০টি বাগান সৃষ্টি হয়েছে। বাড়ির আঙিনায় দেড় শতক জায়গা রয়েছে এমন প্রান্তিক কৃষককে প্রকল্পের আওতায় এনে এ বাগান স্থাপন করা হয়। পুষ্টিবাগানে হরেক রকমের গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন সবজি চাষ করা হয়। যা দিয়ে একটি পরিবারের এক বছরের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি আয়ও হচ্ছে। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙিনায় প্রথম পারিবারিক পুষ্টিবাগান স্থাপন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। এ সময় জেলায় ৩ হাজার ৪০টি পুষ্টিবাগান স্থাপিত হলেও ২০২১-২২ অর্থবছরে নতুন আরও ১ হাজার ৬৬০টি বাগান স্থাপিত হয়েছে। বাগান স্থাপনে পর্যাপ্ত সহায়তার পাশাপাশি জেলায় ১০ সহস্রাধিক বাগান স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষকরা জানিয়েছেন, এসব বাগানে মৌসুমভেদে উৎপাদন হচ্ছে বিভিন্ন রকমের সবজি। গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে রয়েছে- ঢেঁড়স, বেগুন, লাউ, লাল শাক, পুঁই শাক, কলমি শাক, পালং শাক, ডাঁটা শাক। শীতকালীন সবজির মধ্যে রয়েছে- ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, গাজর, মিষ্টিকুমড়া।

কৃষক আবদুস ছালেক বলেন, ‘পুষ্টিবাগান করতে বাঁশ, বেত, বেড়া, সার ও বীজ দিয়ে কৃষি বিভাগ আমাদের সহায়তা করছে। বাড়ির পাশে খালি জায়গায় বিভিন্ন ধরনের সবজির চারা লাগিয়ে চাষ করছি। এতে সারা বছরের সবজির চাহিদা মিটছে।’ কৃষক রহিমা বেগম বলেন, ‘আমার পরিবারের সদস্য পাঁচজন। সবাই মিলে বাড়ির আঙিনায় লাউ, ঢেঁড়স, টমেটো, ঝিঙা, মিষ্টিকুমড়া চাষ করেছি। এতে আমাদের পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মিটছে।’ বিজয়নগর উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. হাদিউল ইসলাম বলেন, ‘ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক যাদের দেড় শতক পতিত জমি রয়েছে তাদেরই এ প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে বাগানগুলো পরিদর্শন করে কৃষি বিভাগ থেকে সহায়তা দিয়ে থাকি।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক সুশান্ত সাহা বলেন, ‘বাগান স্থাপনে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। সারা বছর যাতে একজন কৃষক সবজি উৎপাদন করতে পারেন সেজন্য সার, বীজ, বেড়াসহ সার্বিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। দু-এক বছরের মধ্যে এ জেলায় ১০ হাজার বাগান স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।’