বাবা-মার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য

 মো. আমিনুল ইসলাম।।

প্রতিটি মানুষ তার বাবা-মার মাধ্যমেই দুনিয়ায় জন্মলাভ করেছে। অতএব তাঁদের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য সর্বাধিক। তাঁদের মতো আপনজন পৃথিবীতে আমাদের আর নেই। আল কোরআনে আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন, ‘আর তোমার প্রতিপালক আদেশ করেছেন তোমরা তাকে ছাড়া অন্য কারও উপাসনা কোর না এবং তোমরা তোমাদের বাবা-মার প্রতি সদাচরণ কর।

তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি বার্ধক্যে উপনীত হয় তাহলে তুমি তাদের প্রতি উঃ শব্দটিও উচ্চারণ কোর না এবং তাদের ধমক দিও না। তুমি তাদের সঙ্গে নম্রভাবে কথা বল। তাদের সঙ্গে ভালোবাসার সঙ্গে নম্রভাবে মাথা নত করে দাও এবং বল হে প্রভু! তাদের উভয়ের প্রতি রহম কর যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালনপালন করেছে।’ সুরা বনি ইসরাইল আয়াত ২৩-২৪।

এ আয়াতগুলোয় আল্লাহতায়ালা তাঁকে ইবাদত করার পাশাপাশি বাবা-মার সেবাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। অর্থাৎ আল্লাহর ইবাদত যেমন বান্দার ওপর অপরিহার্য তেমনি বাবা-মার সেবা করাও সন্তানের ওপর অপরিহার্য। সুরা লোকমানের ১৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ আরও বলেন, ‘আর আমরা মানুষকে তার বাবা-মার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছে এবং তার দুধ ছাড়ানো হয় দুই বছরে। অতএব তুমি আমার প্রতি ও তোমার বাবা-মার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। মনে রেখ তোমার প্রত্যাবর্তনস্থল আমার কাছেই।’
এখানে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতার পাশাপাশি বাবা-মার প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়ার কথাও সমভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। সুরা লোকমানের ১৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ আরও বলেন, ‘আর যদি বাবা-মা তোমাকে চাপ দেয় আমার সঙ্গে কাউকে শরিক করার জন্য, যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তাহলে তুমি তাদের কথা মানবে না।

তবে পার্থিব জীবনে তাদের সঙ্গে সদ্ভাব রেখে চলবে।’ অর্থাৎ বাবা-মার শরিয়তবিরোধী আদেশ ছাড়া সবকিছু সন্তানকে মানতে হবে। সুরা আনকাবুতের ৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘আর আমরা মানুষকে নির্দেশ দিয়েছি যেন তারা বাবা-মার সঙ্গে কথায় ও কাজে উত্তম ব্যবহার করে।’

সুরা দাহরের ১ ও ২ নম্বর আয়াতে উল্লেখ হয়েছে, ‘আমরা মানুষকে সৃষ্টি করেছি বাবা-মার মিশ্রিত শুক্রবিন্দু হতে, তাকে পরীক্ষা করার জন্য। এরপর আমরা তাকে করেছি শ্রবণ-শক্তিসম্পন্ন।’ উপরোক্ত আয়াতগুলো থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান যে দুনিয়ায় আমাদের বাবা-মার সঙ্গে উত্তম আচরণ করতে হবে। কারণ আল্লাহর ইবাদত যেমন অপরিহার্য তেমনি বাবা-মার প্রতি সদাচরণ, তাঁদের খেদমত করাও অপরিহার্য।

কোরআন ও হাদিসের আলোকে সংক্ষেপে যা হলো তাঁদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা, তাঁদের প্রতি অনুগ্রহ করা, সুন্দর ও মার্জিত ভাষায় নরম সুরে কথা বলা, তাঁদের সুখ-শান্তির জন্য নিজের ধনসম্পদ ব্যয় করা, তাঁদের সঙ্গে নম্রভাবে চলাফেরা করা, যে কোনো বিষয়ে তাঁদের সুপরামর্শ নেওয়া, তর্ক না করা, কর্কশ ভাষায় কথা না বলা এবং বাবা-মার মৃত্যুর পর আল্লাহর কাছে তাঁদের জন্য মাগফিরাত কামনা করা, তাঁদের রেখে যাওয়া ঋণ পরিশোধ করা, তাঁদের অসিয়তগুলো পূর্ণ করা, কোরআন তিলাওয়াত করা (সন্তান তার মৃত বাবা-মার জন্য কোরআন তিলাওয়াত করবে এবং তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনার জন্য দোয়া করবে, এর ফলে তিলাওয়াত করার ফজিলত তাঁদের বাবা-মার আমলনামায় লেখা হবে)। মৃত বাবা-মার কবর জিয়ারত করা। নিকট আত্মীয়স্বজনের খোঁজ নেওয়া। আর প্রতিনিয়ত তাঁদের জন্য দোয়া করা।

বাবা-মার জন্য দোয়া আল্লাহ কোরআনে আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন, ‘রব্বির হাম হুমা কামা রব্বা ইয়ানি সগিরা’ অর্থাৎ ‘হে আমার প্রতিপালক! তাঁদের প্রতি দয়া কর যেভাবে শৈশবে তাঁরা আমাকে প্রতিপালন করেছিলেন।’ সুরা বনি ইসরাইল আয়াত ২৪। আল্লাহ রব্বুল আলামিন আমাদের সবাইকে বাবা-মার প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিকভাবে পালনের তৌফিক দান করুন।

লেখক : অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার।