বাংলাদেশী সাঈদুর রহমান বিশ্ব সেরা গবেষক

প্রকাশিত: ৬:৫৩ পূর্বাহ্ণ, শনি, ২১ নভেম্বর ২০

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

বিশ্বসেরা গবেষকের তালিকায় স্থান করে নিলেন বাংলাদেশের অধ্যাপক সাঈদুর রহমান। ১৮ নভেম্বর ল্যাঙ্কাস্টার জরিপে ২০২০ সালের সেরা চারজন গবেষকের নাম প্রকাশ করেছে। তারা হলেন : রয়্যাল সোসাইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নিক গ্রাহাম, ক্রপ সায়েন্সেসের অধ্যাপক স্টিভ লং, মালয়েশিয়ার সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যানোমেটেরিয়ালস অ্যান্ড এনার্জি টেকনোলজির অধ্যাপক সাঈদুর রহমান ও ল্যাঙ্কাস্টার ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জেস চুয়া। বাংলাদেশের সাঈদুর রয়েছেন সেরা চারে।

গত বছরের ডিসেম্বরে মালয়েশিয়ার সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গবেষণায় পুরস্কারও পেয়েছেন সাঈদুর। অধ্যাপক সাঈদুর রহমান ল্যাঙ্কাস্টারের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শক্তি প্রযুক্তি বিভাগ এবং মালয়েশিয়ার সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যানোম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড এনাজির্ টেকনোলজির অধ্যাপক। তার কাজের মধ্যে ল্যাঙ্কাস্টারের এনার্জি রিসার্চ গ্রুপের নবায়নযোগ্য শক্তির জন্য ন্যানোম্যাটেরিয়ালের গবেষণা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশ্বের পাঁচ শতাধিক জার্নালে তার গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে। ল্যাঙ্কাস্টারে নিযুক্ত হওয়ার পর থেকে তিনি প্রায় ৫০০ জার্নালে নিবন্ধ, কার্যপত্রিকা, বইয়ের অধ্যায় এবং একটি ল্যাঙ্কাস্টারের অধিভুক্তির সঙ্গে পর্যালোচনা প্রকাশ করেছেন। তার গবেষণাপত্র বিশ্বের অন্যান্য গবেষকের কাছে সব থেকে সমাদৃত। তার গবেষণা কাজগুলো ৩৬ হাজারেরও বেশি উদ্ধৃতি দেয়া হয়েছে। ওয়েব অব সায়েন্স ন্যানোফ্লুয়েড গবেষণায় তিনি প্রথম স্থানে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

সাঈদুর রহমান ল্যাঙ্কাস্টার এবং সানওয়ের মধ্যে সহযোগী সংযোগগুলো প্রচার করেন এবং এমএক্সেনে ন্যানোফ্লুয়েড এবং ঘন সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার সরকার তার গবেষণাকে গ্রহণ ও প্রয়োগ করে। নিউটন তহবিল গবেষণা কাজে সহযোগিতা করে।

ল্যাঙ্কাস্টারের রাসায়নিক প্রকৌশল এবং শক্তি গবেষণা দলগুলোর সঙ্গে কাজ করেছেন। মেন্ডেলি ডেটাবেজ দ্বারা প্রকাশিত বৈশ্বিক বিজ্ঞানীদের মধ্যে তিনি যান্ত্রিক প্রকৌশল ক্ষেত্রে ৪৯ এবং শক্তিক্ষেত্রে ৫০তম স্থান অর্জন করেছেন। ডিপার্টমেন্ট অব বিজনেস পলিসি, ফ্যাকাল্টি অব বিজনেস অ্যান্ড অ্যাকাউনটেনসি, ইউনিভার্সিটি অব মালায়ার পিএইচডি গবেষক, মো. সোহেল রানা বলেন, অধ্যাপক সাঈদুর রহমান স্যার Clarivate কর্তৃক প্রকাশিত উচ্চতর উদ্ধৃত (cited) বার্ষিক গবেষক তালিকায় প্রথম। তার এমন স্বীকৃতিতে তাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এটি আমাদের জন্য নিঃসন্দেহে আনন্দ, অনুপ্রেরণা ও গর্বের বিষয়। তার এই অনন্য অর্জনে নতুন গবেষকদের মধ্যে প্রেরণা জোগাবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, শিক্ষাবিদ, গবেষকদের উদ্দেশে অধ্যাপক সাঈদুর রহমান বলেছেন, আমার গবেষণার অভিজ্ঞতাটি ভাগ করে নেয়ার জন্য প্রস্তুত আছি। আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশকে বিশ্বে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হব। একটা সময় ছিল দারিদ্র্যপীড়িত বাংলাদেশকে বিশ্ব চিনত, এরপর কায়িক পরিশ্রম করা কর্মীদের দেখছে বিশ্ব। কিন্তু এর সঙ্গে সঙ্গে যে মেধার ও কৃতিত্বের বিস্ফোরণ দেখাচ্ছে বাংলার মেধাবী সন্তানরা। এ যেন সেই একাত্তর সালের স্বাধীনতা অর্জনের মতোই। যার যা আছে তাই নিয়ে লড়াই করে বিশ্বের বুকে কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তিনি বলেন, এনার্জি এখন বিশ্বের অন্যতম অনুষঙ্গ, চলা বা উন্নয়নের বা ভোগের অন্যতম চালিকাশক্তি। অল্প বিনিয়োগে অধিক এনার্জি উৎপাদন, টেকসই উন্নয়ন এ গবেষণা এবং এর প্রয়োগের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে গবেষণা সহযোগিতা হতে পারে। বাংলাদেশি গবেষকদের জন্য অনলাইন গবেষণা সেমিনার আয়োজন করা যেতে পারে। ময়মনসিংহ জেলার কৃতী সন্তান অধ্যাপক সাঈদুর রহমান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক শিক্ষার্থী। প্রয়োজনে [email protected] -ঠিকানায় যোগাযোগ করতে পারেন।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.