বদলে যাচ্ছে মুজিবনগর

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূতিকাগার মেহেরপুরের মুজিবনগর। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল প্রথম সরকারের শপথের মধ্যে দিয়ে যার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর। বাংলাদেশের প্রথম রাজধানী। স্বাধীনতার ৫১ বছরে এসে হলেও পাল্টে যেতে শুরু করেছে এলাকার দৃশ্যপট। তৈরি হচ্ছে এক হাজার কোটি টাকা ব্যায়ে আর্ন্তজাতিকমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্মৃতি কমপ্লেক্স। চলতি অর্থ বছরেই এই মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী।

নতুন প্রস্তাবিত প্রকল্প সম্পন্ন হলে পাল্টে যাবে মুজিবনগরের চিত্র। মুজিবনগরকে দেখেই পুরো মুক্তিযুদ্ধের দৃশ্যপট পর্যটকের চোখের সামনে ভেসে উঠবে। আর এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে হলে নতুন ৫৬ দশমিক শূন্য ৫ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। যা ইতেমধ্যে মাপযোগ সম্পন্ন করা হয়েছে। সবমিলিয়ে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিকেন্দ্রটি ১২৭ একরে রুপ নেবে। জমি অধিগ্রহণসহ নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৪১০ কোটি টাকা। প্রয়োজনে প্রকল্পের অর্থে বাড়ানো হবে এমনটা জানা গেছে। প্রকল্পটি সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ করে একনেকে পাঠানো হয়েছে। আসন্ন বাজেটেই বরাদ্দ পাওয়া যাবে বলে আশা মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের।

নতুন প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে চারপাশ দিয়ে দৃষ্টিনন্দন লেক, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্কাল্পচার গার্ডেন, বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার মেমোরিয়াল মুর‌্যাল ও শপথ গ্রহণের গ্রাউন্ড, শেখ হাসিনা মঞ্চ, প্যানোরমা ও অ্যাম্পি থিয়েটার, হিস্টোরি ওয়াক, তিনতলাবিশিষ্ট অ্যাডমিন ব্লক, দুইতলা বিশিষ্ট মাল্টিপারপাস ব্লক, চারতলা বিশিষ্ট ট্রেনিং সেন্টার, চারতলা বিশিষ্ট অফিসার্স ও স্টাফ কোয়ার্টার, সুইমিং পুল, ফুড জিয়স্ক ও রেস্ট রুম, রেন্টাল সপ, ওয়াচ টাওয়ার, ভিভিআইপি ও ভিআইপি পার্কিং, সাধারণ পার্কিং, মাছ ধরার ডেক, রোপ ওয়ে, দুইতলা বিশিষ্ট বোট ক্লাব, সুপেয় পানির ডিসপেনসার, ব্যাংক প্রটেকশনসহ লেক, ব্রিজ, কনটোর্স, আইসল্যান্ড, ওয়াচ ওয়ে, চালকদের আবাসন, শিশু পরিবার ও ডরমেটরি, দুইতলা বিশিষ্ট স্কুল, টেনিস কাম বাস্কেটবল কোর্ট, লেজার শো ওয়াটার শিল্ড।

এ বিষয়ে মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খান বলেন, সর্বশেষ যে প্রকল্পটি নেয়া হয়েছে তা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ও মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন বলেন, নতুন করে প্রস্তাবিত মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ কমপ্লেক্সকে ঢেলে সাজানোর জন্য প্রাথমিকভাবে স্থাপত্য অধিদপ্তর ৪১০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প রেডি করেছে। এটি একনেকে দেওয়ার পর তারা কিছু সংশোধনী দিয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠিয়েছে। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সম্বনয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ করা হয়েছে। আমরা চাচ্ছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটি একনেকে পাশ করানোর জন্য। এক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রীও একমত হয়েছেন।

এছাড়া ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগদিতে ভারতের কলকাতা থেকে যে মেঠোপথ ধরে জাতীয় চার নেতাসহ দেশ-বিদেশের সাংবাদিকরা এসেছিলেন সেই মেঠপথটিকে স্বাধীনতার অর্ধশত বছর উৎযাপন উপলক্ষে বর্তমান সরকার ‘স্বাধীনতা সড়ক’ নামে নামকরণ করেছেন। ওই মেঠপথটির বাংলাদেশের অংশ ৫০০ মিটার সড়ক এক কোটি চার লাখ টাকা ব্যয়ে ইতিমধ্যে পাকাও করা হয়ে গেছে। গত বছর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে এ সড়কের উদ্বোধন করেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। সম্প্রতি যে সড়ক দিয়ে যাত্রী পারাপার ও পণ্য আমদানি-রপ্তানির জন্য গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।

সম্পূর্ণভাবে স্থলবন্দর ও নতুন প্রস্তাবিত মুজিবনগর কমপ্লেক্সের কাজ সম্পন্ন হলে এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে আমূল পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মেহেরপুর চেম্বার অব কর্মার্স এর সভাপতি গোলাম রসুল জানান, দির্ঘদিন অবহেলিত মুজিবনগরবাসীর জন্য স্থলবন্দর একটি আর্শিবাদ। অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমকা রাখবে। সেই সাথে আন্তর্জাতিকমানের পর্যটন কেন্দ্রটি বাস্তবায়িত হলে শুধু পর্যটন শিল্প থেকেই মুজিবনগরের অর্থনিতির মোড় ঘুরে যাবে।

সরকারের অনুমোদন পেয়েছে মুজিবনগর বিশ্ববিদ্যালয়। কারিগরি খাতকে এগিয়ে নিতে তৈরি করা হয়েছে চারতলাবিশিষ্ট মুজিবনগর টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ। গত দুই বছরে শুধু মুজিবনগরেই উপজেলা এলজিইডির তথ্য অনুযায়ি প্রায় একশো কোটি টাকা রাস্তা উন্নয়নে ব্যায় হয়েছে। যা জনপ্রশাসন প্রতিন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় হয়েছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন সরকার।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, মুজিবনগরকে বিশ্বব্যাপী তুলে ধরতে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হবে। মুজিবনগরকে ঢেলে সাজানো হবে। নতুন প্রস্তাবিত প্রকল্পটির কাজ চলতি অর্থ বছরেই শুরু করার পরিকল্পনা আছে। আগামী দুই মাসের মধ্যেই আশা করছি কাজ শুরু করতে পারবো।