বদলির জটিলতা কাটলো প্রাথমিক শিক্ষকদের

নিউজ ডেস্ক।।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বদলি নীতিমালা আবারও সংশোধন করা হয়েছে। শিক্ষকদের বদলির সুযোগ দিতে এই সংশোধন আনা হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে বিদ্যালয়ে পাঁচজনের কম শিক্ষক থাকলেও বদলির জন্য আবেদন করা যাবে।

শিক্ষকদের দাবির মুখে সোমবার (১৭ অক্টোবর) বদলি নীতিমালা সংশোধন করে আদেশ জারি করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

ডিপিই থেকে জানা গেছে, প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক বদলি কার্যক্রম বিগত তিন বছর বন্ধ থাকার পর গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে অনলাইন বদলি চালু হলেও সমন্বিত বদলি নীতিমালা-২০২২-এর বেশিরভাগ ধারায় জটিলতা তৈরি হয়। এতে করে প্রায় ৯০ শতাংশ শিক্ষক আবেদনই করতে পারেননি। দুই দফা আবেদনের সময় বাড়ানোর পর আবেদনের সংখ্যা না বাড়ায় এবং শিক্ষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নীতিমালা সংশোধন করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এতে দেখা গেছে, সংশোধিত নীতিমালায় ৩.৩ ধারা অনুযায়ী বিদ্যালয়ে পাঁচজনের কমসংখ্যক শিক্ষক থাকলে বদলির জন্য আবেদনের সুযোগ ছিল না। এছাড়া শিক্ষক-ছাত্র অনুপাত ১:৪০ শর্তের কারণে পাঁচজনের বেশি শিক্ষক কর্মরত এমন বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরাও বদলির আবেদনে ব্যর্থ হন। এ নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (১৭ অক্টোবর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বেশিরভাগ ধারাই সংশোধন করে আদেশ জারি করা হয়েছে।

সংশোধিত ধারা মতে, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ১:৪০ থাকার ধারা শিথিল করে দুই শিফটের বিদ্যালয়ের প্রথম-দ্বিতীয় এবং তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম শ্রেণির মধ্যে যে শিফটে শিক্ষার্থী সংখ্যা বেশি, সেই শিফটের শিক্ষার্থী হিসাব করে ১:৪০ নির্ধারণ করা হবে।

সংশোধিত নীতিমালা অনুসারে চারজন শিক্ষক বিশিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে শিক্ষক বদলি আবেদন করতে পারবেন এবং তা কার্যকর হবে ওই বিদ্যালয়ের নতুন শিক্ষক পদায়ন হওয়ার পর অথবা শিক্ষক প্রতিস্থাপন সাপেক্ষে।

এতে দেখা গেছে, এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় বদলির ক্ষেত্রে ১০ শতাংশের শর্তও শিথিল করা হয়েছে, অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রীর ঠিকানা, বিধবা বা ডিভোর্সের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশের আওতায় পড়বেন না সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা।

বর্তমান সংশোধিত নীতিমালার ফলে বেশিরভাগ শিক্ষক কোনো ঝামেলা ছাড়া বদলি হতে পারবেন। তবে পূর্বের নীতিমালায় থাকা স্বামী-স্ত্রী বেসরকারি চাকরিজীবী হলে বদলির যে সুযোগ ছিল তা সমন্বিত বদলি নীতিমালা বা সংশোধিত নীতিমালায় রাখা হয়নি। এতে কিছু কিছু শিক্ষকের বদলির ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।