বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে মানুষের অধিকার কেড়ে নেয়: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর স্বৈরশাসকরা তাঁদের বুট এবং বেয়নেটের খোঁচায় এ দেশের মানুষের ভাগ্য লিখতে শুরু করে। মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার কেড়ে নেয়। তিনি বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করে অসাংবিধানিক ও অবৈধভাবে ক্ষমতায় বসে স্বৈরতন্ত্র কায়েম করে সাধারণ মানুষের স্বাধীনভাবে বাঁচার অধিকার কেড়ে নেয়।

শনিবার (০৩ ডিসেম্বর) নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ চাঁদপুরের বীর সন্তান জিয়াউর রহমান পাটওয়ারী রাজুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মারকগ্রন্থ ‘সাহসিক’ প্রকাশ উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

স্বৈরশাসকরা তাদের বুট এবং বেয়নেটের খোঁচায় এ দেশের মানুষের ভাগ্য লিখতে শুরু করে। আমাদের মহান মুক্তি সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস বিকৃত করে। আমি এবং আমার বোন বিদেশে অবস্থান করায় আমাদের হত্যা করতে পারেনি। দীর্ঘ ছয় বছর আমাদের রিফিউজি হিসেবে বিদেশে অবস্থান করতে হয়েছে। ’

প্রধানমন্ত্রী নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে জিয়াউর রহমান পাটওয়ারী রাজুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মারকগ্রন্থ ‘সাহসিক’ প্রকাশ করার উদ্যোগ নেওয়ায় ‘শহীদ রাজু স্মৃতি সংসদ’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ দেশের শোষিত-বঞ্চিত মানুষের মুক্তির জন্য সারা জীবন সংগ্রাম করেছেন। পাকিস্তানি শোষকদের জেল-জুলুম-নির্যাতন তাঁকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথ থেকে সরাতে পারেনি। তাঁর অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা অর্জন করেছি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। তিনি বাঙালি জাতির জন্য একটি স্বতন্ত্র পরিচয় সৃষ্টি করেছেন এবং মাত্র সাড়ে তিন বছরেই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন করে স্বল্পোন্নত দেশে উন্নীত করেছিলেন। ’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে এসেই এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য লড়াই-সংগ্রাম শুরু করি। দেশে স্বৈরতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে গণতন্ত্র পুনঃ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিই। গণতন্ত্র পুন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে কত তাজা প্রাণ ঝরে পড়েছে হিসাব নেই। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী তুমুল আন্দোলন গড়ে ওঠে। এ আন্দোলনে অংশ নিয়েও বহু মানুষ প্রাণ বিসর্জন দেয় এবং স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটে। চাঁদপুর সরকারি কলেজের দ্বাদশ বাণিজ্য বিভাগের মেধাবী ছাত্র ও ছাত্রলীগ নেতা জিয়াউর রহমান পাটওয়ারী রাজুও এ আন্দোলনে শহীদ হন। তিনি শহীদ রাজুসহ বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহীদদের বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, শহীদ জিয়াউর রহমান পাটওয়ারী রাজু স্মরণে প্রকাশিত গ্রন্থ ‘সাহসিক’ দেশে গণতন্ত্র পুনঃ প্রতিষ্ঠায় আত্মত্যাগের উজ্জ্বল দলিল হিসেবে যুগে যুগে নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। ’