বঙ্গবন্ধুকে শপথ পড়ানোর ভুল নিয়ে বিব্রত এনসিটিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ পাঠ্যবইয়ের ভুল সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। ভুল সংশোধনে চলতি মাসেই একটি কমিটি গঠন করা হবে। সে কমিটি ভুল সংশোধন শেষে এনসিটিবিতে জমা দিলে সংশোধিত অংশ স্কুলগুলোতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে এনসিটিবি সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক মো. মশিউজ্জামান বলেন, এখন যেগুলোকে ভুল বলা হচ্ছে, সেগুলো আদৌ ভুল কিনা তা নিয়ে বিতর্ক আছে। তবে সরাসরি কিছু ভুল আছে, যা অস্বীকার করার উপায় নেই। যেমন, বঙ্গবন্ধুকে শপথ পড়ানোর ভুল। সেটি নিয়ে আমরাও বিব্রত। যারা পরিমার্জন করেছেন, তা হয়তো তাদের চোখ এড়িয়ে গেছে। এ জায়গাটায় আমরা অসহায় বোধ করি যে, এত এত বিজ্ঞজনকে দিয়ে কাজ করাই, তারপরও তাদের চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে।

মশিউজ্জামান আরও বলেন, এবারও আমরা বিগত বছরগুলোর মতো ভুল সংশোধনের কাজ করব। আমরাও খুঁজে দেখব আর কোনো ভুল আছে কিনা। বানান ভুল বা বাক্য ভুল থাকলে এনসিটিবি তা সংশোধনের কাজ করে থাকে। তবে তত্ত্বগত বা তথ্যগত কোনো ভুল থাকলে আমরা ওই বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের ডাকি। একটি কমিটি গঠন করা হয়। সে কমিটিতে বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি শ্রেণিশিক্ষক, পেডাগোজির লোকও থাকেন। আমরা এবারও একটি কমিটি গঠন করে দেব। এই মাসে সংশোধনের কাজ শুরু হবে। তবে কাজ করতে কিছুটা সময় লাগবে। সে কারণে আমরা হয়তো এ মাসেই সংশোধনের কাজ শেষে বই পাঠাতে পারব না। সেজন্য ফেব্রুয়ারি মাসে ভুল সংশোধন করে স্কুলগুলোতে পাঠানো হবে।

জানা যায়, এনসিটিবির ২০২৩ শিক্ষাবর্ষের বইও ভুলে ভরা, আছে তথ্যবিভ্রাটও। সবচেয়ে বেশি ভুল ধরা পড়েছে দেশের ইতিহাস, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক লেখায়। অন্যদিকে এসব বইয়ের বিভিন্ন পত্র আর পুরোনো সালের পরিসংখ্যান ব্যবহার করা হয়েছে। এবার দুই ধরনের বই ছাপিয়েছে এনসিটিবি। এর মধ্যে প্রথম, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা নতুন শিক্ষাক্রমের আলোকে বই হাতে পেয়েছে। আর অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পুরোনো শিক্ষাক্রমের আলোকে বই পেয়েছে।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, পুরোনো শিক্ষাক্রমের আলোকে প্রণয়ন করা বইগুলোতে এখনো ভুল রয়েছে। এ ছাড়া সব বইয়েই কমবেশি বানান ভুল পাওয়া গেছে। হাইফেন, ড্যাশ, কোলনসহ বেশিরভাগ যতিচিহ্নের ব্যবহারও অধিকাংশ ক্ষেত্রে সঠিক হয়নি।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/১১/২৩