বইয়ের অভাবে শিক্ষার্থী শূন্য বিদ্যালয়

শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃ জানুয়ারি মাস চলে যাচ্ছে। এখনো শিক্ষার্থীদের হাতে পুরো বই পৌঁছায়নি প্রাথমিক কিংবা মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে। বইয়ের অভাবে পুরোদমে ক্লাস শুরু করতে পারছেন না বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এদিকে বই না পাওয়ায় কিংবা ক্লাস শুরু না হওয়ায় শিক্ষার্থীরাও বিদ্যালয়ে আসছে না। ফলে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী শূন্য ফাঁকা সময় কাটছে এখন।

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সকল বিদ্যালয়েই যেনো একই চিত্র। কোন কোন বিদ্যালয় বন্ধ পাওয়া গেছে, কোনটিতে কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি কিংবা বইয়ের জন্য বিদ্যালয়ে আসলেও বই না পেয়ে বিমুখ হয়ে বাড়ি ফিরছেন শিক্ষার্থী কিংবা অভিভাবকরা।

অভিভাবকদের অভিযোগ, চলতি বছরের প্রথম দিন পহেলা জানুয়ারি তারিখে স্থানীয় উদয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিশাল আয়োজনের মধ্য দিয়ে উপজেলার সব প্রাথমিক, মাধ্যমিক, এবতেদায়ী ও দাখিল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মাধ্যে ২০২৩ শিক্ষাবর্ষের জন্য বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ উৎসব উদযাপিত হয়ে গেলেও অদ্যাবধি শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই পৌঁছায়নি।

কবে বই আসবে আর ক্লাস শুরু হবে এই নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রতিনিয়তই যোগাযোগ রাখতে হচ্ছে তাদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক অভিভাবকই বলছেন, করোনা ভাইরাসের কারণে বিশাল ক্ষতি পেরিয়ে সবে মাত্র শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়মুখী হয়েছে, তাও আবার বইয়ের জন্য ক্লাস করতে পারছে না তারা। এতে করে অনেক ছেলেমেয়েরা লেখাপড়ায় মন হারিয়ে ফেলছে বলে উল্লেখ করেন অভিভাবকরা।

উপজেলার বেশ কয়েকটি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাদের প্রত্যেকেই বইয়ের অভাবজনিত বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে কোন কোন বিদ্যালয়ে দুই একটি শ্রেনীতে ক্লাস শুরু করা হলেও সবগুলো বই প্রাপ্তীর সাপেক্ষে ফেব্রুয়ারি শুরুতেই বিদ্যালগুলোতে পুরোদমে ক্লাস শুরু করার আশ্বাস দেন প্রধান শিক্ষকরা।

বর্ডারগার্ড পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নীশিকান্ত দেব বলেন, তাদের বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে শুধুমাত্র ধর্ম শিক্ষা আর নৈতিক শিক্ষা বই এসেছে, সপ্তম শ্রেণিতে ১৪টি বইয়ের মধ্যে ৮টি বই এসেছে। অষ্টম এবং নবম শ্রেণিতেও কিছু বই বাকি রয়েছে। সাতগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়, কাকিয়াবাজার উচ্চ বিদ্যালয়, বিষামনি উচ্চ বিদ্যালয় সহ আরো অন্যান্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরাও এমন তথ্য উল্লেখ করেছেন।

এছাড়াও মাধ্যমিকের মতো প্রথমিক বিদ্যালয়েও একই চিত্র লক্ষা করা গেছে।, ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণিতে ইংরেজী, ধর্মশিক্ষা এবং নৈতিক শিক্ষা ছাড়া আর কোন বই এখন পর্যন্ত কোন বিদ্যালয়ে এসে পৌঁছেনি এমনকি প্রাথমিকের ১ম ও ২য় শ্রেণিতে কোন বই পায়নি শিক্ষার্থীরা এমন তথ্য জানিয়েছেন উত্তর ভাড়াউড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কল্যাণ দেব।

মৌলভীবাজার জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি চন্দ্রনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহর তরপদার বলেন, এমন চিত্র শুধু শ্রীমঙ্গলেই নয়, পুরো জেলাব্যাপী বিরাজ করছে।

শুধুমাত্র বইয়ের কারণেই যে বিদ্যালয়ে ক্লাস বন্ধ রয়েছে তা সঠিক নয় উল্লেখ করে বর্ণনা দিয়েছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ভূনবীর দশরথ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ঝলক চক্রবর্ত্তী এবং ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অয়ন চৌধুরী।

বছরের ১ম মাস হিসেবে জানুয়ারি মাসে শিক্ষার্থীদের মাঝে লেখাপড়ার চাপ কম থাকার কারণে এই সময়ের মধ্যে বিদ্যালয়ের বার্ষিক মিলাদ মাহফিল, সরস্বতী পূজা, ক্রিড়া প্রতিযোগিতা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, মেধা মূল্যায়ন প্রতিযোগিতা ইত্যাদি নানা আয়োজন মূলত জানুয়ারি মাসেই হয়ে থাকে।

এসব কারণেও জানুয়ারি মাসে পুরোদমে ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না। এছাড়াও নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীদের নতুনভাবে পাঠদানের বিষয়ে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনে প্রশিক্ষনের কারণেও চলতি সময়ে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন তারা।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দিলীপ কুমার বর্ধন বলেন, বই নেই কথাটা ঠিক না, প্রতিদিনই নতুন বই আসছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. জাফর আল সাদেক বলেছেন, মূলত কাগজ সংকটসহ ছাপাখানাগুলোর বিভিন্ন জটিলতার কারণে এ বছর বই ছাপা হতে একটু বিলম্ব হচ্ছে। তবে জানুয়ারি মাসের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে সকল প্রকারের বই পৌঁছে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/২২/২৩