ফোন ধরেই কাঁদতে লাগলেন পরীমণি, ভয়ে বলছেন না অভিযুক্তের নাম

প্রকাশিত: ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ, সোম, ১৪ জুন ২১

আনন্দধারা ডেস্ক :

ঢাকাই সিনেমার নায়িকা পরীমণি তাকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ করেছেন। তাকে নির্যাতনও করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহায্য চেয়ে ফেসবুকে দীর্ঘ এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি। সেখানে প্রধানমন্ত্রীকে মা ডেকে তার কাছে সঠিক বিচার ও মেয়ে হিসেবে আশ্রয় চেয়েছেন পরীমণি।

আজ রোববার (১৩ জুন) রাত ৮টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ স্ট্যাটাস দেন পরীমণি।

এ বিষয়ে জানতে পরীমণির মোবাইল ফোনে কয়েক দফা যোগাযোগ করে অবশেষে রাত সাড়ে ৮টায় তাকে পাওয়া গেল। ফোন ধরেই কাঁদতে লাগলেন পরীমণি। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে বললেন, ‘আমার স্ট্যাটাস সত্য। আমার সঙ্গে অনেক খারাপ কিছু ঘটেছে।’

কার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন জানতে চাইলে পরী বলেন, ‘এটা বলতে চাই। তবে ফোনে বলা যাবে না। আপনারা আসেন। আমি সবার সামনে, ক্যামেরার সামনে বলতে চাই। আমি সবাইকে জানাতে চাই। আমার ভরসা নষ্ট হয়ে গেছে। আমি কাউকে ভরসা করতে পারি না ভাই।’

‘আমি অনেক দৌড়াদৌড়ি করেছি। থানা, শিল্পী সমিতি, সবখানে গেছি। কিছু হয়নি। আপনাদের বলতে চাই। আপনারা আসেন’- যোগ করেন পরীমণি।

তিনি আরও বলেন, ‘আজ রাতে আমার যদি কিছু হয়ে যায় তার দায়িত্ব কে নেবে? আমি এজন্য ফোনে কিছু বলবো না।’

এর আগে ফেসবুকে ওই স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘বরাবর, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমি পরীমণি। এই দেশের একজন বাধ্যগত নাগরিক। আমার পেশা চলচ্চিত্র। আমি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমাকে রেপ এবং হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।’

‘এই বিচার কই চাইবো আমি? কোথায় চাইবো? কে করবে সঠিক বিচার? আমি খুঁজে পাইনি চার দিন ধরে। থানা থেকে শুরু করে আমাদের চলচ্চিত্র বন্ধু বেনজীর আহমেদ আইজিপি স্যার! আমি কাউকে পাই না মা। যাদের পেয়েছি সবাই শুধু ঘটনার বিস্তারিত জেনে, দেখছি বলে চুপ হয়ে যায়!’

পরীমণি আরও লেখেন, ‘আমি মেয়ে, আমি নায়িকা, তার আগে আমি মানুষ। আমি চুপ করে থাকতে পারি না। আজ আমার সাথে যা হয়েছে তা যদি আমি কেবল মেয়ে বলে, লোকে কী বলবে এই গিলানো বাক্য মেনে নিয়ে চুপ হয়ে যাই, তাহলে অনেকের মতো (যাদের অনেক নাম এক্ষুণি মনে পড়ে গেল) তাদের মতো আমিও কেবল তাদের দল ভারী করতে চলেছি হয়তো। আফসোস ছাড়া কারোর কি করার থাকবে তখন! আমি তাদের মতো চুপ কি করে থাকতে পারি মা? আমি তো আপনাকে দেখিনি চুপ থেকে কোনো অন্যায় মেনে নিতে!’

‘আমার মা যখন মারা যান তখন আমার বয়স আড়াই বছর। এতদিনে কখনো আমার এক মুহূর্ত মাকে খুব দরকার এখন, মনে হয়নি এটা। আজ মনে হচ্ছে, ভীষণ রকম মনে হচ্ছে মাকে দরকার, একটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরার জন্য দরকার। আমার আপনাকে দরকার মা। আমার এখন বেঁচে থাকার জন্য আপনাকে দরকার মা। মা আমি বাচঁতে চাই। আমাকে বাঁচিয়ে নাও মা।’

পরীমণির স্ট্যাটাস সম্পর্কে জানতে চাইলে পুলিশ সদরদফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) মো. সোহেল রানা বলেন, ‘তিনি অবশ্যই ন্যায়বিচার পাবেন। আমরা তার ন্যায়বিচারের জন্য কাজ করব। তবে, কেন তিনি আইজিপি স্যারের নাম উল্লেখ করেছেন তা আমি বুঝতে পারছি না। আমরা নিশ্চিত, তিনি মোটেই আইজিপি স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। আইজিপি স্যার সর্বদা নারী ও শিশুদের অধিকারের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল।’

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.