পড়তে শুরু করেছে কুয়াশা

নিউজ ডেস্ক।।

আসছে শীত, ইতোমধ্যে কুয়াশা পড়তে শুরু করেছে। সকালের আকাশ অনেকটাই ঘোলাটে থাকে। শেষরাতের দিকে অথবা খুব সকালে ঠাণ্ডা অনুভূত হচ্ছে। শেষরাতে একটা কিছু গায়ে না জড়িয়ে আরামে ঘুমানো যাচ্ছে না। রাজধানী ঢাকাতেই এমন অবস্থা। দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আরো বেশি ঠাণ্ডা অনুভূত হচ্ছে। বেশি শীত অনুভূত হচ্ছে পঞ্চগড় জেলায়।

ইতোমধ্যে তেঁতুলিয়ার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছে। খুব শিগগিরই নিম্ন তাপমাত্রা আরো নিচে নামার পূর্বাভাস রয়েছে। অবশ্য চলতি অক্টোবরেতো নয়ই, নভেম্বর মাসেও শৈত্যপ্রবাহ নেমে আসার সম্ভাবনা কম। তবে শীত যে পড়ছে তা রাজধানী ঢাকার ফুটপাথের গরম কাপড়ের দোকান দেখলেই বোঝা যায়। সেখানে বাহারি রঙের এবং বিভিন্ন ডিজাইনের নতুন ও পুরনো গরম কাপড় বিক্রি হচ্ছে।

বাংলাদেশ থেকে মৌসুমি বায়ু বিদায় নিয়েছে চলতি ১৫ অক্টোবরের আগেই। মৌসুমি বায়ুর কারণে উত্তর-পশ্চিম দিকের ঠাণ্ডা বায়ু বাংলাদেশে আসতে পারে না। তা ছাড়া একই মৌসুমি বায়ুর কারণে বাংলাদেশের বাতাসে প্রচুর আর্দ্রতা থাকে। মৌসুমি বায়ু চলে যাওয়ায় এখন বায়ুতে আর্দ্রতার পরিমাণ অপেক্ষাকৃত কম। আর্দ্রতা কম থাকার কারণে বাতাস গরম ধরে রাখতে পারে না। দিনের বেলা সূর্য থেকে যে তাপ আসে তা বেশিক্ষণ ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না বলে রাতের বেলা তাপ কমতে শুরু করছে।

ইতোমধ্যে শরীরেও এর আঁচড় লাগছে। দোকানগুলোতে ময়েশ্চারাইজারের বিক্রি বেড়েছে বলে খিলগাঁও তালতলা সিটি করপোরেশন মার্কেটের দোকানদান রফিকুল ইসলাম। তিনি বলছেন, সব ধরনের ময়েশ্চারাইজারের বিক্রি আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। তবে পেট্রোলিয়াম জেলি বিক্রি বেশি বেড়েছে। কারণ অনেকেরই ঠোঁট ফাটতে শুরু করেছে। ঠোঁটকে আর্দ্র রাখতে ময়েশ্চারাইজারের বিকল্প নেই। লিপজেলসহ কিছু লোশন বিক্রিও বেড়েছে। সরিষার তেলের দোকানদার আইয়ুব আলী বললেন, সরিষার তেল সারা বছরই বিক্রি হয়। কিন্তু শীত লাগতে শুরু করেছে বলে বিক্রি কিছুটা বেড়ে গেছে।

ঢাকা মহানগরীর নিম্ন তাপমাত্রা ২১ ডিগ্রির কোঠায় ওঠানামা করছে। গতকাল শুক্রবার সকালে আবহাওয়া অফিসের আগারগাঁওয়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল শুক্রবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল শ্রীমঙ্গলে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

শীত কেন পড়ে এই প্রশ্নের উত্তরে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ মোস্তফা কামাল জানান, মৌসুমি বায়ুর বিদায় হওয়ার কারণে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঠাণ্ডা হাওয়া আসতে শুরু করে। এই হাওয়াকে ঠেকানোর জন্য দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে কোনো বিপরীত বায়ু প্রবল থাকে না। আবার এ সময় আকাশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া জেটস্ট্রিম অনেকটা নিচে নেমে আসে। এ বায়ু খুবই ঠাণ্ডা। জেটস্ট্রিমের ঠাণ্ডা বায়ু যত নিচে নামবে আমাদের দেশে তত বেশি শীত পড়বে। তা ছাড়া পৃথিবীর আবর্তনের কারণে শীতকালে সূর্য উত্তর গোলার্ধ সূর্য থেকে অনেক দূরে সরে যায়। ঠিক বিপরীত দিকে দক্ষিণ গোলার্ধের কাছে থাকে সূর্য। সে কারণে উত্তর গোলার্ধের দেশগুলো দিনের বেলা যে তাপ পায় তা সন্ধ্যা নামার পর পরই ঠাণ্ডা হয়ে যায়। রাত যত বাড়তে থাকে ঠাণ্ডা তত বাড়ে।

অন্যভাবে বলা যায়, গ্রীষ্মকালে সূর্যের আলো পৃথিবীর যে অংশে খাড়াভাবে পড়ে সেখানকার আলো খুব বেশি ছড়িয়ে পড়ে না। ফলে ভূপৃষ্ঠের নির্দিষ্ট স্থানে তাপের পরিমাণ বাড়ে এবং ভূপৃষ্ঠ দীর্ঘ সময় উত্তপ্ত থাকে। এ সময় গ্রীষ্মকালে দিন বড় হয় আর রাত ছোট হয়। তাই গ্রীষ্মকালে গরমের পরিমাণও বাড়ে।

শীতকালে বিপরীত অবস্থা হয়ে থাকে। তখন পৃথিবীর নির্দিষ্ট অংশে ধরা যাক বাংলাদেশে সূর্যের আলো তির্যকভাবে পড়ে বলে আলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। কোনো নির্দিষ্ট বিন্দুতে পড়া সূর্যের আলো তেমন শক্তিশালী হয় না। ফলে শীতকালে দিন হয় ছোট হয় ও রাত বড় হয়ে থাকে। সে কারণে শীতকালে ঠাণ্ডা লাগে।

উত্তর গোলার্ধে ২১ জুন দিন সবচেয়ে বড় এবং রাত সবচেয়ে ছোট থাকে। ২১ সেপ্টেম্বর দিন ও রাত সমান হয়ে থাকে। উত্তর গোলার্ধে ২১ ডিসেম্বর দীর্ঘ রাত এবং হ্রস্ব দিন। গতকাল শুক্রবার ঢাকায় ২৮ অক্টোবর সূর্যোদয় হয় ৬টা বেজে ৩ মিনিটে এবং সূর্যাস্ত হয় ৫টা ২২ মিনিটে। ২০ জুন সূর্যাস্ত হয় ৬টা ৪৯ মিনিটে এবং পরদিন ২১ জুন সূর্যোদয় হয় ৫টা ১১ মিনিটে। ২০ জুনের পর থেকে গতকাল পর্যন্ত এক ঘণ্টা ২৭ মিনিট দিবাভাগের পরিমাণ কমেছে। বিপরীত দিকে রাতের ভাগও বেড়েছে ৫২ মিনিট। অর্থাৎ রাতের ভাগ বেড়ে যাওয়ায় সূর্যের আলো বাংলাদেশের আকাশে কম থাকছে বলে এখানে ঠাণ্ডা বাড়ছে।