প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন শুরু হচ্ছে আজ থেকে

প্রকাশিত: ৮:১৭ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গল, ২৪ নভেম্বর ২০

নিউজ ডেস্কঃ

প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের নতুন শ্রেণিতে তুলে দেয়া হবে। তবে আগে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের আলোকে অর্জিত দক্ষতা মূল্যায়ন করবেন নিজ নিজ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। ছাত্রছাত্রীদের রোল নম্বর আগের শ্রেণিরটাই বহাল থাকবে। করোনাকালে সংসদ টেলিভিশন, বেতার, মোবাইল ফোন ও ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়ানো হয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেন, আমরা সব শিক্ষার্থীকে পরবর্তী ক্লাসে তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যারা রেডিও, টিভিসহ কোনো মাধ্যমে পাঠদান নিতে পারেনি বা সিলেবাস শেষ করতে পারেনি তাদেরও পরবর্তী ক্লাসে তোলা হবে। এ ক্ষেত্রে এসব শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজর দেয়ার জন্য শিক্ষকদের বলা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার (আজ) প্রত্যেক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন কাজ শুরু হবে। কী পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করবে সে বিষয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। একজন শিক্ষার্থী পরবর্তী ক্লাসের জন্য যতটুকু জ্ঞান দরকার- তা আছে কিনা; তা তারা দেখবেন। সেই জ্ঞান না থাকলে তাকে শিখাতে হবে। এ বিষয়ে শিক্ষকরা পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করবেন। আগামী পহেলা জানুয়ারির মধ্যে এ কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে।

মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা এবং প্রধান শিক্ষকদের কাছে বুধবার ডিপিই মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন সংক্রান্ত চিঠি পাঠান। এতে বলা হয়, ‘কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের প্রাক্কালে ১৬ মার্চ পর্যন্ত বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান চলমান ছিল। পরে কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের শিখন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার, কমিউনিটি রেডিওর মাধ্যমে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এছাড়া শিক্ষকরা স্বউদ্যোগে মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাঠদান অব্যাহত রাখেন। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সম্পৃক্ত ছিলেন। এ প্রেক্ষাপটে শিক্ষকদের নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হল।’

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট (বাড়ির কাজ) দেয়ার চিন্তা করা হয়েছিল। কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ায় এটা থেকে আমরা সরে এসেছি। শিক্ষকরা গত মার্চে ছুটি শুরুর আগে এবং ছুটির মধ্যে বিভিন্নভাবে ছাত্রছাত্রীদের মূল্যায়ন করছেন। সেটার ভিত্তিতেই এখন পরের শ্রেণিতে তোলা হবে। আমরা এটাকে ‘পদোন্নতি’ বলছি না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেতার এবং টিভির মাধ্যমে পাঠদানের যে বিষয়টিকে ডিপিই গুরুত্ব দিচ্ছে সেটা যথাযথ নয়। কেননা খোদ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতানুসারে ৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থী টেলিভিশনের পাঠদানের অধীনে আসতে পেরেছে। যদিও বেতারে আরও বেশি শিক্ষার্থী যুক্ত করার সুযোগ আছে বলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দাবি করছেন। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। একই পরিস্থিতি স্কুল শিক্ষকের বাড়ি বাড়ি খোঁজখবর নেয়ার ক্ষেত্রেও। ফলে শিক্ষার্থীর শিখনের দিকটি আশানুরূপ হয়নি বলে মনে করেন তারা।

গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, করোনায় বিভিন্নভাবে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া অব্যাহত রাখার উদ্যোগ ছিল। এখন সেটা মূল্যায়নে সরকারের এই উদ্যোগ আরও ভালো। তবে উদ্যোগ যেন খাতা-কলমে না থাকে। কেননা শিখন-পর্যায় যদি মূল্যায়ন করা যায় তাহলে ঘাটতি চিহ্নিত করা যাবে। এর আলোকে পরের শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর ঘাটতি পূরণের পদক্ষেপ নেয়া যাবে। এতে এই প্রজন্মের জ্ঞানগত ঘাটতি দূর হবে। সার্বিকভাবে লাভবান হবে জাতি।

ডিপিই মহাপরিচালক বলেন, শিক্ষার্থীর ‘শিখন-পর্যায়’ এবং ‘শিখন-ঘাটতি’ উভয়ই আমরা মূল্যায়ন করব। এতে আগের শ্রেণিতে কতটুকু শিখেছে আর কী ঘাটতি আছে তা চিহ্নিত করা হবে। পরের শ্রেণিতে লেখাপড়ার জন্য অত্যাবশ্যক কী শেখা বাকি আছে, বয়স ও শ্রেণি অনুযায়ী যা শেখা দরকার ছিল সেটা শিখতে পেরেছে কিনা ইত্যাদি নির্ণয় করা হবে। পরে এর ভিত্তিতে একটি ‘রিম্যাডিয়াল প্যাকেজ’ (ঘাটতি দূর করার সিলেবাস) তৈরি করা হবে। সেটা পরের শ্রেণিতে ‘পুনঃপাঠ’ হিসেবে পড়ানো হবে। তিনি আরও বলেন, একটা শ্রেণিতে সব শিক্ষার্থী সমান পারদর্শী থাকে না। যারা নানান কারণে কম শিখেছে তাদের প্রতি বিশেষ যত্ন নিতে শিক্ষকদের বলা হবে। এটা পরবর্তী শ্রেণিতে নিশ্চিত করা হবে।
শিক্ষাবার্তা/এসআই

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.