৪ লাখ শিক্ষকের প্রশিক্ষণ শুরু ১ ফেব্রুয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে অন্যতম কারিগর হলেন শিক্ষকেরা। কিন্তু সেই শিক্ষকেরাই এখনো প্রস্তুত নন। শিক্ষাক্রম শুরুর পর এখন মাধ্যমিক শিক্ষকদের পাঁচ দিনের সশরীর প্রশিক্ষণটি অন্তত শুরু হলেও প্রাথমিকের শিক্ষকদের তা শুরুই হয়নি।

প্রাথমিকের সূত্রগুলো জানিয়েছে যে, তারা যেভাবে পরিকল্পনাটা করেছেন তাতে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে অনলাইন এবং সশরীরে সারা দেশে প্রায় ৪ লাখ শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজটি শুরু হবে। তার আগে প্রশিক্ষক তৈরির জন্য প্রশিক্ষণটি শেষ করা হবে।

নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন নিয়ে আগে থেকেই প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ ছিল। পরিকল্পনা ছিল, গত বছর প্রাথমিকের প্রথম শ্রেণিতে পরীক্ষামূলকভাবে নির্ধারিত কিছুসংখ্যক বিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন করে পরিস্থিতি দেখে এ বছর সব বিদ্যালয়ে চালু করা। কিন্তু পরীক্ষামূলক বাস্তবায়ন ছাড়াই এ বছর সরাসরি প্রথম শ্রেণিতে তা চালু করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রথমে পরিকল্পনা করা হয়েছিল এ বছর প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে তা চালু করা হবে, কিন্তু এ বছর কেবল প্রথম শ্রেণিতেই তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আর এখন প্রশিক্ষণেও ঢিলেমির অভিযোগ উঠেছে।

নতুন শিক্ষাক্রমের বিষয়ে প্রাথমিকের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে এনসিটিবির সদস্য (প্রাথমিক শিক্ষাক্রম) এ কে এম রিয়াজুল হাসান বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে ডিসেম্বরে মাসব্যাপী ডিপ্লোমা ইন প্রাইমারি এডুকেশন কোর্সের শিক্ষকদের পরীক্ষা ছিল। এ ছাড়া ওই মাসে দেশব্যাপী ন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসেসমেন্ট হয়েছে। আবার ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ছিল এবং বছরের শুরুতে বই উৎসব থাকায় প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণে কিছুটা দেরি হচ্ছে। এখন শিগগির তা শুরু হবে।

প্রশ্ন উঠেছে, দীর্ঘ সময় নিয়ে নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি এখন শুরু হবে, তা–ও অনেক আগেই নির্ধারিত। কিন্তু নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/১৪/২৩