প্রাথমিক উপবৃত্তি এককভাবে নগদের মাধ্যমে বিতরণের সুপারিশ

শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা শুধুমাত্র মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নগদের মাধ্যমে বিতরণের সুপারিশ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। বর্তমানে উপকারভোগীরা যেকোনো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে উপবৃত্তির টাকা গ্রহণ করতে পারছেন। প্রস্তাবটি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত হলে, সারা দেশে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং পাশাপাশি সুবিধাভোগী যাদের নগদ অ্যাকাউন্ট নেই তাদেরও নতুন করে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে।

শুধুমাত্র নগদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা বিতরণের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ রেজওয়ান হায়াত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে জানুয়ারী ১ তারিখে লেখা এক চিঠিতে প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম বাস্তবায়ন নির্দেশিকা ২০২১ ও প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম বাস্তবায়ন ম্যানুয়াল ২০২১ সংশোধন করার অনুরোধ করেন।

বর্তমান নির্দেশিকা অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তির টাকা পাবে বাবা-মা অথবা বৈধ আভিভাবকের পছন্দ অনুযায়ী নিবন্ধিত মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সুপারিশ অনুযায়ী উপবৃত্তি বিতরণ করতে হবে শুধুমাত্র নগদের মাধ্যমে।

নির্দেশিকায় বলা আছে স্কুলে ভর্তির সময় বা শিক্ষাবর্ষের শুরুতে শিক্ষার্থীর পিতা-মাতা অথবা বৈধ আভিভাবক শ্রেণী শিক্ষকের কাছে সচল মোবাইল ব্যাংকিং নাম্বার ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য নথিপত্র জমা দিবেন। শিক্ষার্থীর আভিভাবক নগদ, বিকাশ, রকেট, শিওরক্যাশ, টি-ক্যাশ এবং উপায়-এর যেকোনো একটি বেছে নিতে পারবেন।

তবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং পিতামাতারা তাদের সুবিধা অনুযায়ী পছন্দের পরিষেবা বেছে নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন।

এতিমখানা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাস করা শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদান করা হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে। তাদের মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয় উপবৃত্তির টাকা।

যোগাযোগ করলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ রেজওয়ান হায়াত বলেন, একক পরিষেবার কার্যক্রম নিরীক্ষা করা সহজ। তাদের (নগদের) পারফরম্যান্সও ভাল।’

মার্চ ২০১৯-এ প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সাময়িক অনুমতি নিয়ে সকল কার্যক্রম চালিয়ে আসছে নগদ।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক লার্নেশিয়া-এর সিনিয়র পলিসি ফেলো আবু সাঈদ খান বলেন, নগদ মুনাফা অর্জনের জন্য পোস্ট অফিসকে ব্যবহার করছে।

“ব্যক্তিগত মুনাফা করার জন্য সরকারি তহবিল ব্যবহার করা উচিত নয়। একটি সরকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে মুনাফা করছে একটি বেসরকারী সংস্থা। অধিদপ্তরের কোনো অধিকার নেই (উপবৃত্তি) প্রাপকদের পছন্দের স্বাধীনতা রহিত করার। এমনকি পেনশনভোগীরাও তাদের পছন্দের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পেয়ে থাকেন,” তিনি বলেন। তিনি আর‌ও বলেন আগে পেনশনভোগীরা শুধু রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পেতেন।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এই পদক্ষেপ প্রতিযোগিতা আইনেরও লঙ্ঘন বলে অভিমত দেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহমেদ বলেন, তিনি এখনও অধিদপ্তরের দেয়া চিঠি দেখার সুযোগ পাননি। ‘আমরা তাদের অনুরোধ বিশ্লেষণ করব এবং এই বিষয়ে অর্থ বিভাগের পরামর্শ নিয়ে সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত করবো,’ তিনি বলেন।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/১৩/২৩