প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে পদ সংখ্যা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল

নিউজ ডেস্ক।।

চলতি মাসেই প্রকাশ হচ্ছে প্রাথমিকের নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল। তবে এবার আগের ঘোষণা থেকে সরে এসে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কম। অর্থাৎ প্রথম ঘোষণার ৪৫ হাজার শিক্ষকের বদলে সাড়ে ৩২ হাজার শিক্ষকই নিয়োগ দেয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্র মতে, ৪৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত এলেও মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় ৩২ হাজার ৫৭৭ পদেই এ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক শাহ রেজওয়ান হায়াত এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, চলতি নভেম্বর মাসেই এ নিয়োগের ফল প্রকাশ করা হবে। আমরা বুয়েটকে সব বুঝিয়ে দিয়েছি। তারাই এ ফল প্রকাশ করবে।
এর আগে দু’বছর আগে অর্থাৎ ২০২০ সালে অক্টোবরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে ২৫ হাজার ৬৩০ জন এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শূন্যপদে ছয় হাজার ৯৪৭ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন। তবে চলতি মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত এক সভায় ৩২ হাজারের পরিবর্তে ৪৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায়। এ দিকে অধিদফতরের একটি সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় ৩২ হাজার ৫৭৭ পদেই শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। কবে ফল প্রকাশ করা হবে তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, সারা দেশে ৬৫ হাজার ৫৬৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষক আছেন প্রায় পৌনে চার লাখ। শিক্ষক নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা তিন ধাপে নেয়া হলেও চূড়ান্ত ফল একবারেই প্রকাশ করা হবে। প্রথম ধাপের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৪০ হাজার ৮৬২ জন, দ্বিতীয় ধাপে ৫৩ হাজার ৫৯৫ এবং তৃতীয় ধাপে ৫৭ হাজার ৩৬৮ জন। এ নিয়োগ পরীক্ষায় আবেদন করেন ১৩ লাখ ৯ হাজার ৪৬১ প্রার্থী। গত অক্টোবরে মৌখিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে।
চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগে এভাবে পদ সংখ্যা কম হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা। তারা বলছেন, দীর্ঘ দিন নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় প্রাথমিকে আরো ১০ হাজার পদ শূন্য হয়। পরবর্তী সময়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পদ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিষয়টি নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করা হয়। বৈঠকের পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের একাধিক কর্মকর্তা ৪৫ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগের কথা জানান।
এমনকি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদ্য বিদায়ী সিনিয়র সচিব আমিনুল ইসলামও পদ সংখ্যা বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছিলেন। তবে মন্ত্রণালয় এবং অধিদফতরের কিছু কর্মকর্তার কারণে সেই উদ্যোগ বাতিল হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, আমরা ৪৫ হাজার পদেই শিক্ষক নিয়োগ দিতে চেয়েছিলাম। পদ সংখ্যা ৪৫ হাজার ধরেই লিখিত পরীক্ষায় দেড় লাখ প্রার্থীকে উত্তীর্ণ করা হয়েছিল। ১:৩ ফরম্যাটে নিয়োগ হওয়ার কথা ছিল। তবে কিছু কর্মকর্তার আপত্তির কারণে শেষ সময় সেটি বাতিল করা হয়েছে।