প্রাথমিকে পাইলটিং শুরু আগস্টে

নিউজ ডেস্ক।।

প্রাথমিকে নতুন কারিকুলামের পাইলটিং শুরু হবে আগামী মাসে। প্রথম শ্রেণির পাইলটিং ক্লাস করানোর জন্য নতুন বই প্রায় চূড়ান্ত। এর আগে নতুন কারিকুলামের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে শিক্ষকদের।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলার নির্বাচিত ৬৫টি বিদ্যালয়ে নতুন কারিকুলামের পাইলটিং ক্লাস করানো হবে। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৪০টি, এবতেদায়ি মাদ্রাসা ৮টি, কিন্ডারগার্টেন ১৫টি, উচ্চ বিদ্যালয় সংযুক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় দুটি। ডিসেম্বরের মধ্যে পাইলটিং শেষ করা হবে। ২০২৩ সাল থেকে এটি সব স্কুলে কার্যকর করা হবে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি ৬১টি স্কুল, কারিগরি ও মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণিতে পাইলটিং শুরু হয়। প্রাথমিকেও একই সময়ে শুরুর কথা ছিল। তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এনসিটিবির সমন্বয়হীনতার কারণে কাজ পিছিয়ে যায় বলে জানা গেছে।

১০০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাইলটিংয়ের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে গত বছরের ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল এনসিটিবি। কিন্তু তা অনুমোদন করেনি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। মূলত মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে এনসিটিবির মতপার্থক্যের কারণেই প্রাথমিকের পাইলটিং পিছিয়েছে। এনসিটিবির সদস্য (প্রাথমিক শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. একেএম রিয়াজুল হাসান গতকাল সোমবার আমাদের সময়কে বলেন, আমাদের প্রস্তুতি শেষের দিকে। আশা করছি, আগস্ট মাসেই নির্বাচিত ৬৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন কারিকুলামে পাইলটিং ক্লাস শুরু করা যাবে। অনেকগুলো ধাপ অনুসরণ করে প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। এ জন্য কিছুটা বিলম্ব হয়েছে পাইলটিংয়ে যেতে।

এনসিটিবির কর্মকর্তারা জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের কারিকুলাম আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত চলমান শিক্ষাক্রমের ভুলত্রুটি সংশোধন, আন্তর্জাতিক মান ও সময়ের চাহিদা বিবেচনা করে এ পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেয় সরকার।

জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা-২০২১ বাস্তবায়ন হলে মাধ্যমিকে থাকবে না কোনো বিভাগ বিভাজন। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির সবাইকে পড়তে হবে ১০টি বিষয়। দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচির ওপরেই হবে এসএসসি পরীক্ষা। একাদশ শ্রেণিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বিভাগ পছন্দ করতে হবে। প্রাথমিকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা থাকছে না। চতুর্থ থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে শিখনকালীন মূল্যায়নেই বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। জেএসসি ও পিইসি পরীক্ষাও থাকবে না।

২০২৩ সালে প্রথম শ্রেণি এবং ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন শুরু করা হবে। ২০২৪ সালে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি এবং অষ্টম ও নবম শ্রেণি এ শিক্ষাক্রমের আওতায় আসবে। ২০২৫ সালে পঞ্চম ও দশম শ্রেণি যুক্ত হবে। ২০২৬ সালে একাদশ ও ২০২৭ সালে দ্বাদশ শ্রেণি যুক্ত হবে।