প্রাথমিকে ঝুলছে ৩ হাজার মামলা

নিউজ ডেস্ক।।

প্রাথমিক শিক্ষা খাতে প্রায় পৌনে চার লাখের বেশি জনগোষ্ঠী কাজ করছে। এত বড় অংশ জনবলকে পরিচালনা করতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। বিশেষ করে পদোন্নতি, চলতি দায়িত্ব, টাইম স্কেল, চাকরি জাতীয়করণের হাজার হাজার মামলা ঝুলে আছে। করোনার কারণে মামলার ধীরগতি প্রকট আকার ধারণ করে।

গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২০ সালের জরিপ অনুযায়ী, দেশে ৬৫ হাজার ৫৬৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে তিন লাখ ৬৭ হাজার ৪৮০ জন শিক্ষক রয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৩১ হাজার ৫৬৯ জন, মহিলা দুই লাখ ৩৫ হাজার ৯১১ জন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি উচ্চ আদালতের সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রাথমিকে মোট মামলার সংখ্যা তিন হাজার ৫২টি। এর মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অনিষ্পন্ন মামলার সংখ্যা দুই হাজার ৮৯৪টি। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মোট মামলা ৭৮টি। বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ইউনিটের মোট মামলার সংখ্যা ৬৬টি। এসব মামলা থেকে নিষ্পত্তিকৃত মামলার সংখ্যা মাত্র ১৩টি। এর বাইরেও মাঠপর্যায়ের লোকালি কিছু মামলা, জমি-জমা সংক্রান্ত দেওয়ানি মামলাও আছে।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, ন্যায্য অধিকার এবং যৌক্তিক দাবিগুলো না মানার কারণেই সর্বশেষ পর্যায়ে তারা উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হচ্ছেন। এরপরও পাচ্ছেন না কোনো প্রতিকার। বছরের পর বছর এসব মামলা ঝুলে থাকায় ক্ষতির শিকার হচ্ছেন বলে অনেকেরই অভিযোগ। বর্তমানে বিষয়গুলো নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষার সাথে জড়িত অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করে। এরই মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেসব শিক্ষক পদে মামলা চলমান রয়েছে তাদের বদলির আবেদন না নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

বর্তমানে বিষয়টা নিয়ে অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেছেন। ২০২০ সালের ১২ আগস্ট বেসরকারি থেকে সরকারি হওয়া প্রাথমিক শিক্ষকদের ‘টাইম স্কেল’-এর সুবিধা ফেরত দেয়ার বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় একটি পরিপত্র জারি করে। ২০১৩-১৪ সালে জাতীয়করণ হওয়া দেশের ৪৮ হাজার ৭২০ শিক্ষকের টাইম স্কেল-সংক্রান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠির বিষয়ে রিট করে।

ওই বছরেরই ৩১ আগস্ট বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক কল্যাণ সমিতির পক্ষে সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাজশাহীর গাঙ্গোপাড়া বাগমারার প্রধান শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমানসহ অন্যান্য শিক্ষকরা বাদী হয়ে হাইকোর্টে এ রিট করেন।

সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে কথা হলে প্রধান শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান   জানান, আমাদের প্রাপ্যতা বাতিল করে তৎকালীন সময়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটা চিঠি পাঠানো হয়। ৪৮ হাজার শিক্ষকের পক্ষে চিঠি বাতিল চেয়ে আমরা রিট করি। তিনি বলেন, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে একটা রায় হয়েছে আমাদের পক্ষে।

তিনি বলেন, আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে প্রশাসনিকভাবে আপিল করা হবে না। চিঠিটা বাতিল হলে আমরা শিক্ষকরা উপকৃত হবো। প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা করোনার জন্য এই মামলায় পিছিয়ে পড়েছি। প্রায় দেড় বছর হলো মামলাটা চলছে। আশা করছি দ্রুতই এর সমাধান হবে। মামলার কারণে বদলি হওয়া যাবে না। বিষয়টা অমানবিক বলেও মন্তব্য করেন এ শিক্ষক নেতা।

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আইন সেলের সহকারী পরিচালক মো. আতাউর রহমান  বলেন, আমাদের প্রশাসনিক মামলার কিছু রায় হয়েছে। বিশেষ করে প্রধান শিক্ষক পদে কিছু রায় হয়েছে। অনেক মামলা নিম্ন আদালতে রায় পেলে পরবর্তীতে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করি। অনেক মামলার আপিল পেন্ডিং থাকে এখানে সময়ের ব্যাপার।

তিনি বলেন, টাইম স্কেলের একটা মামলা শিক্ষকদের পক্ষে রায় গেছে। এ টাইম স্কেলটা অনিয়মতান্ত্রিকভাবে হয়ে গেছে। যে পরিপত্র জারি করা হয়েছিল সেটা আসলে সঠিক ছিল না। এটাও প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে শিক্ষকরা রায় পেয়ে গেছে। আমরা আপিল করার প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছি।

আতাউর রহমান বলেন, চলতি দায়িত্বের পদোন্নতি নিয়ে বেশ কিছু মামলা হয়েছে। এখানে মূল সমস্যা হচ্ছে গ্রেডেশন তালিকা নিয়ে। যেখানে গ্রেডেশনের সমস্যা হয়ে আছে সেখানে আমরা পদোন্নতি দিতে পারিনি। যারা মামলা করেছে তাদের দাবি তারা যেদিন থেকে প্রকল্পে যোগদান করেছেন, সেদিন থেকে সিনিয়রিটি দেয়া হোক। এটা নিয়েই মূলত ঝামেলা চলছে। এটা পিএসসি ঠিক করে দেবে। পদোন্নতির বিষয়ে অনেকগুলো জেলার সবকিছু রেডি করা হয়েছিল। মামলাজনিত কারণে এটা আটকে গেছে। আবার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, অনলাইন সিস্টেমে গিয়ে গ্রেডেশন তালিকা তৈরি করা হবে।