প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড যৌক্তিক দাবি

 মুন্নাফ হোসেন।।

মানুষ গড়ার কারিগর হচ্ছেন একজন শিক্ষক। অতি যত্নের সাথে একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন। অথচ প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন, যা দিয়ে নুন আনতে পান্তা ফুরায়।

|আরো খবর
মিথ্যা বলছেন আইনমন্ত্রী, দাবি রিজভীর
ভিকারুননিসার অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি
ওয়াটারএইডে চাকরি, বেতন ৬৫ হাজার
আগে সহকারী শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল পুরুষদের স্নাতক এবং নারীদের এসএসসি। কিন্তু নতুন নীতিমালায় সহকারী শিক্ষকদের নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতক করা হয়েছে। স্নাতক পাশে যোগ্যতা অনুযায়ী দ্বিতীয় শ্রেণির ১০ম গ্রেড পাওয়ার যোগ্য। অথচ যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সহকারী শিক্ষকরা তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী। নিম্নমানের বেতন ভাতার কারণে উচ্চ শিক্ষিতরা শিক্ষকতা পেশায় আসতে চায় না। অথচ সমযোগ্যতায় অন্যান্য অধিদপ্তরে ১০ম গ্রেডে বেতন পায়।

তাহলে প্রাথমিকের শিক্ষকের বেলায় বিমাতৃসুলভ আচরণ কেন?

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শিক্ষকদের ভিআইপি মর্যাদা দেয়া হয়। অথচ বাংলাদেশের শিক্ষকরা তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী। আর একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী থেকে দেশ ভালো কিছু আশা করতে পারে না। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে; কিন্তু শিক্ষকদের ভাগ্যের চাকা ঘুরছে না।

প্রাথমিকের একজন প্রধান শিক্ষকের শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি সকল প্রশাসনিক কাজ করতে হয়। অথচ তাদের ১১তম গ্রেডে বেতন দেয়া হয়।

মাধ্যমিকের একজন সিনিয়র শিক্ষক ৯ম গ্রেডে বেতন পান। আর প্রধানশিক্ষক ৭ম গ্রেডে বেতন পান। অথচ প্রাথমিক শিক্ষকদের বেলায় ঠনঠন। ঘরে খাবার না থাকলে সম্মান ধুয়ে পানি পান করলে দিন চলবে না।

আজকাল একজন শিক্ষিত মেয়ে প্রাথমিক শিক্ষকদের বিয়ে করতে চায় না এটা ভেবে যে, একজন শিক্ষক এই সামান্য বেতনে সংসার চালাবে কিভাবে? শিক্ষকতা সম্মানের পেশা; কিন্তু তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী। এ অভিশাপ থেকে প্রাথমিকের শিক্ষকরা মুক্তি চায়। যোগ্যতা অনুযায়ী সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড, প্রধানশিক্ষকদের ৯ম গ্রেড, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার ৮ম এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের ৭ম গ্রেডে বেতন দেয়া উচিত।

মানসম্মত শিক্ষা পেতে হলে শিক্ষকদের বেতনভাতা বৃদ্ধি করতে হবে। যোগ্যতার মাপকাঠি সকল স্তরে সঠিক রাখতে হবে, তবেই দেশ এগিয়ে যাবে।

তাই প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড এবং প্রধানশিক্ষকদের ৯ম গ্রেডে বেতন প্রদানের পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

লেখক: সহকারী শিক্ষক, মমিনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধনবাড়ী, টাংগাইল।