প্রাথমিকের শিক্ষকরাই শ্রেষ্ঠ আবিষ্কারক

সাদামাটা একটা কাচা মাটির শরীরওয়ালা অবুঝ শিশু প্রাথমিক স্কুলে ভর্তি করা হয়। যে বয়সে শিশুটিকে প্রাথমিকে ভর্তি করা হয়,তখন সে শিশুটি একা একা কোনো কাজ করতে পারে না,এমন কি ওই বয়সে একা একা খাবারও খেতে পারেনা। এরকম একটা কাচা মাটির মগজে বর্ণমালা ঢুকিয়ে দিয়ে বর্ণের ব্যবহার কিভাবে করতে হয়, বর্ণ দিয়ে শব্দ তৈরি কিভাবে করতে হয় এসব বিষয় শিখানোর মত কঠিন কাজটি প্রাথমিকের শিক্ষকরা করে থাকেন।

একটা অবুঝ শিশুকে নৈতিকতা শিক্ষা দেওয়া,ভালোমন্দ শিক্ষা দেওয়ার কাজটি প্রাথমিকের শিক্ষকরাই করে থাকেন। একটা কাঁচা মাটির পুতুলকে মানুষের রূপ দিতে কত কষ্ট করতে হয় তা কেবল প্রাথমিক শিক্ষকরাই জানেন। প্রাথমিক শিক্ষকের গড়ে তোলা সেই বালককে পরবর্তী জীবনে উচ্চ শিক্ষা দেন অন্য শিক্ষকরা।

আমরা প্রাথমিকের শিক্ষকরা কোনো না কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছ থেকেই বর্ণমালা-বর্ণমালার ব্যবহার, ভালোমন্দ এবং নৈতিকতা শিখেছি।পরবর্তীতে মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ ইউনিভার্সিটিতেও পড়ালেখা করেছি। উচ্চ মাধ্যমিক এবং ইউনিভার্সিটি লেভেলে আমাদের স্যাররা লেকচার দিয়েছে,আমরা সেখান থেকে বুঝে নিয়েছি, তাদের খুব একটা কষ্ট করে আমাদের মগজে ঢুকিয়ে দিতে হয়নি। প্রাথমিক শিক্ষরা একটি শিশুকে হেঁটে চলাচল করা শিখায়,আর অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সম্মানিত শিক্ষক মহোদয়গন রাস্তা দেখিয়ে দেয়।

তাই বলি কি প্রাথমিকের শিক্ষকরা হাতে কলমে আবিষ্কারক। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই আবিষ্কার যারা করেন, তারা এই রাষ্ট্রের তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী। তাদের জীবন মান অনুন্নত, রাষ্ট্রের কাছে এর দাম নগণ্য। তাই বলি কি জাতির আবিষ্কারক প্রাথমিক শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার ১১ তম গ্রেড সহ ১০০% পদোন্নতি দিয়ে চরম বৈষম্য থেকে মুক্তি দিন।