প্রাথমিকের মাত্র ২টি বই পেয়েছে এক জেলার ২ লাখ শিক্ষার্থী

শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃ লক্ষ্মীপুর জেলায় ১ জানুয়ারি উৎসব করে বই বিতরণ শুরু হলেও এখনও সব বই হাতে পায়নি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় দুই লাখ শিক্ষার্থী। এ বছর যথাসময়ে বই সরবরাহ না করায় ১৫ দিন হয়ে গেলেও জেলার শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছাতে পারেনি বলে জানিয়েছেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।

যদিও বছরের শুরুতে জেলার দুই সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন খান ও নূরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন বই বিতরণ শুরু করেছিলেন। প্রথমদিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীর হাতে বই তুলে দিলেও প্রথম-দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রছাত্রীর হাতে বই দিতে পারেনি কোনও বিদ্যালয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বছরের শুরুতে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীকে ছয়টি বইয়ের মধ্যে দুটি দিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বছরের ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও বাকি চারটি বই এখনও পায়নি শিক্ষার্থীরা।

জেলার কয়েকটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, জেলার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ৭০ হাজার শিক্ষার্থীর হাতে ১২ জানুয়ারি শুধুমাত্র বাংলা বই দিলেও গণিত এবং ইংরেজি দেওয়া যায়নি। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির প্রায় সোয়া এক লাখ শিক্ষার্থী বাংলা ও ইংরেজি বই পেয়েছে। গণিত, সমাজ বিজ্ঞান, সাধারণ বিজ্ঞান এবং জীবন ও জীবিকা বই জেলায় না পৌঁছায় শিক্ষার্থীদের দিতে পারেনি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

লক্ষ্মীপুর সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর ভাষ্য, ‘আমি একটি বই পেয়েছি। সবগুলো বই পেলে ভালো লাগতো। সবগুলো বই না পাওয়ায় আমার মন খারাপ।’

লক্ষ্মীপুর টাউন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ভাষ্য, ‘ছয়টি বইয়ের মধ্যে দুটি পেয়েছি। এখন বিদ্যালয়ে দুই বিষয়ের ক্লাস হয়। সবগুলো বই পেলে খুশি হতাম। পড়ালেখা ভালোভাবে করতে পারতাম।’

লক্ষ্মীপুর টাউন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামিমা সুলতানা বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির বাংলা বই ১১ জানুয়ারি হাতে পেয়েছি। বছরের শুরুতে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির বাংলা-ইংরেজি বই পেয়েছে শিক্ষার্থীরা। বাকি বই না আসায় শিক্ষার্থীদের দিতে পারিনি।’

এদিকে, যথাসময়ে বই হাতে না পাওয়ায় বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী উপস্থিতির হার কম। শিশুরা বই না পাওয়ায় বিদ্যালয়ে আসতে চায় না বলে জানিয়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।

লক্ষ্মীপুর টাউন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর বাবা শাহে আলম বলেন, ‌‘আমার মেয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। ছয়টি বইয়ের মধ্যে দুটি পেয়েছে। বাকিগুলো এখনও পায়নি।’

লক্ষ্মীপুর সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মারুফা আক্তার বলেন, ‘আমার মেয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। ১০ জানুয়ারি শুধুমাত্র বাংলা বই পেয়েছে। বাকি বই এখনও পায়নি। শিক্ষকরা জানিয়েছেন বই আসেনি।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরও বিদ্যালয়ের দুই অভিভাবক জানান, ছাত্রছাত্রীরা বই না পাওয়ায় বাড়িতে পড়ালেখা করে না। বিদ্যালয়ে আসতে চায় না। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ছয়টি বইয়ের মধ্যে দুটি পেয়েছে শিক্ষার্থীরা। অন্যান্য বছর এ সময়ে বিদ্যালয়গুলোতে সব বিষয় পড়ানো হলেও এখন দুই বিষয়ে পড়ানো হচ্ছে। এতে অন্য জেলার ছাত্রছাত্রীদের থেকে এই জেলার ছাত্রছাত্রীরা পিছিয়ে পড়বে বলে শঙ্কা অভিভাবকদের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনছুর আলী চৌধুরী বলেন, ‘জেলায় ৭৩২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক লাখ ৯৮ হাজার ৪৩০ শিক্ষার্থী রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনও শিক্ষার্থী সব বিষয়ের বই পায়নি। প্রেস থেকে না আসায় যথা সময়ে বিদ্যালয়গুলোতে বই পৌঁছাতে পারছি না আমরা। আগামী সপ্তাহের মধ্যে সব বিদ্যালয়ে বই পৌঁছাতে পারবো বলে আশা করছি। তবে সব বিষয়ের বই পাবো কিনা তা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।’

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/১৫/২৩