প্রসঙ্গ: প্রাথমিক শিক্ষায় গ্রামের অনলাইন ক্লাস বিড়ম্বনা

প্রকাশিত: ৭:৪১ অপরাহ্ণ, সোম, ৭ জুন ২১

জাহাঙ্গীর বাবু।।

মন্দের ভালো অনলাইন ক্লাস,তবে যারা একটু অভ্যস্থ ,যারা গত বছর ধরে চলা অদ্যাবধি টাকার শ্রাদ্ধ করে প্রাইভেট পড়েছে তাদের জন্যই মন্দের ভালো অনলাইন ক্লাস। বই দেখে লেখা এসাইনমেন্ট শিক্ষা ব্যাবস্থায় চরম উপহাস,গুগল মিট ক্লাস গ্রাম গঞ্জ প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের সাথে তাদের পরিবার অভিভাবকের সাথে নিষ্টুর রসিকতা, ক্ষেত্র বিশেষে শিক্ষকদের জন্য কখনো লজ্জাকর,শিক্ষক,ছাত্র ছাত্রী আর অভিবাকের জন্য বিড়ম্বনা ।

বার বার ফোন করে অভিবাকের বিরক্তিকর অভিব্যক্তির শিকার হন শিক্ষক .গ্রাম গঞ্জের অভিভাবক গণ খেটে খাওয়া মানুষ ,তারা শহরে ৯-৫ টা কিংবা লকডাউনে আটকে পড়া অভিভাবক নন.গ্রাম গঞ্জের এক ধরনের অভিবাবক সন্তান স্কুলে গেলে হাফ ছেড়ে বাঁচেন ,আরেক শ্রেণীর অভিভাবক স্কুল বন্ধ থাকলে নিজের সাথে কাজে রাখতে ভালোবাসেন।বন্ধের কারনে গ্রামের শিক্ষা ব্যবস্থা শতভাগ ক্ষতিগ্রস্থ।

অধিকতর শহর,দু একটা উপজেলা এবং জেলার বাইরের ,অনলাইন ক্লাসের গ্রামীণ তথা কথিত আধুনিকতায় যাদের স্মার্ট ফোন ,টাচ ফোন আছে,তারা না হয়,কিছুটা উপকৃত হলো,যারা বাটন মোবাইল ব্যাবহার করে,তাদের সাথে অনলাইন ক্লাস এক রকম আদিখ্যেতা , রীতিমত প্রহসন।একটা স্মার্টফোন না থাকার অপরাধে কোন অক্ষম অভিভাবক হযত নিজেকে ধিক্কার দেন ।

শিক্ষা নিয়ে উদবিগ্ন নীতিনির্ধারক গন আপনারাও জানেন, আমরা কাগজে কলমে ডিজিটাল, সবাই না ডিজিটাল নই ,দুই এরো চিহ্নের ডাটা অন করতে, লজ্জা নিয়ে জানা লোকের কাছে ছুটেন না হয় যান ফ্লেক্সির দোকানে।ডিজিটাল হতে একটু সময় লাগবে। ব্ল্যাক বোর্ডের সামনে প্রশিক্ষিতশিক্ষকের আঁকা বাঁকা এবড়ো থেবড়ো অক্ষর গুলো দুর্বল নেটে ঘুরতে থাকা চাকায় সোজা হতে সময় নেবে। গ্রাম অঞ্চলের আঞ্চলিক ভোকাল কর্ডের শুদ্ধ উচ্চারনেও সময় নেবে।মোবাইলের রোটেশন ওয়াইড এংগেল ঠিক হলেও ভার্টিকেল থোবড়া হরিজেন্টাল দেখাবেই ।

অনেক প্রতিষ্ঠান প্রধান এর চাপে পড়ে ,প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যাগে ,অনেকেই নিজ উদ্যোগেও অনলাইনে টুয়েন্টি টুয়েন্টির এপ্রিল মে থেকে বছর ধরে ক্লাস নিচ্ছেন জুম এর মাধ্যমে জেলা শহর গুলিতে । সরকারি সম্প্রচারের পাশাপাশি ,সায়ত্বশাষিত প্রতিষ্টান ,বেসরকারি প্রতিষ্টান , অনলাইন গ্রূপ বা ব্যক্তিগত ভাবে ফেসবুক, ইউটিউবে আপলোড দিয়েছেন। কেউ ইমুতেও দায় সারছেন।বাটন ফোনে প্রতিদিন পাঁচ জনকে ফোন দিয়ে পৃষ্ঠা নম্বর বলে প্রতিষ্টান প্রধানের কাছে জমা দিচ্ছেন সহকারী শিক্ষক গণ ,গ্রামে যা মোটেই কার্যকরী নয়,পড়া দিতে চাইলে ছাত্র বলে শোনা যায়না ,অভিভাবক বলেন এই সব রেখে স্কুল খুলেন আমাদের কাজ আছে।

এবার গুগল মিটের লিংক সেট আপ করতে মোবাইলে ঘন্টার পর ঘন্টা অভিভাবকদের হয়রানি করছেন ,শিক্ষক নিজেরাও হচ্ছেন বিব্রত। কোন শিক্ষক বাড়ি গিয়ে ঠিক করে দিলেও শুনছেন টিপ্পনি ,যেমন বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষকরা খোঁজ নিলে অভিভাবকরা বলেন ,একটু কষ্ট করুক ,সরকারি টাকা খেয়ে শরীরে অনেক তেল হয়েছে, বিদ্যুৎ বিভ্রাট নামের লোড শেডিংএর ঘাপলা রয়েই যায়। লিংক চেপে ক্লাসে ঢুকতে ঢুকতে পড়ার সময় শেষ.

আমি যে এলাকায় থাকি সেখানে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তালা নারিকেল তেল দিয়ে কদাচিৎ খোলা হয়।এখানকার নব্বই ভাগ শিশুরা মিল ফ্যাক্টরিতে কাজে ঢুকে গেছে।আমার কাছে শিশু কিশোরদের জন্য চাকরি চাইতে আসে অভিভাবক গণ ।দেশ কোন কোন জেলা উপজেলায় অনলাইন শিক্ষায় সোচ্চার হলেও বেশির ভাগ উপজেলা, থানা, গ্রাম পর্যায়ে স্কুলের মতো অন্ধকারে নিমজ্জিত শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সবাই।অথচ একই দেশ.!

একই শিক্ষা ব্যাবস্থায় গরীব দরিদ্র শ্রেনী শিক্ষা একেবারে শেষ হয়ে গেল! গোবরে যে পদ্ম ফুল ফুটতো এবার আর ফুটবে না.প্রাইভেট,কোচিং
না পড়ে ,ঝরে পড়াদের পেছনে ফেলে যে কজন মাধ্যমিক,উচ্চমাধ্যমিক এর গন্ডি পার হতো প্রকৃতিগত ভাবে ,প্রকৃতির বিরাগে নীতি নির্ধারকদের অতিসাবধানতায় ,তারা এবার কোরোনায় কোভিড উনিশে ঝরে গেলো। শুরু থেকে মদ্যবিত্ত,নিন্ম মধ্যবিত্ত,এমনকি উচ্চবিত্ত শিক্ষার্থীদের চোখ গেলেও অর্থ ব্যয় করা ছাত্র গুলো কিছুটা শিক্ষার সাথে রইলো।আর যাদের স্মার্ট ফোন নেই ,প্রতি ক্লাসের, প্রতি স্কুলের এক জন অভিবাক হলেও লজ্জা পেলো কারণ তার স্মার্ট ফোন নেই,ডাটা কেনার টাকা নেই।

দূর হোক করোনা,খুলে যাক স্কুল, শিশু কিশোরদের পদচারণায় মুখরিত হোক শিক্ষাঙ্গন। শিক্ষকরা বাঁচুক অহেতুক পেরেশানি থেকে,,আমজনতার বাক্য থেকে রক্ষা পাক সন্মানিত শিক্ষক বৃন্দ।বসে বসেই বেতন নেয়ার অপবাদ ঘুচুক।অনেক শিক্ষক অন্তর জ্বালায় ভুগছেন,শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অফিশিয়াল চাপে বিব্রত হচ্ছেন। অনেক শিক্ষক মানসিক চাপে আছেন প্রাণের সন্তানদের পোড়ানোর নেশায়।শিক্ষা ধ্বংস আগামীর প্রজন্ম ধংস। আদিকালের মতো এক শ্রেণী শিক্ষিত হবে ,আরেক শ্রেণী রয়ে যাবে অশিক্ষিত।এর দায়ভার আমাদের সবার।সর্বাগ্রে আইন প্রণেতাদের,পরিকল্পনাকারীদের ,নীতিনির্ধারকদের ,ইতিহাস সাক্ষী হবে ,আফসো করবো হয়তো ।

লেখক-

প্রজেক্ট ম্যানেজার (নির্মাণ)
এ সি আই করো বাংলাদেশ জুস্ ফ্যাক্টরি

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.