প্রশ্ন ফাঁস, নজরদারিতে ৩ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

চলতি এসএসসি পরীক্ষায় ম্যানুয়ালি ফাঁস হয়েছে প্রশ্নপত্র। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতের অভিযোগ পাওয়া গেছে কেন্দ্রের সচিব, শিক্ষক ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। কয়েকজন প্রেস কর্মচারীও আছেন নজরদারিতে। ম্যানুয়ালি ছাড়াও এবার ৩টি চক্র হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা। আবার ভুয়া প্রশ্নপত্রও সরবরাহ করেছে একটি চক্র। এ চক্রটি গত বছর মেডিকেল কলেজের প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ছিল। চক্রটিকে গত বছর সিআইডি গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছিল। চক্রটি আবার সেই পুরনো কাণ্ডটি করেছে। এবার এ চক্রের সঙ্গে প্রশ্ন তৈরির স্থান প্রেসের কর্মচারীদের যোগসাজশ খতিয়ে দেখছে সিআইডি।

প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী চক্রটি আগে থেকে ফেসবুকের প্রোফাইল দেখে দেখে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের নামের ডাটা তৈরি করে। পরে চক্রটি পরীক্ষার আগের রাতে ৩টি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে তাদের টার্গেটকৃত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্ন দেয়ার প্রলোভন দেখায়। অনেক শিক্ষার্থী তাদের প্রস্তাব লুফে নেয়। আবার অনেকেই নৈতিকতা রক্ষার্থে রাজি হয়নি। যারা হয়েছেন তাদের গুনতে হয়েছে মোটা অংকের অর্থ।
চক্রটি মোবাইলে কোনো সিম ব্যবহার না করার কারণে তাদের চিহ্নিত করতে বেগ পেতে হচ্ছে সিআইডি’র সাইবার টিমকে। তবে তারা সোশ্যাল মিডিয়া নজরদারিতে রেখেছেন। কোন গ্রুপ থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস করা হয়েছে সেগুলো যাচাই করছেন। খুব শিগগিরই এ চক্রটিকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে সিআইডি। এবার দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন চলতি এসএসসি পরীক্ষায় অন্তত ৪ বিষয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে যে, এই অপকর্মের নেতৃত্বে ছিলেন একজন কেন্দ্র সচিব। ওই কেন্দ্র সচিব একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। ঘটনাটি গত মঙ্গলবার ধরা পড়ে। এরপর গত বুধবার ৪টি বিষয় রসায়ন, গণিত, পদার্থ বিজ্ঞান ও কৃষি শিক্ষা পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এ ছাড়াও গত মঙ্গলবার রাতে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি মামলা হয়। মামলায় উপজেলার নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্রের সচিব মো. লুৎফর রহমান, সহকারী শিক্ষক জোবাইর হোসেন ও আমিনুর রহমান, বিদ্যালয়টির অফিস সহকারী মো. আবু হানিফসহ অজ্ঞাতনামা ১০-১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ বিষয়ে সিআইডি’র সদর দপ্তরের এসপি (সাইবার ইন্টেলিজেন্স) মো. রেজাউল মাসুদ মানবজমিনকে জানান, ‘এবার ঢাকার বাইরে উত্তরবঙ্গে অনেকটা ম্যানুয়ালি প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। অনেকেই গ্রেপ্তার হয়েছেন।

তিনি আরও জানান, পরীক্ষা আসলেই একটি চক্র প্রশ্নপত্র ফাঁসের চেষ্টা চালায়। আমরা সাইবার দুনিয়া নজরদারিতে রেখেছি।’ সিআইডি জানায়, এবার প্রশ্ন ফাঁসকারী চক্রটি খুবই চতুরতার পরিচয় দিয়েছে। তারা পরীক্ষার আগেই প্রশ্ন ফাঁস করেনি। চক্রটি আগে ফেসবুকের মাধ্যমে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের টার্গেট করেছে। সূত্র জানায়, চক্রটি এর আগের বছরে যে মেডিকেল কলেজের ভর্তির প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছে সেই সময় তারা দুইদিন আগেই প্রশ্নপত্র বিভিন্ন গ্রুপের মাধ্যমে ছেড়ে দিয়েছে। কারও কারও কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা। ওই ঘটনার সঙ্গে রাজধানীর একাধিক কোচিং সেন্টারের কর্মকর্তা ও কর্মচারী জড়িত ছিল। তাদের কয়েকজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

সূত্র জানায়, সাইবার নজরদারিতে এবার ৩টি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপকে চিহ্নিত করেছে সিআইডি। গত বছর যে চক্রটি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছে সেই চক্রটি এর পেছনে থাকতে পারে বলে ধারণা তাদের। এ চক্রকে ধরতে মাঠে কাজ করছে সিআইডি। গত বছর যারা আইনের আওতায় এসেছিল তারা জেলে আছেন না জামিনে বাইরে আছেন সে বিষয়ে খোঁজ নেয়া হচ্ছে।