প্রশিক্ষণের টাকা কম দেওয়ায় অবরুদ্ধ শিক্ষা কর্মকর্তা

শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃ রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় নতুন শিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষক ট্রেনিংয়ে টাকা কম দেওয়ায় শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করার ঘটনা ঘটেছে।

গতকাল (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মোহনপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ট্রেনিং শেষে টাকা কম দেওয়ায় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষকরা। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শিক্ষা কর্মকর্তা টাকা ফেরত দিয়ে মুক্ত হন।

তবে ওই শিক্ষা কর্মকর্তার দাবি, ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা ঘটেছিল। এখানে অবরূদ্ধ করার মতো কিছু হয়নি।

রাজশাহী জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য মতে, রাজশাহীতে নতুন শিক্ষাকার্যক্রম এনসিএ ট্রেনিং চলমান আছে। এরই ধারাবাহিকতায় রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় ৫ দিনব্যাপী ৬৫২ জন শিক্ষকের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন ৬৩৮ জন। এদের মধ্য ৪৪টি স্কুল ও ১৮টি মাদরাসার শিক্ষক ছিলেন। ৫ দিনে শিক্ষকদের সম্মানী বাবদ তাদের জন্য বরাদ্দ ছিলো ভ্যাট বাদে ৫ হাজার ১৩০ টাকা করে। এছাড়া সংশ্লিষ্টরা প্রতিদিনের নাস্তা সরবরাহ করতেন। এ বাবদ প্রতিজনের জন্য খরচ বরাদ্দ ছিলো ৮০ টাকা করে।

নাম প্রকাশ না করে মোহানপুর উপজেলার একাধিক শিক্ষক বলেন, প্রথম দুইদিন যে নাস্তা দেওয়া হয়েছে তাকে কোনোভাবেই ৮০ টাকার বলা যাবে না। সব মিলিয়ে বড়জোর ২৫ থেকে ৩০ টাকা হবে। এজন্য শিক্ষকরা সবাই মিলে জানান তারা নাস্তা খাবেন না, এর বিনিময়ে টাকা নেবেন। কিন্তু শিক্ষা কর্মকর্তারা বলেন ৮০ টাকার পরিবর্তে তারা ৫০ টাকা করে তিন দিনের জন্য ১৫০ টাকা দেবেন। শিক্ষকরাও সেটি মেনে নেন। আবার ট্রেনিং শেষে শিক্ষকদের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা থেকে ৮০ টাকা করে কেটে রাখেন শিক্ষা কর্মকর্তা।

শিক্ষককরা জানান, প্রত্যেক শিক্ষককে ৫২৮০ টাকা করে দেওয়ার কথা থাকলেও ৫২০০ টাকা দেওয়া হয়। এসময় ৮০ টাকা কম দেওয়ায় শিক্ষকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। শিক্ষকদের বাধার কারণে ট্রেনিং সেন্টার থেকে বের হতে পারছিলেন না কর্মকর্তারা। পরে তারা বাধ্য হয়ে প্রত্যেককে ৫২৭০ টাকা করে দিয়ে ট্রেনিং সেন্টার ছেড়ে গেছেন। প্রত্যেক শিক্ষকের কাছ থেকে ১০ টাকা করে কেটে নিলেও শেষ পর্যন্ত শিক্ষকরা এনিয়ে আর বেশি কিছু বলেননি।

শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের টাকা কম দেওয়া বিষয়ে মোহনপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুকতাদির আহমেদ বলেন, ট্রেনিংয়ে ভ্যাট কাটা নিয়ে যে চিঠি ছিল সেটাতে তারা কিছু টাকা কম পাচ্ছিলেন। এরপর তারাও একটি চিঠি দেন। পরে ভুল বোঝাবুঝির কারণে যে টাকাটা তারা কম পাচ্ছিলেন সেটা তাদের হাতে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর আর কোনো সমস্যা নেই।

তবে এই শিক্ষা কর্মকর্তা অবরুদ্ধ থাকার কথা অস্বীকার করে বলেন, কোনো ধরনের অবরুদ্ধের ঘটনা ঘটেনি। তাদের টাকা দিয়ে দেওয়ার পরই তারা চলে গেছেন।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/১৫/২৩