প্রথিতযশা সাংবাদিক আহমেদ মূসা আর নেই

প্রকাশিত: ১২:০০ অপরাহ্ণ, রবি, ১৮ এপ্রিল ২১

মোঃ জিয়াউর রহমান:

প্রথিতযশা সাংবাদিক, লেখক ও নাট্যকার আহমেদ মূসা(৬৪) মৃত্যুবরণ করেছেন। শনিবার (১৭ এপ্রিল ) বাংলাদেশ সময় বিকেল সোয়া পাঁচটায় যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের ক্যানসাস সিটির সেইন্ট লুকস হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর ভাই আবু ইউসুফ এই সংবাদ নিশ্চিত করেন।

সাংবাদিক আহমেদ মূসা দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে আমেরিকায় চিকিৎসাধীন ছিলেন।ক্যানসাসের মাটিতেই তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোক প্রকাশ করে অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং প্রয়াত সাংবাদিক আহমেদ মূসা এর রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন।

উল্লেখ্য,আহমেদ মূসার জন্ম ১৯৫৭ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি, নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের ইজারকান্দি গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
প্রয়াত পিতা মোমতাজউদ্দিন আহমেদ ও প্রয়াত মাতা সখিনা খাতুন এর সন্তানটি এলাকায় এসে বিটিভিতে প্রচারিত ধারাবাহিক নাটক মাটির মায়া মঞ্চায়ন করে এখানকার মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। ৩৭ বছর ধরে তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৮০ সালে শুরু করেন সাপ্তাহিক বিচিত্রার প্রদায়ক হিসেবে। পরবর্তীকালে দৈনিক সংবাদ, দিনকাল, দেশজনতা এবং সাপ্তাহিক ২০০০, আগামী, পাক্ষিক তারকালোক, মাসিক নিপুণ ও স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল বাংলাভিশনসহ অনেক গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কলাম লিখেছেন অনেক পত্রিকায় ।

আহমেদ মূসার প্রকাশিত আহমেদ মূসা প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ছাব্বিশ। প্রকাশিত হয়েছে উপন্যাস সমগ্র, নির্বাচিত গল্পগ্রন্থ, মঞ্চ ও টিভি নাটক সমগ্র। শিশুদের জন্য প্রকাশিত হয়েছে দু’টি গ্রন্থ। রাজনৈতিক হত্যাকান্ড-বিরোধী এবং মুক্তিযুদ্ধ কেন্দ্রিক কয়েকটি গ্রন্থ রয়েছে তাঁর। রয়েছে ইতিহাস-আশ্রয়ী উপন্যাস ও প্রবাস জীবন-কেন্দ্রিক উপন্যাস। অনেক টিভি নাটক ও ধারাবাহিক নাটকের নাট্যকার তিনি। প্রদর্শিত হয়েছে তাঁর মঞ্চ নাটকও।

সরাসরি দলীয় রাজনীতি করেছেন কয়েকবছর। বর্তমানে দলীয় কোনো রাজনীতির সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা নেই। পেশাগত জীবনে সাংবাদিকতার
বাইরেও তিনি ছিলেন বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন এবং জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক।

আহমেদ মূসা অনেক গণ ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৯৬ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধ চেতনা বিকাশকেন্দ্রের প্রকাশনা
সম্পাদক থাকার সময় প্রকাশিত হয়েছিল সাড়া জাগানো আকর-গ্রন্থ ‘একাত্তরের ঘাতক ও দালালরা কে কোথায়।’ সে গ্রন্থের তথ্য সংগ্রাহকদের ও একজন তিনি। আহমেদ মূসা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ১০১ প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের একজন। বাংলাদেশের জন্মশত্রু-বিরোধী আন্দোলনে সব সময়ই সক্রিয়। তিনি প্রথাগত শিক্ষা শেষ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে। আচার্য দীনেশ চন্দ্র সেন স্মৃতি পুরস্কার সহ কয়েকটি পুরষ্কার পেয়েছেন। ভ্রমণ করেছেন কানাডা, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইতালি, হলান্ড, অষ্ট্রিয়া, শ্রীলঙ্কা, ভারত,নেপাল, চীন, ইরান, থাইল্যান্ড প্রভৃতি।প্রায় পাঁচ ছয় বছর ধরে তিনি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী।স্ত্রী কামরুন নাহার ছিলেন শিক্ষিকা। নিউইয়র্কে সম্প্রতি মেডিকেল এসিস্ট্যান্টশীপ শেষ করেছেন। কন্যা রেহনুমা আহমেদ কেয়া ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার – বর্তমানে ওকলাহোমা ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি করছেন। কেয়ার স্বামী নাজমুল কবির রনি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার- বর্তমানে ওকলাহোমা ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি করছেন। ছেলে আহমেদ সায়ান অনীক মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছেন নিউইয়র্কের সিটি টেক-এ। পুত্রবধু জাভিরিয়া রক্তিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আই, ই, আর থেকে স্নাতকোত্তর পাশ করে এখন নিউইয়র্ক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে ইন্টারডিসিপ্লিনারী স্টাডিজ এন্ড এডুকেশনের ওপর দুই বছরের কোর্স করছেন। একই সঙ্গে সবাই খন্ডকালীন কাজও করছেন।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.