পারমাণবিক যুদ্ধের সম্ভাবনা কতোটুকু?

খেরসন থেকে লোকজন সরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ

ন্যাটোতে ইউক্রেন যুক্ত হলেই বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবে- এমন হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হওয়া শুরু করেছে। আগেই ন্যাটো ঘোষণা দিয়েছে- তারা এই সপ্তাহে পারমাণবিক অস্ত্রের মহড়া শুরু করতে যাচ্ছে। রাশিয়াও বলেছে, পারমাণবিক অস্ত্রের মহড়া তারাও শুরু করছে। পশ্চিমা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘যে কোনো মুহূর্তে রাশিয়া ইউক্রেনে পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে।
এ নিয়ে বিশ্বযুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠেছে, যা পারমাণবিক যুদ্ধের পথে চলে যেতে পারে। ’ এদিকে এমন প্রেক্ষাপটে হঠাৎ করেই রাশিয়া তাদের নিয়ন্ত্রিত খেরসন থেকে সব নাগরিককে রাশিয়ায় সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে। এ নির্দেশ এমন সময় দেওয়া হয়েছে, যখন খেরসনের ওপর ইউক্রেনীয় বাহিনী হামলা শুরু করেছে। ফলে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের উদ্দেশ্য থেকেই লোকজনকে সরে যেতে বলা হয়েছে কি না- তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সূত্র : রয়টার্স, আল জাজিরা, পার্স টুডে, তাস, গার্ডিয়ান।ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেল বলেছেন, ‘রাশিয়া যদি সত্যিই ইউক্রেনের ওপর পরমাণু হামলা চালায়, তাহলে রুশ বাহিনীকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে। ’ গত বৃহস্পতিবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে সামরিক উন্নতি একাডেমি উদ্বোধনের সময় জোসেপ এ কথা বলেন।এর আগে গত সপ্তাহে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সাবেক প্রধান জেনারেল পেট্রাউস বলেছিলেন, ‘রাশিয়া যদি হামলা চালায় তাহলে আমেরিকা রাশিয়ার সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করে দেবে।

’ যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘বছরের এই সময়ে রাশিয়া সাধারণত তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের মহড়া পরিচালনা করে থাকে। ’ পশ্চিমা নেতারা মনে করছেন, কয়েক দিনের মধ্যেই তাদের মহড়া শুরু হতে পারে। রাশিয়ার মহড়ায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। খবরে বলা হয়, রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন রাশিয়াকে রক্ষায় পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দিয়েছেন। অনেক পশ্চিমা নেতাই বর্তমানে এ জন্য উদ্বিগ্ন।
তাদের দাবি, রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে পানি ঘোলা করতে পারে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন পশ্চিমা কর্মকর্তা বলেছেন, ‘রাশিয়ার পদক্ষেপে আমাদের অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ’ অন্যদিকে ন্যাটোর মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ ব্রাসেলসে এক সংবাদ সম্মেলনে আশ্বাস দিয়েছেন, ‘ন্যাটো জোট রাশিয়ার বার্ষিক পারমাণবিক মহড়া খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করবে। ’ হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন কিবরি বলেছেন, ‘ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপসহ এবার রাশিয়ার কৌশলগত পারমাণবিক বাহিনী বড় ধরনের মহড়া চালাতে যাচ্ছে। ’

চুপ থাকবে ফ্রান্স :

সার্বিক প্রেক্ষাপটে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ‘ইউক্রেনে রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্রের হামলা চালালেও প্যারিস তার জবাব পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে দেবে না। ’ সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ফ্রান্স-২ কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেছেন। যুক্তি দিয়ে ম্যাক্রোঁ বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে ফ্রান্সের সুস্পষ্ট নীতি রয়েছে, যার ভিত্তি হচ্ছে ‘দেশের মৌলিক স্বার্থ’। তিনি বলেন, ‘এটা সুস্পষ্টভাবে বলা আছে, উদাহরণ হিসেবে বলি- রাশিয়া যদি ইউক্রেনে ব্যালিস্টিক পারমাণবিক হামলা চালায়ও, তাহলে সরাসরিভাবে আমাদের জাতীয় স্বার্থের ওপর প্রভাব পড়বে না। ’ এক টুইটেও তিনি লিখেছেন, ‘ফ্রান্স বিশ্বযুদ্ধ চায় না। ’ তবে তার এ ধরনের মন্তব্য পশ্চিমা মহলে তাৎক্ষণিকভাবে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। এমনকি ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাদও এ অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেছেন। যদিও ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ‘রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র থেকে সুরক্ষায় ইউক্রেনকে আরও রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র দেবে ফ্রান্স। প্যারিস এরই মধ্যে তার মিত্রের জন্য সহজে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা ও সাঁজোয়া যান পাঠিয়েছে। ’ আবার তিনি এও স্বীকার করেন যে, ইউক্রেনকে তাদের চাহিদা অনুযায়ী বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র পাঠানো যাচ্ছে না। ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘নিজেদের এবং ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় বহরকে সুরক্ষিত রাখতে তাদেরও অস্ত্রশস্ত্র দরকার। ’ ম্যাক্রোঁ পুতিনকে ‘যুদ্ধ বন্ধ’ করে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

খেরসনের মানুষকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ : রাশিয়া গতকাল বলেছে, ‘খেরসনের মানুষ রাশিয়ার এলাকায় নিরাপদে চলে যেতে পারেন। তাদের বিনামূল্যে থাকার এবং খাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। সুতরাং খেরসনের অধিবাসীরা যেন দ্রুত এলাকা ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ছেড়ে যান। ’ রাশিয়ার দাবি, খেরসন অঞ্চলের বেসামরিক জায়গায় ইউক্রেন লাগাতার মিসাইল আক্রমণ করছে। বেসামরিক মানুষের প্রাণ বাঁচাতেই তাদের নিরাপদ জায়গায় যেতে বলা হয়েছে।

সংঘাতের পরিণতি জানালেন পুতিন :  পশ্চিমা সামরিক মিত্রজোটের সঙ্গে রাশিয়ার সরাসরি সংঘাত নিয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন গতকাল বলেছেন, ন্যাটো সেনাদের সঙ্গে রাশিয়ার সরাসরি সংঘাত হলে ‘বৈশ্বিক বিপর্যয়’ তৈরি হবে। তিনি কাজাখস্তানের রাজধানী নুর-সুলতানে এক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন। পুতিন বলেন, ‘যারা রাশিয়ার সঙ্গে ন্যাটোর সংঘাতের কথা বলছে- ‘তারা যথেষ্ট স্মার্ট। আশা করি তারা পরিস্থিতিকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাবে না। ’