পাঠ্যবই, কাগজ সংকট কাটবে কবে ?

শিক্ষাবার্তা ডেক্সঃ নতুন শিক্ষাবর্ষের একমাস শেষ হতে চললেও এখনো বিভিন্ন বিষয়ের বই পায়নি অনেক শিক্ষার্থী। ফলে বই ছাড়াই ক্লাস করতে হচ্ছে তাদের। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সব পাঠ্যবই সরবরাহে আরও একমাস সময় লাগতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এখনও মাধ্যমিক স্তরের সোয়া দুই কোটি এবং প্রাক-প্রাথমিক স্তরের এক লাখ ১০ হাজার বই ছাপানোর বাকি আছে। সে কারণে বই ছাড়াই ক্লাস শুরু হয়েছে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।

বই ছাপানোর জন্য বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা অতিরিক্ত এক থেকে দুই মাস সময় চেয়েছে বলে জানা গেছে। এর মূল কারণ কাগজ সংকট। সবচেয়ে বেশি বই আটকে আছে এমন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বারোতোপা, অগ্রণী, ভয়েজার, দশদিশা, এসআর, প্রমাসহ অন্তত ২৪ প্রতিষ্ঠানের নাম পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি সংকট তৈরি হয়েছে নতুন শিক্ষাক্রমের বই নিয়ে। প্রথম, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির বইয়ের কারিকুলাম পরিবর্তন হওয়ায় পুরোনো বই পড়ানো যাচ্ছে না বলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বইয়ের জন্য এক ধরনের হাহাকার তৈরি হয়েছে। কবে নাগাদ সব বই পাওয়া যাবে তা কেউ বলতে পারছে না।

তবে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফরহাদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘অধিকাংশ পাঠ্যবই চলে গেছে। সামান্য কিছু বই যায়নি। সেগুলোর মুদ্রণকাজ চলছে। জানুয়ারির মধ্যেই সব বই সরবরাহ করা সম্ভব হবে।’

এনসিটিবির একটি সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) পর্যন্ত প্রাথমিকে আট কোটি ৫০ লাখ আর মাধ্যমিকে ২১ কোটির ২০ লাখ বই সরবরাহ করা হয়েছে। গত তিনদিনে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের আরও ৪০ লাখ বই চলে গেছে। সেই হিসাবে এখনো দুই কোটির বেশি বই পৌঁছানো বাকি রয়েছে।

তবে মুদ্রণশিল্প সমিতির সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম শনিবার (২১ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখন পর্যন্ত মাধ্যমিকের পাঁচ কোটি ও প্রাথমিকের তিন কোটি বই বাকি রয়েছে। তার মধ্যে মোটাদাগে বারোতোপা প্রিন্টিং প্রেসে এক কোটি, অগ্রণী প্রেসে দুই কোটি বই এখানো বাকি রয়েছে। এছাড়াও ছোট-বড় অনেক প্রেস এখনো বই পাঠাতে পারেনি।’

তিনি বলেন, ‘আগামী মার্চ মাসেও এসব পাঠানো সম্ভব হবে না। কাগজ সংকটের নামে পরিদর্শন ছাড়াই নিম্নমানের ছয় কোটির অধিক বই ছাড়পত্র দিয়ে উপজেলায় পাঠানো হয়েছে। এনসিটিবি বই পাঠানোর যে হিসাব দিচ্ছে তা ঠিক নয়। অনেক উপজেলায় বই না পাঠিয়ে কাগজ-কলমে সেখানে পাঠিয়েছে বলে হিসাব দেখানো হচ্ছে।’

এ বিষয়ে এনসিটিবির চেয়ারম্যান বলেন, ‘এখানো যারা বই দিতে পারেনি তাদের এ মাসের মধ্যে দিতে বলা হয়েছে। এর বাইরে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হবে না। এরপরও যারা দেরি করে বই দেবে, তাদের ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/২২/২৩