পাঠ্যবইয়ে চৌর্যবৃত্তি, জড়িতদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত সোমবার

শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃ  চলতি বছর প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের তিনটি শ্রেণিতে পরীক্ষামূলকভাবে নতুন পাঠ্যক্রমে শিক্ষাক্রম শুরু করে সরকার। নতুন এ পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি আগের পাঠ্যক্রমেরও বেশকিছু বইয়ে ভুল ও চৌর্যবৃত্তির (হুবহু চুরি) অভিযোগ উঠলে তা নিয়ে সরব জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। ইতোমধ্যে তিন বইয়ে নয়টি ভুল সংশোধনী দিয়েছে সংস্থাটি।

এবার এসব ঘটনার সাথে জড়িতদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সভায় বসবে এনসিটিবি। আগামী সোমবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান নওফেলের সাথে এনসিটিবি কর্তৃপক্ষের এক সভায় বসার কথা রয়েছে।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ফরহাদুল ইসলাম। তিনি আজ শনিবার বলেন, ভুলের বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং আমরা এটি নিয়ে কাজ করছি। যারা ভুল করেছেন এবং প্লেজিয়ারিজমের (চৌর্যবৃত্তি) সাথে জড়িত তাদের আগামীতে পাঠ্যপুস্তক এবং তৎসংশ্লিষ্ট কাজে যুক্ত করা হবে না।

তিনি বলেন, যেসব ভুল রয়েছে তার সংশোধনী ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি অনলাইনে এবং এনসিটিবির ওয়েবসাইটেও দেয়া হয়েছে; যেখানে সারা দেশের সকল প্রতিষ্ঠানের সংযুক্তি রয়েছে। আমরা তাদের একটি ইন্সট্রাকশন (নির্দেশনা) দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা ভাবছি পাঠ্যপুস্তক চূড়ান্ত করার আগে তার মিনি ট্রাই আউট (পরীক্ষামূলক) কপি করার বিষয়ে। ফলে, পাঠ্যবইয়ে ভুলের সংখ্যা কমবে। আমরা আগামী সোমবার বৈঠকে বসবো, সেখানে আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে আমরা পাঠ্যপুস্তক এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়ে করণীয় ঠিক করা হবে। আমরা চাইলেই কোন শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করতে পারিনা। এভাবে যদি কাট-ছাট বা বাদ দেয়া চলতে থাকে তাহলে আগামীতে বই লেখার জন্য লোক পাওয়া যাবে না। ফলে সি অথবা ডি গ্রেডের শিক্ষক দিয়ে আমাদের পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করতে হবে।

প্রসঙ্গত, এবার শ্রেণিভেদে শিক্ষার্থীরা দুই ধরনের বই হাতে পেয়েছে। এর মধ্যে প্রথম, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা নতুন শিক্ষাক্রমের আলোকে নতুন বই হাতে পেয়েছে। আর অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পুরোনো শিক্ষাক্রমের আলোকে বই হাতে পেয়েছে।

নতুন পাঠ্যপুস্তকের মধ্যে প্রথম আলোচনায় আসে সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান বই। তার প্রথম অধ্যায় জীববৈচিত্র্য পাঠে দেখা যাচ্ছে, এর বেশ কিছু অংশ পুরোপুরি ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ওয়েবসাইট থেকে হুবহু অনুবাদ করা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে যখন ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয় তখন এর দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেন বইটির রচনা ও সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত থাকা অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও অধ্যাপক হাসিনা খান। বিবৃতিতে তারা জানান, উক্ত অধ্যায়ের আলোচিত অংশটুকু লেখার দায়িত্বে আমরা দুজন না থাকলেও সম্পাদক হিসেবে এর দায় আমাদের উপরেও বর্তায়। সেটি আমরা স্বীকার করে নিচ্ছি। অবশ্যই পরবর্তী সংস্করণে বইটির প্রয়োজনীয় পরিমার্জন করা হবে।

এদিকে, মাধ্যমিক স্তরের তিনটি বইয়ে ৯টি ভুলভ্রান্তির সত্যতা পেয়েছে এনসিটিবি। এ জন্য ভুলগুলো সংশোধন করে এনসিটিবির ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে। গত ১৭ জানুয়ারি এসব ভুল সংশোধনী দিয়েছে এনসিটিবি।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/২১/২৩