পরীক্ষা দিতে পারছেন না ছাত্র অধিকারের ৩ নেতা

নিউজ ডেস্ক।।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভাকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্র অধিকার পরিষদের তিন নেতা চূড়ান্ত পরীক্ষায় (স্নাতক দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষ) অংশ নিতে পারছেন না৷

সোমবার (১০ অক্টোবর) ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা।

পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা নেতারা হলেন- সংগঠনের ঢাকা কলেজ শাখার সাবেক সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রাকিব, সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ হোসাইন ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী সরকারি কলেজ শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু মো. কাউছার। রাকিব রসায়ন বিভাগে, কাউছার রাষ্ট্রবিজ্ঞানে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। ইউসুফ পড়েন অর্থনীতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাকিব ও কাউছারের আজ সোমবারও একটি পরীক্ষা ছিল। চলতি মাস ও আগামী মাসে তাদের আরও বেশ কয়েকটি পরীক্ষা রয়েছে। আরেক নেতা ইউসুফের একটি পরীক্ষা রয়েছে আগামী বুধবার। কারাগারে থাকায় এই তিন নেতার সামনের পরীক্ষাগুলোতে অংশগ্রহণও অনিশ্চিত।

ছাত্রলীগের দায়ের করা দুই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন এই তিন নেতা। আগামীকাল মঙ্গলবার এই তিন নেতাসহ ছাত্র অধিকারের ২৪ নেতাকর্মীর জামিন আবেদনের শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

ছাত্র অধিকার পরিষদ সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা ঢাকা পোস্টকে বলেন, ছাত্রলীগ আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে। আবার তাদের মামলায় আমাদের নেতাকর্মীরা কারাগারে। আমাদের সবাই শিক্ষার্থী। যার ফলে ক্লাস, পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। কীসের ভিত্তিতে চলছে এই দেশ- আমাদের জানা নেই। আমরা আইনের প্রতি তবুও শ্রদ্ধাশীল। আশা করি, আগামীকাল জামিন পাবেন দুই মামলায় গ্রেপ্তার থাকা ২৪ নেতাকর্মী।

এই বিষয়ে গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ বলেন, এই তিনজনই নিয়মিত শিক্ষার্থী। গ্রেপ্তারের ফলে শিক্ষাজীবন থেকে তাদের এক বছর পিছিয়ে যাচ্ছে। এই বিষয় নিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। শুধু রাজনীতি করার কারণে বিনা অপরাধে তারা আজ কারাগারে। দেশে আইনের শাসন না থাকায় এভাবেই মানুষ সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

আবরার ফাহাদ হত্যার তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে গত শুক্রবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে স্মরণসভার আয়োজন করে ছাত্র অধিকার পরিষদ। সেই সভায় হামলায় পরিষদের অন্তত ১৫ নেতা-কর্মী আহত হন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানে গিয়েও তারা মারধরের শিকার হন। এরপর মেডিকেল থেকে নেতাকর্মীদের আটক করে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

এরপর ছাত্রলীগ নেতা নাজিম উদ্দিন ও আমিনুর রহমান গত শুক্রবার রাতেই শাহবাগ থানায় ছাত্র অধিকার পরিষদের ২৫ নেতা-কর্মী ও অজ্ঞাতনামা ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করে পৃথক দুটি মামলা করেন। দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার সকালে ছাত্র অধিকারের ২৪ নেতা-কর্মীকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে পাঠায় শাহবাগ থানা পুলিশ। আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।