পরিচালনা কমিটির অবাধ ক্ষমতা খর্ব হচ্ছে না বরং বাড়ছে!

আইউব আলী।।

২২ আগষ্ট সকাল বেলা বিভিন্ন সংবাদ মিডিয়ায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের ‘অবাধ ক্ষমতা’ খর্ব হচ্ছে মর্মে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। দেশব্যাপী সংবাদটি নিমিষেই ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল কারণ বেসরকারি শিক্ষক সমাজ থেকে শুরু করে সচেতন অভিভাবক, সুধীজন শিক্ষার উন্নয়নকল্পে এ ধরণের একটি সিদ্ধান্ত অনেকদিন থেকেই আশা করছিলেন। কিন্তু পত্রিকার হেডিং আশাব্যঞ্জক হলেও সিদ্ধান্ত ছিল একেবারেই হতাশাব্যঞ্জক। সম্প্রতি অনেকেই কমিটি সংক্রান্ত বিষয়ে অনেক মূল্যবান মন্তব্যও তুলে ধরেছিলেন, বোর্ড কর্তৃপক্ষও চেয়েছিলেন শিক্ষিত কমিটি। কমিটি সংক্রান্ত বিষয়ে শিক্ষাবোর্ডের সুপারিশের আলোকে ঐ দিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয় যেখানে শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানগণও উপস্থিত ছিলেন।

মিটিং শেষে বিভিন্ন মিডিয়ায় যে সংবাদ বেড়িয়ে আসলো তা কতোটা হতাশাব্যাঞ্জক যা বলার অপেক্ষা রাখেনা। মূলতঃ ২০০৯ সালে জারীকৃত প্রবিধানমালায় কমিটি সংক্রান্ত যে বিধানগুলো ছিল সেটি ছিল বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থায় মরার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মত আর এখন যেটি হতে যাচ্ছে সেটি হবে খাঁড়ার উপর শেল নিক্ষেপের মত! বোর্ড থেকে শুরু করে শিক্ষক, অভিভাবক, বিদ্যানুরাগী ব্যক্তির মতামতকে উপেক্ষা করে মন্ত্রী পরিষদ নিজের মত করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য জমা দিয়েছে।

জানা গেছে, বিদ্যমান প্রবিধানমালার ওপর ২০টি সংশোধনী ও সংযোজনী আনা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-
১। সংসদ সদস্যের পছন্দ অনুযায়ী যে কোন ব্যক্তি সভাপতি হতে পারবেন।
২। বোর্ডের অনুমোদন ব্যাতীত কমিটি ইচ্ছাকৃতভাবে কোন শিক্ষককে বরখাস্ত করতে পারবে না।
৩। দোষী শিক্ষককে ৫ ধরণের শাস্তি দেয়া যাবে।
৪। ৬০ দিনের বেশি কাউকে সাময়িক বরখাস্ত করে রাখা যাবে না। রাখলে বেতন-ভাতা দিতে হবে।
৫। ফলাফল খারাপ হলে পরিচালনা কমিটিকে জবাবদিহি করতে হবে।

৬। পর পর ০৩ বছর ফলাফল খারাপ হলে প্রতিষ্ঠানের এমপিও, স্বীকৃতি, কমিটি বাতিল করা হবে।

৭। কমিটি নির্বাচনের জন্য নোটিশ ছাড়াও স্থানীয় এবং জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে।
৮। কমিটির সভাপতি বা সদস্য প্রতিষ্ঠান থেকে পারিশ্রমিক নিতে পারবেন না।
৯। কমিটির দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে সভাপতি পরিবর্তন করা যাবে।
১০। সভা চলাকালীন ৫০০০ টাকার বেশি ব্যয় করা যাবে না।

১১। মনোনয়ন পত্রের মূল্য সর্বনি¤œ ২০০০ এবং সর্বোচ্চ ৫০০০ টাকা করা হয়েছে।
১২। দাতা সদস্যের টাকা জমা দেয়ার সময় ১৮০ দিন থেকে কমিয়ে ৯০ দিন করা হয়েছে।
১৩। দাতা সদস্যের চাঁদা বৃদ্ধি করে অস্থায়ী ৫০,০০০ এবং স্থায়ীর ক্ষেত্রে ৩,০০,০০০ টাকা করা হয়েছে।
১৪। জমিদাতা এবং জমিদাতার সন্তানকে আজীবন দাতা সদস্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সংশোধনী বা সংযোজনীগুলোর মধ্যে কলেজের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যের পছন্দ অনুযায়ী সভাপতি নির্বাচনের বিষয়টি ২০০৯ সালের প্রবিধানমালার ক্রমিক নং ৫ এর ২ উপ-প্রবিধানের ১-এ সন্নিবেশিত ছিল। ২০১৮ সালে উক্ত প্রবিধান বাতিল করে ৩ উপ-প্রবিধানের -২ কার্যকর করা হয়। উক্ত প্রবিধানে স্থানীয় নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের সাথে আলোচনা করে সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য, অবসরপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা, স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি, খ্যাতিমান সমাজ সেবকগণের মধ্য থেকে একজনকে নির্বাচিত করার বিধান রয়েছে। মূলতঃ এ ধারাটি উপ-প্রবিধান ১ এর ফটোকপি! কেননা প্রতিষ্ঠান প্রধান মাননীয় সাংসদের সাথে কথা বলা মানেই তার পছন্দের লোককে মনোনীত করা।

বাস্তবে এটাই ঘটেছে। শিক্ষা বোর্ডগুলো সংসদ সদস্যের অভিপ্রায় পত্র কিংবা সুপারিশ ব্যাতিরেকে কোন প্রতিষ্ঠানেই সভাপতি মনোনয়ন দেয়নি। প্রস্তাবিত প্রবিধানমালায় মাননীয় সংসদ সদস্য যে কোন ব্যক্তিকে সভাপতি পদে মনোনয়ন দিতে পারবেন। এর অর্থ হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতে আরোও অদক্ষ এবং অসৎ ব্যক্তির কবলে পড়ে যেতে পারে।

বোর্ডের অনুমোদন ব্যাতীত কোন শিক্ষককে বরখাস্ত করা যাবে না। অভিযুক্ত শিক্ষককে বরখাস্ত করার সুপারীশের পূর্বে তদন্ত কমিটির মতামত গ্রহণ করতে হবে। দোষী ব্যক্তিকে ৫ ধরণের শাস্তি দেয়া যাবে। এ বিধানটি আর.এ ১৯৭৭- এ সন্নিবেশিত আছে। ২০০৯ সালের প্রবিধানমালায় এ ব্যাপারে কোন দিক-নির্দেশনা না থাকায় পূর্বের বিধি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলি সাময়িক বরখাস্ত কিংবা বরখাস্ত করছে। নতুন প্রবিধানের খসড়ায় বলা হয়েছে যে, ঠুনকো কারণে বা কোন কারণ ছাড়াই মিথ্যে অভিযোগ দায়ের করে বরখাস্ত করতে পারবে না। সদাশয় কর্তৃপক্ষ রাজধানীতে এসি রুমে বসে কাজ করেন আর বিলাস বহুল গাড়ীতে করে ঘুরে বেড়ান, ৬৮ হাজার গ্রামের খবর তো তারা রাখেন না। কমিটির পছন্দ না হলে বা তার বিরুদ্ধে গেলে যে কোন স্তরের একজন শিক্ষককে মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করতে তাদের সময় লাগে না।

তদন্ত কমিটি নিজের লোক দিয়ে গঠন করেন ফলে তদন্ত প্রতিবেদন অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধেই চলে যায়। ফলাফল সাময়িক বরখাস্ত এমন কি বরখাস্ত পর্যন্ত তারা করে ফেলেন। অসহায় শিক্ষক আইনের আশ্রয় নেন কিন্তু বছরের পর বছর কেটে যায়, রায় হয় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, শিক্ষা বোর্ডগুলো সঠিক বিষয়টি উদ্ধার করে শিক্ষককে দায়মূক্ত করেন কিন্তু কমিটি কোনভাবেই ছাড় দেয় না। তারা হয় ওভাবেই ফেলে রাখেন নয়তো উচ্চ আদালতে আপীল করেন। ২০০০ সালে পাবলিক পরীক্ষায় নকলের মহোৎসবের কথা আপনারা সবাই জানেন। আমি তখন সহকারি শিক্ষক ছিলাম, শিক্ষা নিয়ে নিয়মিত পত্রিকায় লিখতাম। নকলের কুফল সম্পর্কে দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকায় একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হলে কমিটি আমাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে। তদন্ত কমিটি তাদের ইচ্ছে মত রিপোর্ট দেয়। পরে অনেক কাকুতি-মিনতি করে সে যাত্রায় বেঁচে যাই। এ ধরণের ঘটনা সারা দেশে হাজার হাজার প্রতিষ্ঠানে ঘটছে। ভবিষ্যতেও একই ঘটনা ঘটবে, বন্ধ হবে কিভাবে তা আমার মাথায় আসে না। ৬০ দিনের বেশি কাউকে সাময়িক বরখাস্ত করে রাখা যাবে না, রাখলে বেতন-ভাতা দিতে হবে-এ বিধানটিও আগেই জারী হয়েছে। সভাপতি পরিবর্তনের বিধানটি বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকেই আছে।

নতুন সংযোজনের মধ্যে কমিটি নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি স্থানীয় এবং জাতীয় দৈনিকে দিতে হবে। কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে অনেক প্রতিষ্ঠানে গোপনে কমিটি গঠন করা হয়। আমার কাছে এ বিষয়টি হাস্যকর মনে হচ্ছে এ কারণে যে, বর্তমানে একটি প্রতিষ্ঠান গোপনে নির্বাচন করবে আর আগ্রহীরা জানতে পারবে না এমন নয়। যারা কমিটিতে আসার জন্য আগ্রহী তারা চলমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার অনেক আগে থেকেই খোঁজ-খবর রাখা শুরু করেন। তাছাড়া শ্রেণি কক্ষে প্রদত্ত নোটিশের মাধ্যমে সব অভিভাবক জানতে পারেন যেহেতু পরপর কয়েকদিন নোটিশ দেয়া হয়। একজন প্রতিষ্ঠান প্রধানের কোন দায় পড়েছে গোপনে কমিটি করে বিপদ ডেকে আনার? আমি মনে করি, কমিটিতে যে ব্যক্তিই আসুক না কেন তিনি কমিটি! কারণ কমিটি আসলে কমিটিই! আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, বিভিন্ন সময়ে সভাপতি কিংবা সদস্য পদে আসতে না পেরে অনেকেই প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করার চেষ্টা করেন। নানান অজুহাত খুঁজে বেড়ান।

২০১০ সালে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বভার গ্রহণের পর পরই এক ব্যক্তি বিদ্যোৎসাহী সদস্য হওয়ার জন্য প্রস্তাব দেয়। আমি বিষয়টি কমিটিকে অবহিত করি কিন্তু কোন সদস্যই তাকে গ্রহণ না করায় কমিটিতে তার আসা সম্ভব হয়নি। কমিটিতে আসতে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি কয়েকজন অভিভাবক ম্যানেজ করে গোপনে কমিটি করা হয়েছে মর্মে বোর্ডে অভিযোগ দাখিল করেন। শুধু তাই নয় প্রধান শিক্ষক হিসেবে আমার নিয়োগ অবৈধ মর্মেও অভিযোগ দাখিল করেন।

তদন্তে সব কিছু মিথ্যা প্রমাণিত হয়। এরকম বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঘটছে এর জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হচ্ছে অথচ অনেক প্রতিষ্ঠানে কমিটি কোন কারণ ছাড়াই শিক্ষকের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে, প্রতিষ্ঠানের টাকা আত্মসাৎ করছে এ জন্যতো কঠোর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলো না। শুধু মাত্র জাবর কাটা হলো! সদাশয় নীতি নির্ধারকগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই-শুধু পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিলে হবে না একই সাথে বিবিসি, ভয়েস অফ আমেরিকা, সকল অনলাইন পত্রিকায় দেয়ার বিধান রাখতে হবে। সর্বোপরি বাংলাদেশের যত স্থানীয় এবং জাতীয় পত্রিকা আছে সবগুলোতেই বিজ্ঞাপন দেয়ার বিধান চালু করুন কারণ ৬৮ হাজার গ্রামের কৃষক, মজুর, রিক্সাচালক, ভ্যান চালক, রাজমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রি, কামার, কুমোর, জেলে, তাতী সবাই প্রতিদিন ২/৩টি করে পাত্রিকা পড়ে! বলা তো যায় না কে কোন পত্রিকা পড়বে, সবগুলোতে দিলে তারা অবশ্যই কমিটির বিষয়টি জানতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের ফলাফল খারাপ হলে কমিটিকে জবাবদিহি করতে হবে। পরপর তিনবার এমন হলে এমপিও, কমিটি, মঞ্জুরী বাতিল করা হবে। প্রতিষ্ঠানের ফলাফল ভালো হোক এটা আমরা সবাই চাই কিন্তু কমিটিকে জবাবদিহিতার মধ্যে নিয়ে আসার উদ্দেশ্যটা কি? জবাবদিহিতার আওতায় তাকেই আনা যায় যিনি অর্থনৈতিকভাবে কিছু গ্রহণ করেন। কমিটির তো কোন বেতন-ভাতা নেই যদিও নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে কমিটির সভাপতি বা সদস্য প্রতিষ্ঠান থেকে কোনরুপ পারিশ্রমিক নিতে পারবেন না। বর্তমানে পারিশ্রমিক দেয়ার কোন বিধান আছে বলেও আমার জানা নেই।

মূলতঃ কমিটিকে জবাবদিহিতার মধ্যে নিয়ে আসার প্রকৃত উদ্দেশ্য হচ্ছে শিক্ষক নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি করা! এহেন পরিস্থিতিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে যে ক’জন শিক্ষানুরাগী, শিক্ষাবান্ধব সভাপতি বা সদস্য আছেন তারা আর ওমুখো হবেন কি না সন্দেহ হয়। আগামীতে দেশটি যদিও মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। এখনো বাংলার গ্রাম-গঞ্জে অশিক্ষিত আর দরিদ্র্য মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়। এমন মানুষের সন্তানেরা শিক্ষার পরিবেশ পায় না, লেখা-পড়ার পাশাপাশি কাজ করে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজ আপ্রাণ চেষ্টা করেও এদের উন্নতি ঘটাতে পারেন না। বাধ্য হয়ে অটো পাশ দেখিয়ে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় যেভাবে হউক পাশ করিয়ে নেন। প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার বাস্তব চিত্র আমরা সবাই জানি, কর্তৃপক্ষও জানেন।

এসব শিক্ষার্থী যখন মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলিতে ভর্তি হয় তখন শিক্ষকদের হয়-ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা। ফলে গ্রাম্য প্রতিষ্ঠানগুলিতে ফলাফল আগেও খারাপ ছিল এখনো হচ্ছে এবং এ অবস্থায় আগামীতেও হবে। ফলে কমিটি যখন শোকজ খাবে তারাও শিক্ষকদের ওপর স্টীম রোলার চালাবে। শিক্ষকের এখন যেটুকু মর্যাদা আছে আগামীতে সেটুকুও থাকবেনা।

নীতিমালায় জমিদাতার সন্তানদের কমিটিতে রাখার বিধান রাখা হয়েছে। এক জমিদাতার যদি একাধিক সন্তান হয় সেক্ষেত্রে কি হবে? নিজেদের মধ্যে সমঝোতা না হলে পুরো যন্ত্রণা আসবে প্রতিষ্ঠান প্রধানের ওপর। আমার জানা মতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ধরণের বিধান থাকায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উত্তরাধিকারদের মধ্যে মারামারি থেকে কোর্ট-কাচারী পর্যন্ত হয়ে গেছে। আমার পাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ সংক্রান্ত মামলা প্রায় তিন বছর ধরে চলছে।

মানুষ গড়ার ৪০ হাজারের বেশি কারখানা যেখান থেকে ৯৫ ভাগ মানুষ শিক্ষিত হয়ে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখছে সে কারখানার পরিচালনা নিয়ে চলছে টালবাহানা! পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দেয়া হয়েছে সেই স্তরের হাতে যে স্তর নিজেই জানেনা কিভাবে উৎপাদন করতে হয়। এখন আবার যার তার হাতে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে এ গুরু দায়িত্ব। আগামীতে কি হবে তা সহজেই অনুমেয়। বোর্ড কর্তৃপক্ষ বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানের সমস্যাগুলোর অনেকটাই চিহ্নিত করে শিক্ষিত কমিটির প্রস্তাব করেছে। মন্ত্রী পরিষদ বোর্ড চেয়ারম্যানগণের উপস্থিতিতেই তাদের দেয় প্রস্তাব নাকচ করে দিলেন উপরন্তু যাকে তাকে সভাপতি করার বিধান তৈরি করলেন। চেয়ারম্যান মহোদয়গণ তাদের যুক্তিতে হয়তো হেরে গেছেন, বুঝে গেছেন যা করার তাই করবে অহেতুক নিজের চেয়ারটা আলগা হয় কেন? আমি সদাশয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই-বোর্ড চেয়ারম্যান, শিক্ষক, অভিভাবক, বুদ্ধিজীবি আপনাদের দৃষ্টিতে কিছুই বুঝেন না, বুঝেন শুধু আপনারাই।

আপনারা যখন এতই বুঝেন যে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ভালভাবে পরিচালনা করার জন্য, স্বচ্ছতা আনয়নের জন্য কমিটির প্রয়োাজন তখন এটা কেন বুঝেন না যে খাদ্য বিভাগ, চিকিৎসা বিভাগ, গণপূর্ত বিভাগ, মৎস বিভাগ, রেল বিভাগ, সড়ক বিভাগ, কর বিভাগ সহ যাবতীয় বিভাগের রাজধানী থেকে থানা পর্যায় পর্যন্ত যাবতীয় অফিস, এমনকি প্রশাসনিক অফিস যেমন ইউএনও অফিস থেকে মন্ত্রণালয় পর্যন্ত যাবতীয় অফিস সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং দূর্ণীতিমূক্ত করার জন্য বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আদলে কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। এতে খুব তাড়াতাড়ি দেশটি উন্নত দেশে পরিণত হবে। কষ্ট হচ্ছে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর জন্য, দেশের জন্য। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন, মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর স্বপ্নের সোনার দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কর্তৃপক্ষ যেভাবে এগিয়ে যেতে চাচ্ছেন তাতে সোনার দেশের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে।
লেখক-
অধ্যক্ষ
চিলাহাটি গার্লস্ স্কুল এন্ড কলেজ
ডোমার, নীলফামারী।