পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা -বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

প্রকাশিত: ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ, শনি, ১১ সেপ্টেম্বর ২১

মু. সাইদুল হাসান

সিনিয়র প্রভাষক

ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ

ঢাকা

শিক্ষার্থী বন্ধুরা, তোমাদের জন্য আজকের আলোচনার বিষয় বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়র প্রশ্নোত্তর।

অধ্যায়-১১

প্রশ্ন :গারোদের নিজস্ব ভাষার নাম কী?

উত্তর:গারোদের নিজস্ব ভাষার নাম আচিক।

প্রশ্ন :বাংলাদেশে কোন কোন এলাকায় খাসি জনগোষ্ঠী বাস করে?

উত্তর:বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় খাসি জনগোষ্ঠী বাস করে।

প্রশ্ন :খাসি জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষার নাম কী?

উত্তর:খাসি জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষার নাম মনখেমে।

প্রশ্ন :খাসি জনগোষ্ঠীতে বেশিরভাগের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী কে?

উত্তর:খাসি জনগোষ্ঠীতে পরিবারের বেশিরভাগের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়ে থাকে পরিবারের সবচেয়ে ছোট মেয়ে।

প্রশ্ন :খাসি ছেলেমেয়েরা কী ধরনের পোশাক পরে?

উত্তর:খাসি মেয়েরা কাজিম পিন নামক ব্লাউজ ও লুঙ্গি পরে। আর ছেলেরা পকেট ছাড়া শার্ট ও লুঙ্গি পরে, যার নাম ফুংগ মারুং।

প্রশ্ন: খাসিরা কাকে পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা মনে করে?

উত্তর:খাসিদের প্রধান দেবতার নাম উব্লাই নাংথউ। যাকে তারা পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা মনে করে।

প্রশ্ন: ম্রো জনগোষ্ঠীর পরিবারের প্রধান কে এবং এরা কী দিয়ে বাড়ি তৈরি করে?

উত্তর:ম্রো জনগোষ্ঠীর পরিবারের প্রধান হলেন পিতা এবং তাদের রয়েছে গ্রামভিত্তিক সমাজ। ম্রোদের বাড়িকে কিম বলে এবং এগুলো বাঁশের বেড়া ও ছনের চাল দিয়ে মাচার ওপর তৈরি করা হয়।

প্রশ্ন: ম্রো জনগোষ্ঠীর পোশাক ও খাদ্যের নাম লেখ।

উত্তর:ম্রো মেয়েদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের নাম ওয়াংলাই। পুরুষেরা খাটো সাদা পোশাক পরেন। ম্রোদের প্রধান খাদ্য ভাত, শুঁটকি মাছ ও বিভিন্ন ধরনের মাংস এবং তাদের অন্যতম খাবারের নাম নাপ্পি।

প্রশ্ন :ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর মোট কয়টি দফা রয়েছে এবং এরা কোথায় বাস করে?

উত্তর:ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর মোট ৩৬টি দফা আছে। এর মধ্যে ১৬টি বাংলাদেশে। বাকি ২০টি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে রয়েছে।

প্রশ্ন :ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর সমাজব্যবস্থা কেমন?

উত্তর:বাংলাদেশে বসবাসকারী ত্রিপুরারা পিতৃতান্ত্রিক সমাজের অধিকারী। তবে সম্পত্তির উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে ছেলেরা বাবার সম্পত্তি ও মেয়েরা মায়ের সম্পত্তি লাভ করে থাকেন।

প্রশ্ন :বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কয়েকটি ভাষার নাম লেখ।

উত্তর:বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের ভাষার নাম-

গারো-আচিক, খাসি-মনখেমে, ত্রিপুরা-ককবরক ও উমোই, ওঁরাও-কুডুখ ও সাদ্রি।

প্রশ্ন: গারো জনগোষ্ঠী কত বছর আগে কোথা থেকে এসে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বসবাস শুরু করে?

উত্তর:গারো জনগোষ্ঠী প্রায় ৪০০০ বছর আগে তিব্বত থেকে এসে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বসবাস শুরু করে।

প্রশ্ন :গারোদের আদি ধর্মের নাম কী?

উত্তর:গারোদের আদি ধর্মের নাম সাংসারেক।

প্রশ্ন :গারোদের মাতৃতান্ত্রিক সমাজে কারা পরিবারের প্রধান ও সম্পত্তির অধিকারী হয়?

উত্তর:গারোদের সমাজে নারীরাই পরিবারের প্রধান ও সম্পত্তির অধিকারী হয়।

প্রশ্ন :কাদের সূত্র ধরে গারোদের দল, গোত্র ও বংশ গড়ে ওঠে?

উত্তর:মায়েদের সূত্র ধরে গারোদের দল, গোত্র ও বংশ গড়ে ওঠে।

প্রশ্ন :গারোদের ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু খাবার কী?

উত্তর:গারোদের ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু খাবার বাঁশের কোড়ল দিয়ে তৈরি হয়।

প্রশ্ন :নকমান্দি বলতে কী বোঝায়?

উত্তর:গারো জনগোষ্ঠীর লোকেরা নদীর তীরে লম্বা এক ধরনের বাড়ি তৈরি করতেন, যা নকমান্দি নামে পরিচিত।

প্রশ্ন :গারোরা কী ধরনের পোশাক পরিধান করে থাকে?

উত্তর:গারো নারীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের নাম দকবান্দা বা দকসারি। পুরুষরা শার্ট, লুঙ্গি, ধুতি ইত্যাদি পরিধান করে থাকে।

প্রশ্ন :১৮৭২ সালে গারো জনগোষ্ঠী কাদের সঙ্গে যুদ্ধে পরাজিত হয়েছিল?

উত্তর:১৮৭২ সালে গারো জনগোষ্ঠী ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধে পরাজিত হয়েছিল।

প্রশ্ন :তখনকার দু’জন গারো বীরযোদ্ধার নাম লেখ।

উত্তর:সে সময়কার দু’জন গারো বীরযোদ্ধা টগান নেংমিনজা ও সোনারাম সাংমা।

প্রশ্ন: ওয়াংগালা কী?

উত্তর:গারোদের ঐতিহ্যবাহী উৎসবের নাম ওয়াংগালা। এই উৎসবের সময়ে তারা সূর্য দেবতা সালজংয়ের প্রতি নতুন শস্য উৎসর্গ করে। সাধারণত নতুন শস্য ওঠার সময় অক্টোবর বা নভেম্বর মাসে উৎসবটি হয়।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.