নোবিপ্রবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১০ অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক।।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) পরিসংখ্যান বিভাগের প্রধান মিম্মা তাবাসসুমের বিরুদ্ধে নম্বর টেম্পারিংসহ ১০টি অভিযোগ করেছেন বিভাগটির স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থীরা। গতকাল বুধবার বিজ্ঞান অনুষদের ডিন বরাবর এ অভিযোগ করেন তারা। লিখিত অভিযোগে ২২ জন শিক্ষার্থীর সই রয়েছে।

অভিযোগ হাতে পাওয়ার বিষয়টি আমাদের সময় অনলাইনকে নিশ্চিত করেছেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. হানিফ মুরাদ। ইতোমধ্যে অভিযোগের অনুলিপি প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

অভিযোগে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেছেন, ২০২১ সালের ৩ মে বিভাগের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই মিম্মা তাবাসসুম শিক্ষার্থীদের নম্বর টেম্পারিং করা, মানসিক হেনস্তা করাসহ বিভিন্নভাবে অপদস্থ করে আসছেন।

তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো হলো- ব্যক্তিগত আক্রোশের জেরে শিক্ষার্থীদের নম্বর টেম্পারিং করা, পূর্বঘোষণা দিয়ে পুরো ব্যাচের নম্বর টেম্পারিং করা, বিভাগের অন্য শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা, ‘ছোট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়’ বলে শিক্ষার্থীদের হেয় করা এবং (নোবিপ্রবিকে) নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তুলনা করা, শিক্ষার্থীদের আর্থিক অবস্থা নিয়ে কটূক্তি করা, ল্যাব ক্লাসে শিক্ষার্থীদের প্রতি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠা, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রশ্ন তোলা, উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যেতে চাওয়া শিক্ষার্থীদের হেয়প্রতিপন্ন করা, ‘তোমাদের ব্যাচ থেকে কীভাবে টিচার হয়, আমি তা দেখে নেব’ এ জাতীয় হুমকি দেওয়া এবং কর্মচারীদের ভুল তথ্যে কোনো ধরনের যাচাই ছাড়া শিক্ষার্থীদের হেনস্তা করা।

শিক্ষার্থীদের দাবি, অবিলম্বে বিভাগীয় প্রধানের পদ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে অব্যাহতি দিতে হবে। একইসঙ্গে চলমান এবং পরবর্তী সেমিস্টারের ফলাফলে যেন কোনো প্রভাব না পড়ে তার নিশ্চয়তা দিতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিসংখ্যান বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকেই ম্যাম মানসিকভাবে শিক্ষার্থীদের অপদস্থ করে আসছেন। উচ্চশিক্ষার জন্য কোনো শিক্ষার্থীরা বাইরে যেতে চাইলে তাকে নিয়ে টিটকারি করেন। তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে আমাদের নম্বর টেম্পারিং করে আসছেন।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ম্যাম সব সময় আমাদের মানসিক হেনস্তার ওপর রাখেন। নিজের পরিবারের সদস্যদের উদাহরণ টেনে দাম্ভিকতা দেখান।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন হানিফ মুরাদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অভিযোগগুলো হাতে পেয়েছি। এ বিষয়ে বিভাগীয় চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলবো।’

পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের বিভাগীয় প্রধানের বিরুদ্ধে আমার নিকট একটি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। আগামী সোমবার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে।

তবে অভিযুক্ত শিক্ষক মিম্মা তাবাসসুম জানান, শিক্ষার্থীদের করা অভিযোগগুলো সম্পর্কে তিনি অবগত নন। এ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ তিনি হাতে পাননি।’