নিরাপদ হোক বিদ্যালয়

প্রকাশিত: ৭:১০ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গল, ৯ মার্চ ২১

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার অপেক্ষায় দেশবাসী। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ক্ষেত্রে প্রস্তুতি প্রয়োজন। আমরা মনে করি, শ্রেণিকক্ষ কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেমন পাঠদানের উপযোগী করা প্রয়োজন, তেমনি শিক্ষার্থীদের ইতোমধ্যে যে ক্ষতি হয়ে গেছে, তা পুষিয়ে নিতেও পরিকল্পনা জরুরি। সোমবারের সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘করোনার ক্ষতি পোষাতে এক ডজন পরিকল্পনা’ নিয়েছে প্রশাসন। আমরা দেখেছি, টানা বন্ধের কারণে শিক্ষাবর্ষে জট লেগে গেছে; দেশের উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে অন্তত দেড় বছরের সেশনজট। এইচএসসি, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী, জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেটের (জেডিসি) মতো পাবলিক পরীক্ষা ও বিদ্যালয়গুলোর ২০২০ সালের বার্ষিক পরীক্ষা বাতিল করায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সারাদেশের প্রায় পাঁচ কোটি শিক্ষার্থী। তবে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের। কারণ অনেকে অনলাইনে কিছু শিখতে পারলেও তাদের অধিকাংশের সে সুযোগ ছিল না।

স্বাভাবিকভাবেই আনুষ্ঠানিক ক্লাস না হওয়া, দীর্ঘকাল ঘরবন্দি থাকাসহ নানা কারণে গত বছরের পাঠ্যসূচির অনেক কিছুই শিক্ষার্থীরা রপ্ত করতে পারেনি। চলতি শিক্ষাবর্ষও যেভাবে দেরিতে শুরু হতে হচ্ছে, তাতে অতিরিক্ত ক্লাস নিয়েও ক্ষতি কতটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব- সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। আমরা মনে করি, এ ক্ষেত্রে সিলেবাস কমিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত যথোপযুক্ত। আমরা জানি, অন্তত ছয় মাস ধরে দেশের প্রায় সব ক্ষেত্রে স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড চললেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনও খোলেনি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ক্ষেত্রেও সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট। বিশেষ করে, যেখানে ২৪ মে থেকে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে; সেখানে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে তারও প্রায় দুই মাস আগে; ৩০ মার্চ থেকে। তার ওপর বলা হচ্ছে, পঞ্চম, দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন প্রতিষ্ঠানে আনা হলেও অন্য শ্রেণিগুলোর জন্য প্রতিদিন খোলা থাকবে না স্কুল-কলেজ। আমরা মনে করি, এখন এভাবে বিভাজনের কোনো যৌক্তিকতা নেই। বরং ৩০ মার্চ থেকে পুরোদমে সবার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া দরকার। খোলার পরপরই রমজানের কারণে আবার যেন দীর্ঘদিনের ছুটিতে শিক্ষার্থীরা না পড়ে।

আমরা চাইব, রমজান মাসেও শ্রেণি কার্যক্রম চলুক। এমনকি ঈদসহ অন্যান্য ছুটি যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা সম্ভব, তা করা। তবে ৩০ মার্চের আগেই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী সবাইকে করোনার টিকা দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে শিশু শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার সুযোগ নেই বলে তাদের সুরক্ষার বিষয়টি দেখতে হবে। আমরা মাউশি মহাপরিচালকের কথায় আশ্বস্ত হতে চাই। তিনি বলেছেন, এরই মধ্যে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক দূরত্ব রেখে ক্লাস নিতে নানা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বহু প্রতিষ্ঠানে ঢোকার মুখেই হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ নতুন করে ওয়াশ ব্লক নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ‘ফার্স্টএইড’ বক্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এক লাখ স্কুলশিক্ষককে মানসিক চিকিৎসার ওপর প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ঘরবন্দি থাকা কোনো শিশুর বিদ্যালয়ে এসে কোনো ধরনের মানসিক সমস্যা হলে তার প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে পারবেন তারা।

আমরা চাই, প্রাথমিক বিদ্যালয়েও এসব ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক। একই সঙ্গে বিদ্যালয় খোলার পর অন্তত কিছুদিন পর্যবেক্ষণ করা উচিত, কোনো শিক্ষার্থী ঝরে পড়ল কি-না। ঝরে পড়াদের বিদ্যালয়ে ফেরানোর পরিকল্পনাও এখনই করা চাই। আমরা দেখেছি, করোনার সময়ে বেসরকারি অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। সেখানকার শিক্ষার্থীরাও যাতে অন্য প্রতিষ্ঠানের শ্রেণি কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে, সে ব্যবস্থাটিও নিশ্চিত করা চাই। আমরা মনে করি, শিক্ষা প্রশাসন করোনার প্রভাবগত সম্ভাব্য সব বিকল্প ভেবেই পরিকল্পনা করছে। যার অনেক বিষয় ইতোমধ্যে সংবাদমাধ্যমেও এসেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সব কার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পন্ন হবে বলে আমাদের বিশ্বাস। শিশুদের কলকাকলিতে বিদ্যালয়গুলো আবার মুখরিত হয়ে উঠুক; তাদের জন্য বিদ্যালয় ও শ্রেণিকক্ষ নিরাপদ হবে- এটাই প্রত্যাশা।সুত্র সমকাল

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.