নলডাঙ্গায় “পলো” দিয়ে মাছ ধরার উৎসব

প্রকাশিত: ১:০৭ পূর্বাহ্ণ, বুধ, ১৮ নভেম্বর ২০

মোঃ মাহমুদুল হাসান (মুক্তা), নলডাঙ্গা, নাটোরঃ
বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও কালের বিবর্তনে বিলুপ্তির পথে এক সময়কার চিরচেনা গ্রামবাংলার অপরূপ সৌন্দর্যময় মাছ ধরা যন্ত্র “পলো”। এখন শুধু কল্পনা আর ইতিহাস মনে হবে বর্তমান প্রজন্মের কাছে পলো দিয়ে মাছ ধরার গল্প। গ্রাম বাংলার চিরচেনা ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে নাটোর জেলার নলডাঙ্গা উপজেলার ৫ নং বিপ্রবেলঘড়িয়া ইউনিয়নের হরিদাখলসী গ্রামে কুড়িল বিলে একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন “হরিদাখলসী যুব সংঘ” এর নেতৃত্বে সকল সদস্যরা গ্রাম বাসীকে ঐক্যবদ্ধ করে পলো দিয়ে মাছ ধরার উৎসবের আয়োজন করেন।

১৭ নভেম্বর মঙ্গলবার হরিদাখলসী কুমিল্লা পাড়া কুড়িল বিলে সকাল ১০ ঘটিকায় শুরু হয় এ উৎসব যা চলে বিকাল পর্যন্ত।

এ সময় হরিদাখলসী গ্রামের আশেপাশের গ্রাম বানুরভাগ, নশরৎপুর, তেঘরপাড়া, ধামনপাড়া, সমসখলসী গ্রামসহ ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকার প্রায় তিন শতাধিক মানুষ পলো দিয়ে মাছ ধরার উৎসবে মেতে উঠেন। হরিদাখলসী কুড়িল বিলে পলো সহ বিভিন্ন গ্রামীণ উপকরণ দিয়ে দল বেঁধে মাছ ধরার দৃশ্য যেন দেখার মতো। দলবদ্ধভাবে মাছ শিকারের এ দৃশ্য দেখতে বিলের দুই তীরে ভিড় জমায় উৎসুক বিভিন্ন বয়সী ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার, নারী-পুরুষ সহ হাজারো মানুষ।

উৎসবে অংশ নেয়াদের হাততালি, জোরে জোরে চিৎকার করে উৎসাহ দেন তীরে অবস্থানরত লোকজন। বিলে বড়দের পাশাপাশি ছোট ছেলে-মেয়েদেরও দেখা যায়। মাথা ও কোমরে গামছা বেঁধে অনেকটা আনন্দ নিয়েই মাছ ধরতে দেখা যায় তাদের।

প্রবীণ মাছ শিকারি ইয়াছিন আলী বলেন, বছরের এই দিনের জন্য অধীর আগ্রহে থাকি। সবাই মিলে একসঙ্গে মাছ ধরার আনন্দটাই আলাদা। দিন দিন পরিবেশ ও আবহাওয়ার কারণে নদী-নালা, খাল-বিল, হাওড়ের তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি হ্রাস এবং অধিকাংশ জলাশয় ইজারা দেয়ায় পলো বাওয়া উৎসব এখন অনেকটাই ভাটা পড়েছে। এছাড়া অভাব অনটন ক্রমশ গ্রাস করে ফেলছে চিরাচরিত এই গ্রামীণ উৎসবের অতীত ঐতিহ্যকে। এরপরও বছরের এই দিনে সবাই মিলে একযুগ পর অতীতের ন্যায় মাছ ধরার উৎসব পালন করছি।

এসময় সেচ্ছাসেবী সংগঠন হরিদাখলসী যুব সংঘ এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোঃ জামিল হায়দার জনি বলেন, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে ও রাক্ষার্থে আমাদের সংগঠন এমন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.