নরওয়েতে পড়ার সুযোগ মাদরাসা শিক্ষার্থিদের

প্রকাশিত: ৮:২০ অপরাহ্ণ, মঙ্গল, ১২ জানুয়ারি ২১

অনলাইন ডেস্ক ||

নরওয়েতে শিক্ষাখরচ সম্পূর্ণ ফ্রি হওয়ায়, সেখানে পড়ালেখা করার আকর্ষণীয় সুযোগ রয়েছে। চমৎকার বিষয় হচ্ছে, এইচএসসি সমমান অর্থাৎ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড থেকে আলিম পাস করা শিক্ষার্থীরাও সেখানকার আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ালেখা করার সুযোগ পাবে। তাই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা এই সুযোগটি খুব দ্রুত লুফে নিচ্ছে।

নরওয়ের শিক্ষাব্যবস্থা সমগ্র ইউরোপ মহাদেশের মধ্যে অন্যতম। সেখানে ১৫টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ২৫টি কলেজ ও অগণিত প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। সেখানকার স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ শিক্ষাখরচ ব্যতিত উচ্চশিক্ষা অর্জনের সুযোগ রয়েছে। কোনো স্পেশাল প্রোগ্রাম ব্যতিত নরওয়েতে কোনো শিক্ষাখরচ নেই। প্রতি বছর প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে নরওয়ে সরকার শতভাগ বৃত্তির সুযোগ দেয়।

আন্তর্জাতিক সানরাইজ এডুকেশন কনসালটেন্সি ফার্ম সেখানে ফ্রিতে পড়ালেখা করার ভিসা প্রক্রিয়ার কাজ সম্পাদন করে থাকে। তারা একজন শিক্ষার্থীর ভিসা প্রক্রিয়া হতে শুরু করে, বৃত্তি, থাকা-খাওয়া ও অভিবাসন অফিসে ইন্টারভিউ দেওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীকে প্রস্তুত করে থাকে। এই কনসালটেন্সি ফার্মটি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যেও বহুল পরিচিত। এর মাধ্যমে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা প্রচুর সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে। তাদের এজেন্টরা ২৪ ঘণ্টা সেবা দেয়।
ব্যাচেলর প্রোগ্রামে পড়ালেখা করার জন্য অবশ্যই এইচএসসি পাসের সনদ প্রয়োজন। এছাড়া ৪ বছরের বেশি স্টাডি গ্যাপ গ্রহণযোগ্য হবে না, মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের শিক্ষার্থীদের ও বৃত্তি নিয়ে পড়ালেখার সুযোগ রয়েছে। বৃত্তির মাধ্যমে পড়ালেখা করার জন্য এইচএসসি পরীক্ষায় অবশ্যই জিপিএ ৪.০/৫.০ থাকতে হবে।

মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৩ বছরের ব্যাচেলর প্রোগ্রামের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে, পাশাপাশি ব্যাচেলর প্রোগ্রামে সিজিপিএ ৩.১০/৪.০০ থাকতে হবে। ব্যাচেলর প্রোগ্রামে কর্ম অভিজ্ঞতা থাকলে ভালো।

সেখানে পড়ালেখার জন্য আইইএলটিএস (International English Language Testing System) পরীক্ষায় ৬.৫ পয়েন্ট পাওয়া অতি প্রয়োজনীয়। কিন্তু কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ৬.০ পয়েন্টেও ভর্তির সুযোগ দিয়ে থাকে। পড়ালেখার জন্য বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১০ লাখ ৯০ হাজার টাকা শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে ফিক্সড ডিপোজিট করার প্রয়োজন হয়।

নরওয়েতে শিক্ষার্থীদের কাজ করার জন্য প্রতি বছর ১২০ কার্যদিবস দেওয়া হয়। প্রতি ঘণ্টায় একজন শিক্ষার্থীকে ৮.৫১ ইউরো পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। তাই শিক্ষার্থীরা সেখানে ভালোভাবে বসবাস করতে পারে। একজন শিক্ষার্থী পড়ালেখা শেষ করার পর সেখানে অতিরিক্ত ১৮ মাস কাজ করার সুযোগ পায় ও তার পাশাপাশি সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করার সুযোগও পেয়ে থাকে।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.