নবরূপে সাজছে ঢাকার ৩৪২ প্রাথমিক স্কুল

নিউজ ডেস্ক।।

শিশু শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করার লক্ষ্যে ঢাকা মহানগরীর ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে নতুন রূপে সাজানো হচ্ছে। যার নাম দেয়া হয়েছে দৃষ্টিনন্দনকরণ প্রকল্প। প্রায় দুই লাখ শিক্ষার্থীর জন্য শিশুবান্ধব শিক্ষা গ্রহণের পরিবেশ নিশ্চিতসহ শিক্ষার মান বৃদ্ধি করার কাজ হাতে নেয়া হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শতভাগ ভর্তি নিশ্চিতকরণ, শিশুর মানসিক বিকাশ ঘটানো, শিক্ষায় প্রবেশাধিকার, উচ্চশিক্ষা এবং পরিপূর্ণ উন্নতির ধারাবাহিকতার মাধ্যমে সামাজিক বৈষম্য হ্রাসকরণে বিদ্যালয়গুলোকে আকর্ষণীয় করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

যদিও প্রকল্পটি জানুয়ারি ২০২০ সালে শুরুর কথা ছিল এবং এটি সম্পন্ন হবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। তবে মামলা জটিলতা, করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) পরিস্থিতিসহ নানা কারণে ঢাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো দৃষ্টিনন্দনের কাজ বন্ধ ছিল। গেলো দুই বছর পর আগামী ১১ মে দৃষ্টিনন্দন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় অবকাঠামো নির্মাণ ও সংস্কারের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষের দেয়ালে নানা রঙ দিয়ে লেখা থাকবে বাংলা ও ইংরেজি বর্ণমালা। থাকবে সচেতনতামূলক কার্টুন সিরিজের কাল্পনিক চরিত্র মীনা, মিতু ও রাজুর ছবি। এছাড়াও গাণিতিক নানা প্রতীকের পাশাপাশি দেয়ালে দেয়ালে আঁকা হবে দেশবরেণ্য লেখক ও মনীষীদের ছবি।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র আরও জানায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে আরও দৃষ্টিনন্দন করতে এক হাজার ১৫৯ কোটি ২১ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে রাজধানী ঢাকার ৩৪২টি স্কুলে নতুনভাবে সংস্কার কাজ করা হবে।

আরও জানা যায়, রাজধানীর যেসব প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্প্রসারণ বা আধুনিক করার সুযোগ নেই, সেগুলোকে কাছাকাছি কোনো বড় পরিসরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সঙ্গে একীভূত করার বিষয়টি চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। সব বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ তৈরি করা হবে। প্রতিটি বিদ্যালয়কেই পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপ দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, রাজধানীর ১৫৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই হাজার ৯৭৫টি কক্ষ নতুনভাবে নির্মাণ ও দৃষ্টিনন্দন করা হবে। আর ১৭৭টি বিদ্যালয়ের এক হাজার ১৬৭টি কক্ষের অবকাঠামো উন্নয়নসহ সৌন্দর্য বাড়ানো হবে।

এছাড়াও উত্তরাতে তিনটি ও পূর্বাচলে ১১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নতুনভাবে স্থাপন করা হবে। প্রকল্পের আওতায় মোট দুই লাখ শিশু শিক্ষার্থীর জন্য শিশুবান্ধব শিক্ষা গ্রহণের পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা আমার সংবাদকে বলেন, করোনা মহামারি আর ভূমি জটিলতায় প্রায় দুই বছর পর কাজ শুরু হচ্ছে। আগামী ১১ মে উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে রাজধানীর বিদ্যালয়গুলোর দৃষ্টিনন্দন কাজ শুরু করা হবে।