নন-ক্যাডারে শূন্যপদ নির্দিষ্ট হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

এবার সরকারি চাকরিতে নন-ক্যাডারে শূন্যপদ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। চলমান চারটি বিসিএসের নন-ক্যাডারে কোন বিসিএসের জন্য কত পদ বরাদ্দ, সেটি নির্দিষ্ট করে সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) চিঠি পাঠিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সবচেয়ে বেশি পদ বরাদ্দ এসেছে ৪০তম বিসিএসের নন-ক্যাডারের তালিকার প্রার্থীদের জন্য। এদিকে পিএসসি থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে, তারা জনপ্রশাসনের শূন্য পদের তালিকা পেয়েছে। গতকাল সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নবনিয়োগ শাখার এক যুগ্মসচিব কর্মকর্তা বিষয়টি ইনকিলাবকে নিশ্চিত করেছেন।

জানান ‘বিধি অনুসারে কোন বিসিএসে কত পদ বরাদ্দ, সেটি নির্দিষ্ট করে দিতে পিএসসি মন্ত্রণালয়ে যে চিঠি দিয়েছিল, তার উত্তর দেওয়া হয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়, ৪০, ৪১, ৪৩ ও ৪৪ বিসিএসের কোনটির নন-ক্যাডারের জন্য কত পদ, তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। চাহিদা অনুসারে কয়েক দিন আগে চিঠি পিএসসিতে পাঠানো হয়েছে। সেখানে পদ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বেশি পদ ৪০তম বিসিএসের নন-ক্যাডারে থাকা প্রার্থীরা পাবেন। তবে অন্য বিসিএসের পদ সরকার চাইলে বাড়াতে পারে। সেই সুযোগ রেখে কাজ চলছে।

ওই কর্মকর্তা জানান, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন থেকে নতুন বিসিএসের বিজ্ঞপ্তিতে ক্যাডার পদের পাশাপাশি নন-ক্যাডার পদের সংখ্যাও উল্লেখ থাকবে। তবে চলমান ৪০, ৪১, ৪৩ ও ৪৪তম বিসিএসের ক্ষেত্রে কোন বিসিএসের সময় কোন শূন্য পদের চাহিদা এসেছে, সেটি পর্যালোচনা করে মেধার ভিত্তিতে নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের সুপারিশ করা হবে।

বিসিএস নন-ক্যাডার পদে চাকরিপ্রার্থীদের মানববন্ধনের পর নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিয়েছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের জন্য নতুন কোনো নিয়ম করা হয়নি। নন-ক্যাডার নিয়োগের পদ উল্লেখ করার বিধিটি সরকার ২০১০ সালে করে। সেটি ২০১৪ সালে সরকারই সংশোধন করে। পিএসসি সরকারের সেই বিধি অনুসরণ করে। এ নিয়োগবিধি আগে যেমন ছিল, তেমনই রয়েছে। বর্তমান কমিশন নন-ক্যাডার নিয়োগবিধিতে কোনো পরিবর্তন করেনি।

কমিশন নিজেদের কোনো সিদ্ধান্ত চাকরিপ্রার্থীদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে না, বরং সরকারের বিধিতে যা বলা আছে, সেটিই বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে তারা।
৪০তম বিসিএস পরীক্ষায় অপেক্ষমাণ নন-ক্যাডার প্রার্থীরা নন-ক্যাডারে নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন পদ্ধতি বাদ দিয়ে আগের নিয়মে চাকরি পাওয়ার দাবি জানিয়ে ৬ অক্টোবর পিএসসির সামনে মানববন্ধন করেন। পরে তাঁরা পিএসসির চেয়ারম্যানের সঙ্গেও দেখা করে তাঁদের দাবির বিষয়ে কথা বলেন। এবিষয়ে পিএসসি থেকে বলা হয়, বিসিএস থেকে নন-ক্যাডার নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার ২০১০ সালের বিধি ২০১৪ সালে সংশোধন করে। সরকারের ওই বিধিতে বলা আছে, বিজ্ঞপ্তিতে নন-ক্যাডার শূন্য পদের বিবরণ ও সংখ্যা উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

কিন্তু ২৮ থেকে ৪৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তিতে নন-ক্যাডার শূন্য পদের বিবরণ ও সংখ্যা উল্লেখ করা সম্ভব হয়নি। যেহেতু ৪০, ৪১, ৪৩ ও ৪৪তম বিসিএসেও পদসংখ্যা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি, তাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পদের প্রাপ্যতা। অনুযায়ী যেটা বলবে, সেটা করা হবে। যেহেতু বিধিতে পদ উল্লেখ করার কথা বলা আছে, তাই ৪৫তম বিসিএস থেকে পিএসসি পদ উল্লেখ করার জোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। সেখানে ক্যাডারের পাশাপাশি নন-ক্যাডারের পদ উল্লেখ থাকার জন্য কাজ করা হচ্ছে।

ক্যাডার যেমন পছন্দ করা যাবে, তেমনি নন-ক্যাডারের পদও পছন্দ করার সুযোগ রাখা হবে। পিএসসি সূত্র জানায়, বিসিএস নন-ক্যাডার প্রার্থীরা মনে করছেন পিএসসি নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে, কিন্তু এটি ঠিক নয়। পিএসসি কেবল সরকারের বিধি বাস্তবায়ন করার কাজ করছে। অনেকে মনে করতে পারেন নন ক্যাডারে নিয়োগের ক্ষেত্রে ৪০, ৪১, ৪৩ ও ৪৪তম বিসিএসের মধ্যে পদ ভাগ করলে ৪০তম বিসিএসের নন-ক্যাডার পদ কমে যাবে। কিন্তু যার যার যা প্রাপ্য, তার বাইরে তো দেওয়া যাবে না। যদি ৪০তম বিসিএসের নন-ক্যাডার পদ সবাইকে দেওয়া হয়, তাহলে অন্য বিসিএসের নন-ক্যাডার প্রার্থীরাও তাই চাইতে পারেন। কিন্তু তা দেওয়া সম্ভব হবে না। যার যেটুকু প্রাপ্য, তা যাতে নিশ্চিত হয়, সে চেষ্টাই করছে পিএসসি।

চিকিৎসকদের জন্য বিশেষ বিসিএস ৪২তম থেকে নন-ক্যাডারে আরও কিছু চিকিৎসক নিয়োগের সুপারিশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। জানতে চাইলে পিএসসির একজন কর্মকর্তা জানান, এ বছরের মার্চে ৪২তম বিশেষ বিসিএস থেকে ৫৩৯ জন চিকিৎসককে নিয়োগের সুপারিশ করে পিএসসি। এরপর এখন এমবিবিএস শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন নন-ক্যাডার প্রথম শ্রেণির (নবম গ্রেড) শূন্য পদে নিয়োগের জন্য পিএসসিতে আরও কিছু পদ জমা হয়েছে। ওই পদগুলোর বিপরীতে চিকিৎসক নিয়োগের সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কত পদে নিয়োগ দেওয়া হবে, সেটি সভায় অনুমোদন দেওয়া হবে।

এই নন-ক্যাডার তালিকায় আছেন, এমন কয়েকজন প্রার্থী পিএসসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করে তাদের ক্যাডার পদে নিয়োগের অনুরোধ করেছেন। তবে এটি সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পিএসসি। করোনার বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রথমে দুই হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দিতে ৪২তম বিসিএসের আয়োজন করে পিএসসি। পরে সেখান থেকে আরও দুই হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেয় সরকার। একই সময় পিএসসি চার হাজার নার্সও নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ করে।