নতুন শিক্ষা ও পরীক্ষা পদ্ধতি

প্রকাশিত: ১২:৩৯ অপরাহ্ণ, বুধ, ২৫ নভেম্বর ২০

>>>
করোনা দুর্যোগে দেশের সার্বিক কাঠামোয় যে অনাকাক্সিক্ষত বিপর্যয় ঘটেছে সেখানে জাতির মেরুদণ্ড শিক্ষা খাতে এসেছে চরম দুঃসময়। ১৭ মার্চ থেকে শুরু হওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের যে সরকারী নির্দেশনা সেখানে আজ পর্যন্ত কোন সুরাহ হয়নি। তার চেয়েও বেশি সমস্যা হচ্ছে পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। তেমন অচলাবস্থায় পরবর্তীতে নতুন শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হওয়াও এক ভিন্নমাত্রার বিপন্নতা। সময়ের প্রেক্ষাপটে মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরের শ্রেণীতে নিয়ে যাওয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিবেচনায় নিতে হয়েছে। থমকে যাওয়া পরীক্ষা কার্যক্রমকে নতুন মাত্রা দেয়া জাতির ভবিষ্যত কর্ণধারদের জন্য এক মহাপরিকল্পনা। সঙ্গত কারণেই পরীক্ষা পদ্ধতিকে ঢেলে সাজিয়ে ব্যাপক পরিবর্তনের বিষয়টি ভাবতে হচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে। মূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে প্রাক প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যক্রমে। বিষয় এবং পরীক্ষায় নিয়ে আসা হচ্ছে অন্য মাত্রা, ভিন্ন কার্যক্রম। বোর্ড পরীক্ষা কমিয়ে শ্রেণীপাঠের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের মেধা ও মনন যাচাই হবে শিক্ষার্থীদের অন্য শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হওয়ার উপায়। এখানে পাবলিক পরীক্ষার চাইতেও বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে শ্রেণীকক্ষের ধারাবাহিক পর্যালোচনায়। শিক্ষার্থীরা সাপ্তাহিক ছুটি পাবে ২ দিন। তবে জাতীয় দিবসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে। বিষয়,পাঠ্যপুস্তক, নতুন শিক্ষা কার্যক্রম সবই ক্রমান্বয়ে নতুন মাত্রা দেয়ার কাজ প্রায় তার গন্তব্যে। শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি জাতীয় সংসদে বলেন, ২০২২ সাল থেকে নতুন পদ্ধতিতে কার্যক্রম বাস্তবায়ন হবে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা যায়, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে নতুন এই কার্যক্রম তার যাত্রাপথে এগিয়ে যাবে। আগামী জানুয়ারি থেকে এই কার্যক্রম করোনা দুর্যোগে শুরু করা যাবে না বিধায় ২০২২ সাল থেকেই বদলে যাওয়া শিক্ষা কর্মসূচী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হবে।

এনসিটিবির শিক্ষাক্রম সদস্য অধ্যাপক মোঃ মশিউজ্জামান জানান, এই কার্যক্রম অনুযায়ী আগামী জুনের মধ্যে নতুন বই প্রণয়নের কাজ সমাপ্ত করা হবে। পরবর্তী বছর অর্থাৎ ২০২২ সাল থেকে তা সংশ্লিষ্ট ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে পৌঁছে দেয়া হবে। এখানে বিবেচনায় রাখা হয়েছে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামর্থ্য, শিক্ষকের যোগ্যতা নিরূপণ ছাড়াও আনুষঙ্গিক বিষয়াদি। নতুন এই শিক্ষাবিধি যে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসছে তাতে সন্দেহ নেই। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিত হয়ে কাজ করার ব্যাপারেও সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এবারের কার্যক্রম ঢাকাসহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে শিক্ষা ও পরীক্ষা কর্মসূচীতে বিশেষ পরিবর্তন আনা হয়।

নতুন এই কর্মপ্রকল্পে শিক্ষার্থীদের যোগ্যতাকে সবচেয়ে বিবেচনায় আনা হবে। তাদের জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ, নৈতিকতার ধারাবাহিক সমন্বয় শিক্ষার্থীকে কৃতিত্বের ভাগীদার করবে। তার প্রভাব পড়বে শ্রেণীপাঠ কক্ষে পরবর্তীতে অন্য শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রেও। তথ্য-প্রযুক্তির সম্প্রসারিত যুগে নতুন পদ্ধতিতে আধুনিক বিজ্ঞানভিত্তিক কার্যক্রমও ছাত্র-ছাত্রীদের আরও দক্ষভাবে গড়ে তুলবে।

দশম শ্রেণীতেই প্রথম বোর্ড পরীক্ষার মুখোমুখি হবে সংশ্লিষ্টরা। এখানে বিভাগভিত্তিক কোন পার্থক্য থাকবে না বিজ্ঞান, মানবিক কিংবা ব্যবসায়। আবার তৃতীয় শ্রেণীর আগ পর্যন্ত কোন পরীক্ষাই বিবেচনায় রাখা হয়নি। প্রাক-প্রাথমিক দুই বছর যা শুধু শ্রেণীকক্ষের ধারাবাহিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে করা হবে। একেবারে উচ্চ মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হয়ে কোন শিক্ষার্থী তার বিভাগ যাচাইয়ের সুযোগ পাবে। সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত থাকবে বাংলা, ইংরেজী এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি। নতুন এই কার্যক্রম শুরু হতে এখনও এক বছর অপেক্ষা করতে হবে। স্বভাবতই সফলতাও নির্ভর করবে পরবর্তী ধাপে।
‌‌

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.