নতুন শিক্ষাক্রম বুঝতে সমস্যা

গাইড খুঁজছেন শিক্ষক-অভিভাবকরা

শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃ  চলতি শিক্ষাবর্ষে থেকে সরকার ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম চালু করেছে। এরইমধ্যে বইও শিক্ষার্থীদের হাতে চলে গেছে। এরপরে দেশজুড়ে শিক্ষকদের ৫ দিনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশিক্ষণ কিংবা সেই বই পড়ে কিছুই বুঝতে পারছেন না শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এরকম পরিস্থিতিতে তারা লাইব্রেরিগুলোতে জোরেশোরে সহায়ক (নোট-গাইড) বই খূঁজছেন। তাদের মতে, কোনো গাইড বই না থাকায় নতুন শিক্ষাক্রমে পড়ানোর ধরণ বা কাঠামোই বুঝতে পারছেন না। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, নতুন শিক্ষাক্রমে নতুন পদ্ধতিতে শিখবে, নতুনভাবে মূল্যায়িত হবে, দক্ষ ও সৃজনশীল হবে। এতে পড়ার কাঠামোটাই বদলে যাবে। এজন্য আমাদেরকে একটু সময় দিতে হবে। এখনো দেশের সব জায়গায় পাঠ্যবই পৌঁছেনি-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিভিন্ন সংকটের কারণে গতবছর পাঠ্যবই ছাপাতে সমস্যঅ হয়েছিল। এনসিটিবির চেয়ারম্যান বলেছেন, ২৫ জানুয়ারির মধ্যে সব জায়গায় বই পৌঁছে যাবে। তবু কোনো প্রতিষ্ঠান বই পায়নি জানালে আমরা সেখানে দ্রুত পৌঁছে দেব।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে শিক্ষকরা ৫ দিনের প্রশিক্ষণ পেলেও সেটি পর্যাপ্ত ছিল না। এরফলে নতুন শিক্ষাক্রমে পাঠদান কতটুকু ফলপ্রসূ হবে না সৃজনমীল শিক্ষার মত গাইড নির্ভর হয়ে পড়বে সেনিয়ে এখন থেকেই প্রশ্ন উঠেছে। এসব বিষয়ে একাধিক শিক্ষক কথা বলতে রাজি হননি। তাদের মতে, নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে আরো প্রশিক্ষণের দরকার।

জানতে চাইলে মাগুড়ার নিউ রঞ্জন বুকস এন্ড পেপার্সের পরিচালক লিটন ঘোষ  বলেন, নতুন শিক্ষাক্রমের গাইড বই বেরিয়েছে কি না তা জানতে প্রতিদিন একবার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আসছেন। তাদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে শুধু লেখা আছে। কিন্তু কিভাবে প্রশ্নকাঠামো হবে-তার ব্যাখা নেই। প্রশিক্ষণ হলেও শিক্ষকরা ভালোভাবে বুঝতে পারেননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, গাইড থাকলে সেখান থেকে ধারণা নিয়ে শিক্ষকরা পড়াতে পারতেন। তিনি মাগুড়া বালিকা, বালক এবং কালেক্টেরেট-এই তিনটি স্কুলের শিক্ষকরা গাইড চাইছেন উল্লেখ করে বলেন, নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে ধারণা না থাকায় ছাত্রছাত্রীদেরও পড়াতে পারছি না।

নাটোরের মর্ডান লাইব্রেরির মালিক মো. মহিবুল্লাহ সরকার  বলেন, প্রতিদিন ১/২শ লোক এসে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির নোট গাইড চাচ্ছে। এদের যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে যাচ্ছি। নতুন শিক্ষাক্রমে বোর্ড বই বের হলেও নোট-গাইড বের হয়নি। তারা বলছেন, সরকার নতুন যে শিক্ষাক্রম করেছে সেটি পড়াতে পারছি না। এজন্য সহায়ক বই দরকার।

সাভার লাইব্রেরির মালিক মো. আবুল হোসেন বলেন, ষষ্ঠ ও সপ্তমে নতুন বই থাকায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও গৃহশিক্ষক সবাই নোট গাইড বই চাচ্ছে। এসেই বলছে, একটা গাইড বই দেন। কিন্তু কোনো প্রকাশনী ষষ্ঠ ও সপ্তমের নোট গাইড বের করেনি।

কেন নোট গাইড লাগবে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার নাতনি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। তার বই ঘেঁটে দেখেছি, একটু পরিশ্রম করলে অনায়াসেই পাঠ্যবইয়ের পড়া শেষ করা যাবে। নতুন শিক্ষাক্রমে নোট গাইড বই লাগে না। তবু কেন যে তারা এসে নোট গাইড চাইছে- তা বুঝতে পারছি না।

রাজশাহীর ইউরেকা লাইব্রেরির মালিক কাজল সরকার সেখানকার বড় স্কুল গভ. ল্যাবরেটরি স্কুলের শিক্ষকরাও এসে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির নোট-গাইড চাইছেন উল্লেখ করে বলেন, তারা যদি এসে এই বই চান তাহলে বুঝুন মাঠ পর্যায়ে নতুন শিক্ষাক্রমে পড়াশুনার কী অবস্থা চলছে। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, নতুন শিক্ষাক্রমে নোট গাইড লাগবে না, তবু কেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা কেন চাইছেন-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি তা বলতে পারব না। হয়তো অভ্যাস থেকে নোট গাইড চাইছেন। কিন্তু কোনো প্রকাশনী এখনো নোট গাইড বের করেনি।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/০১/২৫/২৩