নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে মূল সেনানী শিক্ষকরা: শিক্ষামন্ত্রী

জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা ২০২১’ বিস্তরণে অনলাইন শিক্ষক প্রশিক্ষণ উদ্বোধন করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এই প্রশিক্ষণে চার হাজার শিক্ষক অংশ নেবেন। প্রশিক্ষণ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে মূল সেনানী শিক্ষকরা। আমরা পথচলার শুরুর দিকেই আছি। সবাই মিলে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে পারবো।

মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা ২০২১’ বিস্তরণে অনলাইন শিক্ষক প্রশিক্ষণ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকরা এতদিন যে আঙ্গিকে শিখন কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন, এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে পরিচালনা করতে হবে। শিক্ষায় এই যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এতে আমাদের শিক্ষকদের প্রস্তুত করার জন্য প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। এ জন্য আমরা মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রত্যেক শিক্ষককে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিয়েছি। দেশের সব শিক্ষককে একই সময়ে একই ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। শিক্ষকরা যাতে প্রশিক্ষণ হাতে-কলমে গ্রহণ করার আগে নিজেদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে পারে সে জন্য শিক্ষায় যে পরিবর্তন হচ্ছে তা বিশদভাবে জানানো হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাক্রমে যে পরিবর্তন আনা হচ্ছে, তাতে আমাদের প্রস্তুতিটাও ব্যাপক। আমরা বলে ফেলেছি নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন করবো। বলা তো সহজ, কিন্তু বাস্তবায়ন ভীষণ কঠিন। কারণ এর মধ্যে সবচেয়ে বড় যে বাধা হয়ে আসবে, তা হলো— আমাদের মনোভাব, দৃষ্টিভঙ্গি, অভ্যাস। শিক্ষার্থীর কত নম্বর পেলো, বছর শেষে শ্রেণিতে কোনও জায়গায় তার অবস্থান সেোর ওপর বেশি জোর দেই আমরা। যদিও শিক্ষার্থী কতটা শিখছে, কতটা ভালোমানুষ হচ্ছে, কতটা তার দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত হচ্ছে, কতটা মানবিক মানুষ হচ্ছে, তার সৃজনশীলতা কতটুকু বিকাশ হচ্ছে সেটা দেখবার মতো দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হচ্ছে কিনা সেটা খুব জরুরি।

দীপু মনি বলেন, জানুয়ারি মাসের ১ তারিখে ষষ্ট ও সপ্তম শ্রেণির যে বই হাতে পাবেন সেটিই একেবারে চূড়ান্তরূপ সেটি ভাববেন না। এটিই চূড়ান্ত নয়। এর ওপর আরও কাজ আছে। শিক্ষক প্রশিক্ষণেও আরও পরিবর্তন নিয়ে আসবো। এটি অনেক বড় কাজ। আমরা আর শিক্ষায় পরিবর্তনের কথা বলছি না। আমরা সংস্কারের কথা বলছি না। আমরা শিক্ষায় রূপান্তরের কথা বলছি।