নতুন শিক্ষাক্রম বাতিলের দাবিতে ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ  ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০২১’ বাতিলের দাবিতে ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক সমাবেশ করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নামের একটি বাম ছাত্র সংগঠন।

আজ সোমবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় রাজধানীর শাহবাগে ‘শিক্ষাক্রম-২০২১ বাতিল কর-শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন রক্ষা কর’ স্লোগানকে সামনে রেখে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদের সঞ্চালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় সভাপতি সালমান সিদ্দিকী। সমাবেশে  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ঢাকা নগরের ইনচার্জ সুস্মিতা রায় সুপ্তি, শিক্ষক শামীম জামানসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা বক্তব্য রাখেন।

অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার গোঁয়ারের মতো এই জঘন্য শিক্ষাক্রমটি নিয়ে এসেছে এবং বাস্তবায়ন করছে। যেটি বিভিন্ন উন্নত রাষ্ট্রের শিক্ষাক্রম থেকে ধার করা হয়েছে, অথচ ওই দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতার পার্থক্যের বিষয়টি মাথায় রাখা হয়নি।

সুস্মিতা রায় সুপ্তি বললেন, এ ধরনের একটি শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের জন্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতসহ অন্য অবকাঠামোগত আয়োজন যতটা দরকার ছিল, তার ব্যাপক ঘাটতি আমাদের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থায় রয়েছে। উন্নত দেশে এ রকম শিক্ষাক্রম চালু আছে যুক্তি করা হচ্ছে, কিন্তু উন্নত দেশ এবং আমাদের দেশের অবকাঠামোগত আয়োজনের ব্যাপক ফারাক রয়েছে।

সংহতি জানিয়ে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক শওকত হোসেন বলেন, সমন্বিত বিজ্ঞান বই পড়ানো হবে। এটি বিজ্ঞান ভিত্তিক চিন্তাকে সংকোচিত করবে। এই শিক্ষাক্রম নেয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের মতামত যথাযথভাবে নেয়া হয়নি। যতটুকু নেয়া হয়েছে, তা গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি শিক্ষাক্রম নিয়ে শিক্ষকরা নির্ভয়ে মন্তব্য পর্যন্ত করতে পারছেন না।

তিনি বলেন, কয়েকবছর পর দেশে ত্রিভুজ পাওয়া দক্ষ লোকের বন্যা বয়ে যাবে, যারা মূলত কার্যকরী মানুষ হবে না, মানবিক মানুষ হবে না। কেননা, শিক্ষাক্রমে যেভাবে পড়ানোর কথা বলা হয়েছে তা শিক্ষকরাই ভালোভাবে আয়ত্ত করতে পারছে না, শিক্ষার্থীদের পক্ষে তা বুঝা তো আরো কঠিন।

আমিরুল ইসলাম নামের একজন অভিভাবক বলেন, এসাইনমেন্ট, প্রজেক্টভিত্তিক শিখনকালীন মূল্যায়ন পদ্ধতির ফলে এই শিক্ষাক্রম শিক্ষার ব্যয় আরো বাড়িয়ে তুলছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে গ্রাম এবং শহরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য আরো বাড়বে। মধ্যবিত্ত-নিন্মবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা শিক্ষার প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো কিনতে হিমশিম খাবে।

বক্তারা বলেন, কমিউনিকেটিভ ইংরেজি চালু করা কিংবা সৃজনশীল প্রশ্নপত্র চালু করার সময় যে সকল আশাবাদের কথা বলা হয়েছিল, নতুন প্রণীত শিক্ষাক্রমের ক্ষেত্রেও তাই বলা হয়েছে। আমরা দেখলাম, পূর্ববর্তী শিক্ষাক্রমগুলো বাস্তবায়নের সুফল আমরা পাইনি। কেন পাইনি তা মূল্যায়ন না করেই নতুন একটি শিক্ষাক্রম নেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের গিনিপিগ বানিয়ে বারবার তাদের উপর যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হচ্ছে তার ফল ভোগ করছে একেকটি প্রজন্ম। অন্য ক্ষেত্রে ভুল সিদ্ধান্তের চেয়েও শিক্ষাক্ষেত্রে ভুল সিদ্ধান্তের জন্য মূল্য দিতে হয় অনেক বেশি। এর নেতিবাচক ফলাফল হয় সুদূরপ্রসারী।

তারা বলেন, এই শিক্ষাক্রম চালু করলে একটা মারাত্মক বিপর্যয় ঘটবে। উপরন্তু এই ব্যবস্থা কিছু সংখ্যক অসাধু শিক্ষকের হাতে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে দিতে পারে। এমনিতেও এই ধরনের ঘটনা গোটা বাংলাদেশে বেশি ঘটছে। কমিউনিকেটিভ ইংরেজি ও সৃজনশীল প্রশ্নপত্র এসে কোচিং ব্যবসা ও গাইড বই বন্ধ করতে পারেনি। বরং আরো বিস্তার ঘটিয়েছে। এই শিক্ষাক্রমের ক্ষেত্রে দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ আরো বিস্তৃত করা হলো। এই শিক্ষাক্রমের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী-শিক্ষক-অভিভাবক ও সমাজের সকল সচেতন মানুষ মিলে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/১৬/১০/২০২৩    

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়