নতুন শিক্ষাক্রমেও পরীক্ষা নির্ভরতা হবে সব বিষয়েই

নিউজ ডেস্ক।।

নতুন শিক্ষাক্রমে মাধ্যমিক পর্যায়ে ১০টি বিষয় পড়বে শিক্ষার্থীরা এবং পরীক্ষাও দিতে হবে ১০ বিষয়ে। তবে আগে সিদ্ধান্ত ছিল পাঁচ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা কি শিখল তার জন্য পরীক্ষায় বসবে। বাকি পাঁচ বিষয়ে শিখনকালীন জ্ঞান অর্জনে হবে শুধুমাত্র ধারাবাহিক শিক্ষার্থী মূল্যায়ন। এখন এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এর ফলে পাবলিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের ১০ বিষয়েই পরীক্ষা দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নও করা হবে পরীক্ষার মাধ্যমে। বর্তমানে বছরে শিক্ষার্থীদের প্রতি শ্রেণিতে তিনবার পরীক্ষায় বসতে হতো। কিন্তু নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বছরে দুবার পরীক্ষায় বসবে শিক্ষার্থীরা। নতুন এ শিক্ষাক্রম শুরু হবে ২০২৩ সালে।
নতুন শিক্ষাক্রমে ধর্ম বিষয় নিয়ে নানা গুজব প্রচার হচ্ছে। কিন্তু এ শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীদের ধর্ম বিষয়ে যথাযথভাবেই পড়ানো হবে। নতুন সিদ্ধান্তের কারণে শিক্ষার্থীদের ধর্ম বিষয়েও পরীক্ষা দিতে হবে। এনসিটিবি সূত্র বলছে, দশম শ্রেণির ১০টি বিষয়ের মধ্যে ৫টি বিষয়ে (বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞান) সামষ্টিক ও শিখনকালীন মূল্যায়ন ও পরীক্ষার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী মূল্যায়ন করার কথা ছিল। এই সিদ্ধান্তের ফলে ৫টি অবশিষ্ট বিষয়ে জীবন ও জীবিকা, ডিজিটাল প্রযুক্তি, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, ধর্ম শিক্ষা এবং শিল্প ও সংস্কৃতিতেও পরীক্ষার আয়োজন করা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নানা দাবি, শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের আবদার মেটাতেই পুনরায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে মাধ্যমিক পর্যায়ে নতুন শিক্ষাক্রমের পাইলটিং শুরু হয়েছে। প্রাথমিকের দ্রুত পাইলটিং শুরু হবে। আগামী বছর থেকে প্রথম, দ্বিতীয়, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে চালু হবে নতুন শিক্ষাক্রম। ২০২৪ সালে তৃতীয়, চতুর্থ, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে। ২০২৫ সালে পঞ্চম ও দশম শ্রেণিতে চালু হবে নতুন শিক্ষাক্রম। এরপর উচ্চমাধ্যমিকের একাদশ শ্রেণিতে ২০২৬ সালে এবং দ্বাদশ শ্রেণিতে ২০২৭ সালে শিক্ষাক্রম চালু হবে। নতুন শিক্ষাক্রমে প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সারা বছর নানা ভাবে শিক্ষার্থীদের শেখার কথা ছিল। এতে পরীক্ষার চেয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিক মূল্যায়ন (শিখনকালীন) বেশি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নতুন সিদ্ধান্তের ফলে পরীক্ষা নির্ভরতা বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উন্নত দেশের মতো পরীক্ষা ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে নতুন শিক্ষাক্রমে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আবারো পরীক্ষা ব্যবস্থা চালু হচ্ছে এ শিক্ষাক্রমে। এ প্রসঙ্গে এনসিটিবি কর্মকর্তারা জানান, সম্প্রতি স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে কর্মশালা করে এনসিটিবি। এতে বিভিন্ন শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, পরিদর্শক, কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, মাউশির কিছু কর্মকর্তা অংশ নেন। এখানে পুস্তক লেখকরাও উপস্থিত ছিলেন। সবার পক্ষ থেকে একই দাবি তোলা হয়। কারণ শিক্ষক পর্যায়ে এ বিষয়ে এক ধরনের সংশয় কাজ করছিল। যে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা হবে সেই বিষয়ের শিক্ষকদের ও যে বিষয়ে পরীক্ষা হবে না তাদেরকে ভিন্ন চোখে দেখা হবে। অনেক শিক্ষকের ধারণা এর ফলে তাদের চাকরি হুমকির মধ্যে পড়বে। সেই কারণে সর্বজনীনভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে এনসিটিবি চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ফরহাদুল ইসলাম বুধবার জনকণ্ঠকে বলেন, মাধ্যমিক পর্যায়ে পাবলিক পরীক্ষা কমানোর জন্য ৫ বিষয়ে পরীক্ষা ও বাকি ৫ বিষয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে সিদ্ধান্ত বদলে সকল বিষয়েই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি জানান, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির নির্দেশেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে নতুন শিক্ষাক্রমের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি প্রাথমিক স্তরে। এনসিটিবি সদস্য (প্রাথমিক) ড. রিয়াজুল হাসান জনকণ্ঠকে বলেন, ২০২৩ সাল থেকে চালু হচ্ছে নতুন শিক্ষাক্রম। প্রাথমিক স্তরে এখন পর্যন্ত গ্রেড-১ অর্থাৎ প্রথম-তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ধারাবাহিক মূল্যায়ন করা হবে। গ্রেড-২ অর্থাৎ চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির জন্য এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। যদি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তা পরবর্তীতে জানানো হবে।