নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে

অনলাইন ডেস্ক।।

বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারিতেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সালের ২৭ নম্বর আইন)-এর ৫ ধারা অনুসারে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য তপসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে এই নির্বাচনের তপসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। ইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কে হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি, তা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন তপসিল ঘোষণার পর চূড়ান্ত করতে হবে রাষ্ট্রপতির নাম। বর্তমান জাতীয় সংসদের ৩৫০ জন সদস্যের বেশির ভাগই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের। ফলে ক্ষমতাসীন দলটি যাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবে, তিনিই হবেন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি। দ্বিতীয় মেয়াদে ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন আবদুল হামিদ। সংবিধান অনুযায়ী আবদুল হামিদের আবারও রাষ্ট্রপতি হওয়ার সুযোগ নেই। সংবিধানের ৫০(২) অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘একাধিক্রমে হোক না হোক, দুই মেয়াদের অধিক রাষ্ট্রপতির পদে কোনো ব্যক্তি অধিষ্ঠিত থাকিবেন না।’

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে সংবিধানের ১২৩ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ অবসানের কারণে উক্ত পদ শূন্য হইলে মেয়াদ সমাপ্তির তারিখের পূর্ববর্তী নব্বই হইতে ষাট দিনের মধ্যে শূন্য পদ পূরণের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।’ রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষের দুই মাস আগেই নির্বাচন সম্পন্ন করবে ইসি। এর আগে ২০১৮ সালের ২৩ এপ্রিল বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের প্রথম মেয়াদ শেষ হয়। সেই মোতাবেক নির্বাচন কমিশন ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপসিল ঘোষণা করেছিল। ঐ বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যদিও বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। রাষ্ট্রপতি পদের জন্য একাধিক প্রার্থী থাকলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনকক্ষে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিধান রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন পরিচালনায় অভিজ্ঞ ইসির যুগ্ম-সচিব ফরহাদ আহম্মাদ খান ইত্তেফাককে বলেন, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষের দুই মাস আগেই সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনও সেই মোতাবেক প্রস্তুতি গ্রহণ করবে।

বঙ্গভবন। ছবি- সংগৃহীত

যেভাবে হবে নির্বাচন :প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এই নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন। সংসদ সদস্যরাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নির্বাচনি কর্মকর্তার সামনে নির্ধারিত ব্যালট পেপারে পছন্দের প্রার্থীর নাম ও নিজের স্বাক্ষর দিয়ে তা জমা দিতে হবে। এর মুড়ি অংশে স্বাক্ষর দিয়ে ভোটারদের ব্যালট পেপার সংগ্রহ করতে হবে। ভোট দেওয়ার পর সংসদকক্ষে স্থাপিত এক বা একাধিক ব্যাটল বাক্সে তা জমা দিতে হবে। প্রত্যেক সংসদ সদস্যের একটি মাত্র ভোট থাকবে। সংসদ সদস্য হিসেবে স্পিকারও এই নির্বাচনে ভোটার। ভোটের দিন গ্যালারিসহ সংসদকক্ষে প্রার্থী, ভোটার, ভোট নেওয়ায় সহায়তাকারী কর্মকর্তা ছাড়া সবার প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করবেন নির্বাচনি কর্মকর্তা। ভোট শেষে নির্বাচন কমিশনার প্রকাশ্যে ভোট গণনা করবেন। সর্বাধিকসংখ্যক ভোটপ্রাপ্তকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করা হবে। আর সমান ভোট পেলে প্রার্থীদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণ করা হবে।

যদিও ১৯৯১ সালে পরোক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান চালু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত সাত বার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র একবার রাষ্ট্রপতি পদে একাধিক প্রার্থী থাকায় সংসদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি আব্দুর রহমান বিশ্বাসকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেয়। আর ঐ সময় বিরোধী দল ও বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ প্রার্থী করেছিল বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে। ঐ নির্বাচনে আব্দুর রহমান বিশ্বাস বিজয়ী হন। এছাড়া প্রতিবার একক প্রার্থী হিসেবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর কমিশন গেজেটে নোটিফিকেশনের মাধ্যমে একক প্রার্থীকে নির্বাচিত ঘোষণা করে।