নতুন মোড়কে নামছে ডেসটিনি

প্রকাশিত: ১১:১১ পূর্বাহ্ণ, শুক্র, ৮ অক্টোবর ২১

নিউজ ডেস্ক।।

নতুন মোড়কে মাঠে নামছে ‘ডেসটিনি-২০০০’। সংগঠিত করা হচ্ছে সারা দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অন্তত ১০ লাখ কর্মীকে। গ্রাহকের অর্থ ফেরত দেয়ার নাম নেই। কিন্তু নতুন করে টার্গেট করা হয়েছে আরও অন্তত ১ হাজার টাকা কোটি হাতিয়ে নেয়ার। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যমান সম্পত্তি নামমাত্র মূল্যে হাতিয়ে নেয়ার। এক সুদূরপ্রসারী ‘মাস্টারপ্ল্যান’ হাতে নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে ডেসটিনির বর্তমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থাসূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

সূত্রমতে, এই মাস্টারপ্ল্যানের মধ্যে ডেসটিনির মাস্টারমাইন্ড মো. রফিকুল আমীনকে কারামুক্ত করে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া, ৪৫ লাখ গ্রাহকের মধ্য থেকে অন্তত: ১০ লাখ গ্রাহকের কাছ থেকে আরও অন্তত : ১ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া এবং নিলামে ‘বিক্রয়’ দেখিয়ে নামমাত্র মূল্যে ডেসটিনির হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি গ্রাসের মতো পরিকল্পনা রয়েছে।

সূত্রটি জানায়, বহুস্তর বিপণন ব্যবসার নামে গ্রাহকের কাছ থেকে ৪ হাজার ১১৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় ডেসটিনি-২০০০। এর মধ্যে ডেসটিনি ট্রি-প্লান্টেশনের আওতায় বৃক্ষরোপণের নামে ২ হাজার ২৫৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা এবং ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের (ডিএমসিএসএল) অধীনে এমএলএম ব্যবসার নামে ১ হাজার ৮৬১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। ২০০০ সালে বিতর্কিত বহুস্তর বিপণন পদ্ধতিতে (এমএলএম) কার্যক্রম শুরু করে ডেসটিনি। যাত্রা শুরুর পর প্রথম এক দশকের মধ্যে বিমান পরিবহন, আবাসন, কোল্ডস্টোরেজ, জুট মিল, মিডিয়া, বনায়নসহ বিভিন্ন খাতে ৩৪টি কোম্পানি খোলে প্রতিষ্ঠানটি।

মাল্টিলেভেল মার্কেটিংয়ের নামে ২০ লাখের বেশি মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে তা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। ২০১২ সালের ৩১ জুলাই ডেসটিনির এমডি রফিকুল আমীন এবং ডেসটিনির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন, অবসরপ্রাপ্ত সেনাপ্রধান লে. জে. হারুন-অর-রশিদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাদের বিরুদ্ধে ৪ হাজার ১১৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং ৯৬ কোটি টাকা দেশের বাইরে পাচারের অভিযোগ আনা হয়। সর্বশেষ গতবছর মো. রফিকুল আমীনসহ তিন কর্মকর্তাকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ৩ বছর কারাদন্ড দেন আদালত।

এছাড়া অর্থ আত্মসাতের মামলার তদন্ত শেষে ২০১৪ সালের ১৬ জানুয়ারি চার্জশিট দেয় দুদক। চার্জশিটে প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ও সাবেক সেনা প্রধান লে: জে: হারুন-অর-রশিদ, মো. রফিকুল আমীনসহ ৫৩ জনকে আসামি করা হয়। তবে মামলা রুজুর পর হারুন-অর-রশিদ ডেসটিনির কর্মকান্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবেন না- এই শর্তে জামিন নেন। রফিকুল আমীনও কয়েক দফা জামিনে কারামুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এ প্রেক্ষাপটে ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব নেন সাবেক এক এমপি। লে: জে: হারুন অর রশিদ এবং সাবেক এই এমপি’র নেতৃত্বে ডেসটিনি নতুনরূপে আবির্ভুত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সূত্র মতে, নতুনরূপে আবির্ভুত হতে যাচ্ছে গ্রাহকের পাওনা টাকা ফেরত না দিয়েই। সারা দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ডেসটিনির শত শত কোটি টাকার সম্পত্তি হাতিয়ে নিতেই এ উদ্যোগ। মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে সাবেক এমপি এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট কাজ করছে যাচ্ছেন ভিন্ন দুই পথে। প্রকাশ্য এবং গোপন পথে চেষ্টার অংশ হিসেবে ডেসটিনির প্রধান নির্বাহী নিজেই দু’টি প্রতিষ্ঠান দাঁড় করিয়েছেন। ‘ডেসটিনি-২০০০’ কে সংক্ষেপ করে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘ডি কে টু’ এসোসিয়েটস লি:। এখানে ‘ডেসটিনি’ থেকে ‘ডি’ এবং ‘২০০০’ কে সংক্ষেপ করে ‘ টু কে’ নেয়া হয়েছে। এছাড়া ‘ডেসটিনেশন এক্সপ্রেস বিডি লি:’ এবং ‘বাজার করেন ডটকম’ নামে পৃথক দু’টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে তার।

রাজধানীর বিজয়নগরের মাহতাব সেন্টার থেকে পরিচালিত হচ্ছে এগুলোর কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভিড় জমাচ্ছে ‘ডেসটিনি-২০০০’ এর প্রশিক্ষিত কর্মীরা। এখান থেকে ব্যবহৃত : ইলেকট্রনিক পণ্য, মুদি, মোবাইল সেট এবং হারবাল পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। অবলম্বন করা হচ্ছে বিতর্কিত ‘ই-কমার্স’ পদ্ধতি। আড়ালে চলছে ডেসটিনির লাখ লাখ কর্মীকে সংগঠিত করার প্রয়াস। কৌশলে ডেসটিনি গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেয়া হবে- বাইরে এমন একটি গুঞ্জনও ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।

বাস্তবতা হচ্ছে, গ্রাহকের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া অর্থ ফেরত প্রদান কার্যত অসম্ভব প্রায়। ডেসটিনির ১০ লাখ কর্মীকে সংগঠিত করে তাদের মাধ্যমে আরও অন্তত: ১ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার টার্গেট নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করছে বলে জানায় সূত্র। একই সঙ্গে ডেসটিনির প্রকাশ্য কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন চেয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্প্রতি একটি চিঠি পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। এরই মধ্যে ‘ই-কমার্স’র নামে প্রতারক প্রতিষ্ঠানগুলোর শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার বিষয়টি সামনে আসে। ফলে ডেসটিনির বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হচ্ছে।

এদিকে লে. জে. (অব.) হারুন-অর-রশিদ ডেসটিনির কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবেন না-শর্তে জামিন নিয়েছিলেন। কিন্তু ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভকে ‘সচল’ করতে অনেকদূর এগিয়ে গেছেন তিনি। করোনায় বিশ্ব-বাণিজ্য এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থমকে দাঁড়ায়। তবে এ পরিস্থিতি সাপে-বর হয়ে দেখা দেয় হারুন-অর-রশিদের ক্ষেত্রে। করোনা এবং লকডাউনে সমবায় অধিদফতর থেকে নিবন্ধিত কোনো বহুমুখী সমবায় সমিতির সদস্য নবায়ন কিংবা নির্বাচন হয়নি।

একমাত্র ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সমবায় সমিতি লি: (ডিএমসিএসএল)র নির্বাচনের জন্য তৎপর হয়ে ওঠে সমবায় অধিদফতর কর্মকর্তাদের একটি সিন্ডিকেট। ডেসটিনি কো-অপারেটিভ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মামলা বিচারাধীন। এসময় সমবায় অধিদফতরের যুগ্ম-নিবন্ধক (ঢাকা বিভাগ) মো. রিয়াজুল কবির ছিলেন ডেসটিনি কো-অপারেটিভের আহবায়ক। তিনি ‘নির্বাচিত কমিটি’র কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরে মরিয়া হয়ে ওঠেন।

দেশের করোনা সংক্রমণ যখন তুঙ্গে, দেশব্যাপী যখন সর্বাত্মক লকডাউন- তখন তিনি ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার উদ্যোগ নেন। চলতিবছর কঠোর লকডাউনের মধ্যে (১১ এপ্রিল) তিনি ‘ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লি:’ এডহক কমিটির একটি ‘সভা’ দেখান।

ওই সভায় ডেসটিনি কো-অপারেটিভের সাড়ে ৮ লাখ সদস্যের উদ্দেশ্যে বিজ্ঞাপন আকারে একটি নোটিশ প্রকাশের ‘সিদ্ধান্ত’ হয়। তাতে বলা হয়, সোসাইটির সাধারণ সদস্যদের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে বর্তমানে সক্রিয় সদস্যদের সমন্বয়ে একটি হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে প্রত্যেক সদস্যকে ৫শ’ টাকা সঞ্চয় আমানত ২৭ এপ্রিল/২০২১-এর মধ্যে সমবায় ভবন ২য় তলা, কক্ষ নং-২১২, ঢাকা বিভাগীয় অফিস, সমবায় ভবন, আগারগাঁওয়ে এসে জমা দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ওই সময় এডহক কমিটির সদস্য মহসিন মজুমদার জানান, এডহক কমিটির সভায় সিদ্ধান্তক্রমে নোটিশ জারির ১৫ দিনের মধ্যে যারা ৫শ’ টাকা জমা দিতে পারবেন- তাদের সদস্যপদ হালনাগাদ করা হবে। পরবর্তীতে তাদের আর সময় বাড়ানো হবে না। যারা লকডাউনের কারণে সঞ্চয়ী আমানত জমা দিতে পারবেন না- তাদের বিষয়ে পর্ষদ কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। এর কিছুদিন পরই এডহক কমিটি দায়িত্ব হস্তান্তর করে ‘নির্বাচিত’ কমিটির কাছে।

কিন্তু লকডাউনের মধ্যে কিভাবে সদস্যরা সঞ্চয় আমানত জমা করলেন, কীভাবে তারা ভোটার হলেন, সাড়ে ৮ লাখ ভোটার কোথায় একত্রিত হলেন, কীভাবে তারা ভোট দিলেন- কিছুই জানা যায়নি। তবে এহেন নির্বাচিত ব্যক্তিদের তালিকায় নাম দেখেই পরিষ্কার হয়ে যায় ঘটনা কি ঘটেছে। সমবায় অধিদফতরের ‘তিতাস’ হলরুমে সমিতির ‘দায়িত্ব হস্তান্তর’ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এডহক কমিটির আহবায়ক যুগ্ম-নিবন্ধক মো. রিয়াজুল কবির।

‘নির্বাচিত কমিটি’র সভাপতি হিসেবে দায়িত্বভার বুঝে নেন লে. জে. (অব:) এম. হারুন-অর-রশিদ। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব বুঝে নেন ডেসটিনির শেয়াল হোল্ডার মো. আজম আলী। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- সহ-সভাপতি মো. জাকির হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক মো. আমিনুল হক এবং কোষাধ্যক্ষ এটিএম খুরশিদ আলম। কার্যকরী সদস্যরা হলেন- মো. আবদুর রহিম, মো. আবুল হাছান, মেছবাহ উদ্দিন, খুরশিদা বানু, মো. সাইফুল আলম রতন, মো. জহিরুল করিম এবং মো. বোরহান উদ্দিন সিকদার।

সমবায় অধিদফতরের অন্যান্য কর্মকর্তার প্রবল আপত্তির মুখে ‘নির্বাচিত কমিটি’কে বৈধতা দেন ঢাকা বিভাগের যুগ্ম-নিবন্ধক রিয়াজুল কবির। লকডাউনে কোথায় কীভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো- জানতে চাইলে রিয়াজুল কবির এই প্রতিবেদককে বলেন, নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু এতে কোনো প্রতিন্দ্বন্দ্বিতা হয়নি। যাদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে তারাই ছিলেন এসব পদের একমাত্র প্রার্থী। লকডাউনের কারণে ২ হাজার সদস্য তাদের সদস্যপদ নবায়ন করতে পেরেছেন। কোনো প্রতিদ্ব›দ্বী না থাকায় তাদেরও ভোট দেয়ার প্রয়োজন হয়নি। তাই ‘নির্বাচিত কমিটিকে’ সমবায় অধিদফতর অনুমোদন দেয়। এখানে আইন বা বিধির কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।

এদিকে সমবায় অধিদফতরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লি:-কে লে. জে. হারুন অর রশিদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। এ কমিটিকে বৈধতা দিতেই নির্বাচনের সময় হিসেবে লকডাউনকে বেছে নেয়া হয়। পাতানো এই নির্বাচনের জন্য অন্তত ২০ কোটি টাকার লেনদেন হয়। উপ-সহকারী নিবন্ধক জহির, যুগ্ম-নিবন্ধক রিয়াজুল কবীরসহ তিন কর্মকর্তার মাঝে এ অর্থ ভাগভাটোয়ারা হয়।

কর্মকর্তারা আরও জানান, সমবায় অধিদফতরের অনুমোদনের ‘ছাড়পত্র’ নিয়েই হারুন-অর-রশিদের নেতৃত্বাধীন ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি পুনঃউদ্যোমে মাঠে নেমেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ডেসটিনির কারাবন্দি ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রফিকুল আমীনের সঙ্গে সমিতি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে গভীর রাতে জুম বৈঠক হয়। কারা কর্তৃপক্ষের তদন্তে উঠে আসে কারাদন্ডপ্রাপ্ত রফিকুল আমীন সমিতির নবনির্বাচিত কমিটির সঙ্গে গত জুলাই যে গভীর রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেলে থেকে ৪-৫ দিন জুম মিটিং করেন। এসব মিটিং আধ ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হয়।

এসব বৈঠকের প্রতিপাদ্য ছিল বিদ্যমান অবস্থায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ ডেসটিনিকর্মীদের যেকোনো প্রকারে সক্রিয় করে তোলা। অন্য প্রতিষ্ঠানের আড়ালে ডেসটিনিকে পুনঃসংগঠিত করা। মো. রফিকুল আমীন জুম মিটিংয়ে পাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লি:’র সিনিয়র কর্মকর্তাদের এই মর্মে আশ্বস্ত করেন যে, সরকারের একটি চ্যানেলের সঙ্গে ডেসটিনি পরিবারের একটি সমঝোতা হয়েছে। সরকারের ভেতরে একটি ফোর্স তাদের হয়ে কাজ করছে বলে জানান তিনি। পক্ষীয় গ্রুপটি সরকারকে এটি বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন যে, ডেসটিনি একটি ভালো কনসেপ্ট।

এই কনসেপ্টের ভিত্তিতেই নতুন আরেকটি এমএলএম ব্যবসা চালুর কথা বলেন রফিকুল আমীন। সেখানে ব্যবসা শুরু করতে ১৩শ’ মার্কেটিং এজেন্ট নিয়োগ দেয়ার কথা বলেন ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক। গ্রেফতারের পর ৮ বছর ধরে তিনি কারাগারে রয়েছেন। কিন্তু জুম মিটিংয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, অচিরেই (মো. রফিকুল আমীন) কারামুক্ত হবেন। দেশের ভেতর সম্ভব না হলে প্রয়োজনে তিনি কারামুক্ত হয়ে বিদেশ থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এসব জুম বৈঠকে রফিকুল আমীনের প্রত্যয়দীপ্ত বক্তব্যে ডেসটিনিকর্মীরা যারপর নাই উদ্দীপ্ত।

এদিকে জুম মিটিংয়ের পরপরই তার অনুসারী এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আড়ালে ডেসটিনিকে পুনঃসংগঠিত করছেন এমন বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর মধ্যে গত ৪ অক্টোবর গ্রেফতার করা হয় ‘এসপিসি ওয়াল্ডর্’ নামক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী মো. আল-আমীনকে। তিনি ডেসটিনি-২০০০-এর প্রশিক্ষক ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডি’র বিশেষ পুলিশ সুপার মো. হুমায়ুন কবির জানান, গত বছরের নভেম্বরে ২ শত ৬৮ কোটি টাকা হাতিযে নেয় আল-আমীনের ‘এসপিসি ওয়ার্ল্ড’। তিনি ডেসটিনির উচ্চ পর্যায়ের টিম লিডার ও ট্রেইনার ছিলেন। এছাড়া মাত্র ৩ মাসে ২শ’ ১৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে ‘রি-আইডি’র পরিচালক মো. সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনিও এক সময় ডেসটিনি করতেন বলে জানা গেছে।

সাইফুলের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও মাল্টিলেভেল মার্কেটিং নিয়ন্ত্রণ আইনে ২টি মামলা করা হয়। তবে মো. রফিকুল আমীনের উদ্দীপনামূলক বক্তব্য এবং হারুন-অর-রশিদের কৌশুলি বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে ডেসটিনির প্রশিক্ষিতকর্মীরা এতোটাই উদ্দীপ্ত যে, তারা মনে করছেন এমএলএম কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে যতই ধর-পাকড় চলুক- এসব ডেসটিনির পুনঃউত্থান ঠেকাতে পারবে না।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.