নতুন করে ২১০ প্রাথমিক বিদ্যালয় চালু হচ্ছে

প্রকাশিত: ৫:২৩ অপরাহ্ণ, বৃহঃ, ১১ ফেব্রুয়ারি ২১

নিউজ ডেস্ক।।

ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর জন্য প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) এর আওতায় ২১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় চালু করা হচ্ছে। এই বিদ্যালয়ের পরিধি হবে ৪২ মাস। বিদ্যালয়গুলো লক্ষ্মীপুর জেলার ৩ উপজেলায় স্থাপিত হবে। প্রথমে জেলার রায়পুরে ৭০টি বিদ্যালয় চালু করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে লক্ষ্মীপুর সদর ও রামগঞ্জেও এ বিদ্যালয় চালু করা হবে।

শিক্ষার্থীদেরকে শিক্ষা উপকরণ হিসেবে বই, খাতা, কলম, ড্রেস, ব্যাগ ও উপবৃত্তি প্রদান করা হবে। এতে দরিদ্র, সামাজিক ও অর্থনৈতি দূরাবস্থা ও ভৌগলিক প্রতিবন্ধকতার কারণে ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থীরা এ শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় আসবে।

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) এর আওতায় এই বিদ্যালয় চালু করা হচ্ছে। রায়পুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে জরিপের মাধ্যমে এসব শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারী) সকালে রায়পুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলায় ঝরে পড়া স্কুল শিশুদের (আউট অব স্কুল চিলড্রেন) শিক্ষা বাস্তবায়ন কর্মসূচি বিষয়ক অবহিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়।

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং বেসরকারি এনজিও ডরপের সহযোগীতায় রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, সহকারী কমিশনার আক্তার জাহান সাথী, জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো সহকারী পরিচালক বিদ্যুৎ রায় বর্মন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার একে এম মোস্তাফ আহমেদ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার একে এম সাইফুল হক, ডরপের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার আবদুল মালেক প্রমুখ।

জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী পরিচালক বিদ্যুৎ রায় বর্মন বলেন, চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) এর আওতায় জেলার সদর, রায়পুর এবং রামগঞ্জ উপজেলার ঝরে পড়া ৮-১৪ বছরের শিশুর জন্য প্রতি উপজেলায় ৭০ টি করে ৪২ মাস এই শিক্ষা কার্যক্রম চলবে।

শিক্ষার্থীদেরকে শিক্ষা উপকরণ হিসেবে বই, খাতা, কলম, ড্রেস, ব্যাগ ও উপবৃত্তি প্রদান করা হবে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষকের মাধ্যমে ৩ ঘন্টা পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম চলবে। তিনি আরো বলেন, অভিভাবকদের দারিদ্রতা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক দুরাবস্থা, শিশুশ্রম ও ভৌগলিক প্রতিবন্ধকতাসহ বিভিন্ন কারণে অনেক শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে না। আবার অনেকে বিভিন্ন কারণে স্কুল থেকে ঝরে পড়ে।

এ কার্যক্রমের মাধ্যমে ঝড়ে পড়া শিশুদের উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রাথমিক শিক্ষা দিয়ে তাদেরকে শিক্ষার মূল ধারায় সম্পৃক্ত করতে সহায়তা করবে। এতে সরকারের রূপকল্প-২০২১ ও জাতিসংঘের ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিন চৌধুরী বলেন, ‘ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য কেন্দ্র ও শিক্ষক নির্বাচন এবং শিক্ষা উপকরণ বিতরণে শতভাগ সততা নিশ্চিত করতে হবে। এর বিন্দুমাত্র ব্যত্যয় ঘটলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষক নিয়োগে শতভাগ স্বচ্ছতা থাকতে হবে। তাহলে শিক্ষার মান উন্নত হবে। আমি শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে সকলের সহযোগীতা চাই।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.