দুর্গাপূজায় সাত দিন ছুটির দাবি শিক্ষক পরিষদের

বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাতদিনের ছুটি দাবি করেছেন বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষা গবেষণা পরিষদ। ২৭ আগস্ট মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিবৃতিতে এ দাবি জানান পরিষদের সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক সুব্রত রায়।

বিবৃতিতে শিক্ষক নেতারা বলেন, জানুয়ারি মাসে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকা প্রকাশ হলে গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর কাছে তালিকার অসঙ্গতিগুলো দূর করার আবেদন করা হয়। এ সময় পরিষদের পক্ষ থেকে ১৫ দিন গ্রীষ্মের ছুটি, সাতদিন দুর্গাপূজার ছুটি ও জাতীয় দিবসগুলোকে কর্মদিন ঘোষণা করার সুপারিশ করা হয়েছিল। একই সাথে স্কুলে সংরক্ষিত ছুটির অনুমোদনের ক্ষমতা প্রধান শিক্ষকে দেয়ার দাবিও জানানো হয়েছিল। এদিকে কতিপয় শিক্ষক নেতারা মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নে নানা চ্যালেঞ্জের প্রতিবাদ না করে প্রভুভক্ত প্রাণীর মতো আচরণ করছেন। তাই মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে সকলকে আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান পরিষদের নেতারা।

বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষা গবেষণা পরিষদের নেতৃবৃন্দ বলেন, দুর্গাপূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচাইতে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এর আগে প্রতি বছর প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দুর্গাপূজার ছুটি ৭ থেকে ১০ দিন নির্ধারিত ছিল। কিন্তু এ বছর ব্যতিক্রম। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ষষ্ঠীপূজা থেকে দশমী পর্যন্ত দুর্গাপুজার আনন্দ উপভোগ করেন। কিন্তু এ বছর নবমী পূজার দিন থেকে দশমীর পরের দিন পর্যন্ত মোট ৩দিন ছুটি দেয়া হয়। তাতে মূলপূজার সময়টাই স্কুল খোলা। এ নিয়ে একটি সম্প্রদায়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, আমাদের প্রত্যাশা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাবি মেনে নিবেন। দুর্গাপূজা একটি সার্বজনীন অনুষ্ঠান। সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ ৫ দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন। হিন্দুরা ধর্মীয় দিক থেকে এদেশের দ্বিতীয় সংখ্যগরিষ্ঠ জাতি। তাই দুর্গাপূজার ছুটি ৩ দিনের পরিবর্তে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কমপক্ষে ৭ দিন ছুটি পুনঃনির্ধারণের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছি।